• Hillbd newsletter page
  • Hillbd rss page
  • Hillbd twitter page
  • Hillbd facebook page
সর্বশেষ
রাঙামাটিতে শেখ রাসেল স্মৃতি নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত                    উষাতন তালুকদার এমপির রাঙামাটি শহরের বিভিন্ন পূজামন্ডপ পরিদর্শন                    রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের রাঙামাটি শহরের বিভিন্ন পুজামন্ডপ পরিদর্শন                    নানিয়ারচরে দুর্বৃত্তদের গুলিতে গণতান্ত্রিক ইউপিডিএফের এক কর্মী নিহত                    জুরাছড়িতে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচের আয়োজন                    মহালছড়িতে পূজামন্ডপ পরিদর্শন ও স্বাস্থ্যসেবা ক্যাম্প উদ্বোধন                    বরকলে ১৩টি গ্রামে নতুন বিদ্যুৎ লাইন সংযোগের জন্য দাবী                    রাঙামাটিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড প্রথম বিভাগ ফুটবল লীগের উদ্বোধন                    রাঙামাটিতে বিভিন্ন পূজামন্ডপে পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের পরিদর্শন                    সরকার সাফল্য নিয়ে চিত্র প্রদর্শন ও আলোচনা সভা রাজস্থলীতে                    আলীকদমে গরু ব্যবসায়ীর নিহতের ঘটনায় গ্রেপ্তার ৬                    মহিলাদের আত্মনির্ভরশীল হিসেবে গড়ে তুলতে চন্দ্রঘোনা ইউপি চেয়ারম্যানের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ                    রাঙামাটিতে জেএসএসের চিকিৎসা বিভাগের ২ সদস্যকে চাদা রশিদসহ আটক                    বাঘাইছড়িতে সৌখিন ফুটবল ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত                    বরকলে আনসার ভিডিপি’র সমাবেশ ও মতবিনিময় সভা                    মহালছড়িতে বিশ্ব খাদ্য দিবস উদযাপন                    জুরাছড়িতে শিক্ষার মান উন্নয়নে মতবিনিময় সভা                    দেশ থেকে অশুভ শক্তি বিনাশে সকল সম্প্রদায়ের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান-বৃষ কেতু চাকমা                    বুধবার থেকে রাঙামাটিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড প্রথম বিভাগ ফুটবল লীগ শুরু                    রাঙামাটিতে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালিত                    বরকল ও জুরাইছড়িতে ৫ দিন ধরে বিদ্যুৎ নেই, চরম দুর্ভোগ                    
 

রাঙামাটিতে পাহাড় ধসের ঘটনায়
ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এক হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা

বিশেষ প্রতিনিধি : হিলবিডি টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published: 01 Jul 2017   Saturday

অতি বর্ষনে ভয়াবহ পাহাড় ধসের ঘটনায় রাঙামাটিতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এক হাজার কোটি টাকার উপরে ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে ধারনা করা হচ্ছে। 

 

এদিকে, এ পাহাড় ধসের ঘটনায় জেলা দুর্যোগ ও ত্রাণ শাখার ক্ষয়ক্ষতি তালিকায় দশ উপজেলায় ১ লাখ ২৩ হাজার ১২৭ জন ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন। আর সম্পূর্ন বাড়ী বিধ্বস্ত হয়েছে ১ হাজার ২৩১ পরিবার। এছাড়া, বিভিন্ন সরকারী স্থাপনা,শিক্ষা প্রতিষ্ঠান,রাস্তাঘাট, মৎস্য খামার, গবাদিপশু,হাসমুরগি,বনায়ন, বিদ্যুৎ,টেলিযোগাযোগসহ ইত্যাদিতে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।


প্রসঙ্গতঃ উল্লেখ্য,গেল ১৩ জুন ভারী বর্ষনে পাহাড় ধসে রাঙামাটি সদর উপজেলার ভেদভেদীর যুব উন্নয়ন বোর্ড এলাকা,মুসলিম পাড়া.শিমুলতলী এলাকা,সাপছড়ি,মগবান,বালুখালী এলাকায় এবং জুরাছড়ি,কাপ্তাই,কাউখালী ও বিলাইছড়ি এলাকায় দুই সেনা কর্মকর্তা ও তিন সেনা সদস্যসহ ১২০ জনের মৃত্যূ হয়। পাহাড় ধসের ঘটনায় রাঙামাটি-চট্টগ্রাম সড়কের সাপছড়ি শালবাগান স্থানে দেড়শ ফুট এলাকা জুড়ে রাস্তার মাটি ভেঙ্গে গিয়ে সারাদেশের মধ্যে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়। এক সপ্তাহের পর হালকা যানবাহন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি সড়ক যানবাহন চলাচল বর্তমানে বন্ধ রয়েছে পাহাড় ধসের কারণে।


পাহাড় ধসের ঘটনায় রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের গঠিত ক্ষয়ক্ষতি নিরুপনের জন্য গঠিত তালিকা সূত্রে প্রাপ্ত তালিকায় উল্লেখ করা হয়, রাঙামাটি জেলার ২টি পৌরসভাসহ দশ উপজেলায় কমবেশী  ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ ঘটনায় ১২০ জনের প্রাণহানী ঘটেছে। এর মধ্যে রাঙামাটি সদর উপজেলায় ৭১ জন,কাউখালী উপজেলায় ২১জন,কাপ্তাই উপজেলায় ১৮ জন, জুরাছড়ি উপজেলায় ৬টি ও বিলাইছড়ি উপজেলায় ২ জন। এছাড়া আহত হয়েছেন ১৯২জন। এর মধ্যে গুরুত্বর আহতের সংখ্যা ১৮জন।

 

এ জেলায় ক্ষতিগ্রস্থ লোকের সংখ্যা হচ্ছে ১ লাখ ২৩ হাজার ১২৭ জন। এর মধ্যে শুধুমাত্র রাঙামাটি সদর উপজেলায় ক্ষতিগ্রস্থ সংখ্যা হচ্ছে ৪০ হাজার ৭২৮ জন। জোলায় ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের সংখ্যা হচ্ছে ১৮ হাজার ৫৫৮টি। সম্পূর্ণ  বিধ্বস্ত বাড়ীঘর ১হাজার ২৩১টি এবং আংশিক ক্ষতিগ্রস্থ বাড়ীর ৯হাজার ৫৩৭টি।


তালিকায় আরো উল্লেখ করা হয়, এ ঘটনায় জেলার ৪৯টি স্কুল-মাদ্রাসা, ১টি কলেজ এবং ৮টি মসজিদ ও মন্দিরে আংশিক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। যার ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ২শ কোটি ৮১ লাখ টাকা। জেলার ১টি কলেজ ও ৭টি স্কুল-মাদ্রাসা বিধ্বস্থ হয়ে ৩কোটি ৩৫ লাখ ৩০ হাজার টাকার পরিমাণের ক্ষতি হয়েছে। এ ঘটনায় ১৬টি পুলিশ ক্যাম্পের ৩ কোটি ৬৪লাখ ৭০ হাজার টাকা, খাদ্য বিভাগের ২টি ভবনের ২৫লাখ টাকা, হাসপাতাল ভবনের ৬২ লাখ, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের ৫কোটি ৪০লাখ টাকা এবং সেনানিবাসের ৪০ লাখ টাকার পরিমাণের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

 

বনায়নের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ২৫লাখ ৬৬ হাজার টাকা,বিদ্যুতের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ৫কোটি ৪৯লাখ ৩৮ হাজার টাকা ,টেলিযোগাযোগে ক্ষতি হয়েছে ৫কোটি ১৯ হাজার টাকা, মৎস্য খামারে ক্ষয়ক্ষতি হয় ৩১কোটি ৩ লাখ টাকা, অগভীর ও হস্তচালিত নলকুপের ক্ষয়ক্ষতি পরিমাণ ৪লাখ ৯৬ হাজার টাকা,পুকুর ও জলাশয়ের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ৫লাখ ৮৭ হাজার টাকা।


এ তালিকায় উল্লেখ করা হয়, পাহাড় ধসের ঘটনায় গবাদি পশু মারা যাওয়ায় ক্ষতির পরিমাণ দাড়িয়েছে ২৮ লাখ ৪৬ হাজার টাকা,হাসমুরগীর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ২৯ লাখ ৯৮ হাজার টাকা। তালিকায় আরো বলা হয়, এ তাছাড়া জেলার ১হাজার ৮৯৯ হেক্টর এলাকায় বিভিন্ন ফসলাদির ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পাহাড় ধসের কারণে জেলার শতকরা ৯ দশমিক ৪২ কিলোমিটার সড়ক বিধ্বস্ত হয়েছে।

 

এদিকে, ক্ষয়ক্ষতি নিরুপনের তালিকায় রাঙামাটি সদর উপজেলায় সরকারী গুরুত্বপূর্ন স্থাপনার মধ্যে বাংলাদেশ টেলিভিশন উপকেন্দ্র,বাংলাদেশ বেতার, পাসপোর্ট অফিস, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ইনষ্টিটিউট, সার্কিট হাউস,জেলা সমাজ সেবা কার্যালয়, জেলা শিক্ষা অফিস,ডিসি ও এসপি বাংলোসহ ১৫টি সরকারী গুরুত্বপুর্ণ স্থাপনা ও ব্যক্তি মালিকানাধীন স্থাপনার ক্ষতির সংখ্যা উল্লেখ করা হয়নি। তবে এই স্মরনাতীতকালের রাঙামাটিতে  এ ভয়াবহ পাহাড় ধসের ঘটনায় লোকজনের প্রাণহানী, ঘরবাড়ী ও রাস্তাঘাট বিধ্বস্ত হওয়াসহ সব বিষয়ের পুরোপুরি ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ পাওয়া না গেলেও এক হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে অনেকেই ধারনা করছেন।

 

রাঙামাটি সদর উপজেলার পৌরসভাকে বাদ দিয়ে শুধুমাত্র ৬টি ইউনিয়নে সব কিছু মিলিয়ে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ৩শ কোটি টাকা বেশী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে ধারনা করছেন রাঙামাটি সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অরুন কান্তি চাকমা। 

 

জেলা ত্রাণ ও দুর্যোগ শাখার কর্মকর্তা বিশ্বনাথ মজুমদার জানান, রাঙামাটি জেলার  প্রাথমিক একটি ক্ষতিগ্রস্থ  তালিকা ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রনালয়ে পাঠানো হয়েছে।

 

জেলা প্রশাসক মোঃ মানজারুল মান্নান বলেন, এ ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়ার সম্ভবানা রয়েছে। অপাতত প্রাথমিকভাবে যে সমস্ত তথ্য বিভিন্ন উপজেলা থেকে পাওয়া গেছে তার আলোকে তালিকা করে সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে।

 

তিনি আরো বলেন, রাঙামাটি শহরের বিভিন্ন সরকারী স্থাপনা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভবনে ক্ষতিগ্রস্থ লোকজন আশ্রয়ে রয়েছেন তাদের নতুন আশ্রয় কেন্দ্রে সরিয়ে নেয়ার যে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে তা কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। কারণ নতুন আশ্রয় কেন্দ্রগুলো এখনো প্রস্তুত হয়নি। আবার যে সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আশ্রিতরা রয়েছেন সেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা রয়েছে তা কোন বোর্ড পরীক্ষা না। তাই পরীক্ষাগুলো মানবিক কারণে সপ্তাহখানেক পিছানোর উদ্যোগ নেয়া হবে।
--হিলবিডি২৪/সম্পাদনা/সিআর.

আর্কাইভ