• Hillbd newsletter page
  • Hillbd rss page
  • Hillbd twitter page
  • Hillbd facebook page
সর্বশেষ
শান্তিপূর্ন পরিবেশ বাজয় রাখতে সকলকে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে রুখে দাড়াতে হবে                    বরকলে সাজাপ্রাপ্ত আসামী গ্রেফতার                    বান্দরবান বিকেবি’র ঋণ বিতরণ                    রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের মাসিক সভা                    রাঙামাটিতে হিল ফ্লাওয়ারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা                    মহালছড়ি টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজ পরিদর্শনে উন্নয়ন বোর্ড চেয়ারম্যান                    কাপ্তাই ব্যাঙছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শ্রেণীকক্ষ সম্প্রসারণ কাজের উদ্বোধন                    খাগড়াছড়িতে সোনালীকা ডে উপলক্ষে বার্ষিক সার্ভিস ও মত বিনিময় সভা                    পাহাড়ি-বাঙালির সম্মিলিত উন্নয়নেই পার্বত্যাঞ্চলে সমৃদ্ধি আসবে-উন্নয়ন বোর্ড চেয়ারম্যান                    পানছড়িতে আওয়ামীলীগ সভাপতির ভাগিনাসহ দুজনকে ৮শ পিস ইয়াবাসহ আটক                    রাঙামাটির উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তাদের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত                    খাগড়াছড়ি জেলা ফুটবল লীগ ফাইনালে চ্যাম্পিয়ন সার্প-খাগড়াছড়ি                    কাপ্তাই ইউএনও’র উদ্যোগে বদলে গেলো একটি ঘাটের পরিবেশ                    পানছড়ি বাজারের আগুনে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ালেন কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এমপি                    আলীকদমে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত                    কাপ্তাইয়ে নির্পোটে ৫ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা শুরু                    পানছড়ি বাজারে ভয়াবহ আগুনে ২৫টি বসত ও দোকান পুড়ে ছাই                    দৈনিক প্রথম আলোর রাঙামাটি প্রতিনিধি সাধন বিকাশ চাকমা সড়ক দুর্ঘটনায় আহত                    এমএন লারমার জীবন দর্শন ও রাজনৈতিক জীবন সংগ্রামকে তরুন প্রজন্মকে নতুন করে ভাবতে হবে-সন্তু লারমা                    এমএন লারমা ছিলেন দেশের সমগ্র খেতে খাওয়া,মেহনতি,শ্রমজীবী মানুষের নেতা                    খাগড়াছড়িতে মারমা উন্নয়ন সংসদের ২দিনের কেন্দ্রীয় সম্মেলনের উদ্বোধন                    
 

পার্বত্য চুক্তির দুই দশক পূর্তি উপলক্ষ্যে ঢাকায় সংবাদ সম্মেলনে
সরকার একের পর এক চুক্তি বিরোধী ও জুম্ম স্বার্থ পরিপন্থী কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে চলেছে-সন্তু লারমা

ডেস্ক রিপোর্ট : হিলবিডি টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published: 29 Nov 2017   Wednesday

পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সভাপতি জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা(সন্তু লারমা) বলেছেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যার রাজনৈতিক ও শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমাধানের লক্ষ্যে স্বাক্ষরিত পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির দুই দশক পূর্ণ হতে চললেও চুক্তির মৌলিক বিষয়সমূহের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশ বিষয়ই অবাস্তবায়িত অবস্থায় রয়ে গেছে। শেখ হাসিনা সরকার কেবল চুক্তির মৌলিক বিষয়সমূহ অবাস্তবায়িত অবস্থায় ফেলে রেখে দেয়নি, একের পর এক চুক্তি বিরোধী ও জুম্ম স্বার্থ পরিপন্থী কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে চলেছে।


তিনি আরো বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের সামগ্রিক পরিস্থিতি উদ্বেগজনক ও অত্যন্ত নাজুক। জুম্ম জনগণ নিরাপত্তাহীন ও অনিশ্চিত এক চরম বাস্তবতার মুখোমুখী হয়ে কঠিন জীবনযাপনে বাধ্য হচ্ছে। বস্তত পার্বত্য চট্টগ্রামের বিরাজমান সমস্যা রাজনৈতিক ও শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমাধানের ক্ষেত্রে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের বিকল্প নেই।


তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়িত না হওয়ায় জুম্ম জনগণের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। আর পেছনে যাওয়ার কোন রাস্তা নেই। তবে পার্বত্য চট্টগ্রামের যে কোন অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতির জন্য সরকারই দায়ী থাকবে।


পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির দুই দশক পূর্তি উপলক্ষ্যে রাজধানী ঢাকার সুন্দরবন হোটেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সন্তু লারমা এসব কথা বলেন।

 

সংবাদ সন্মেলন থেকে সন্তু লারমা পার্বত্য চুক্তি যথাযথ বাস্তবায়নের লক্ষে ২০১৬ সালে ঘোষিত দশদফা কর্মসূচির ভিত্তিতে অসহযোগ আন্দোলন অব্যাহতভাবে চালিয়ে যাওয়া,পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বিরোধী ও জুম্ম স্বার্থ পরিপন্থী সকল কার্যক্রম প্রতিরোধ ও পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নে বৃহত্তর আন্দোলন সংগঠিত করার তিন দফা ঘোষনা দেন।

 

পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির কেন্দ্রীয় তথ্য ও প্রচার সম্পাদক মঙ্গল কুমার চাকমার স্বাক্ষরিত এক প্রেস বার্তায় বলা হয়, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে সংবাদ সম্মেলনে মূল বক্তব্য তুলে ধরেন করেন জনসংহতি সমিতির সভাপতি ও চুক্তির অন্যতম স্বাক্ষরকারী জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা। সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন ঐক্য ন্যাপের সভাপতি পঙ্কজ ভট্টাচার্য, বিশিষ্ট কলামিষ্ট ও গবেষক সৈয়দ আবুল মকসুদ, ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক মেজবাহ কামাল, মানবাধিকার কর্মী নুমান আহমেদ খান, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের অর্থ সম্পাদক এন্ড্রু সলোমার প্রমুখ। সঞ্চালনা করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক শক্তিপদ ত্রিপুরা।


সন্তু লারমা তার বক্তব্যে বলেন, ২০০৯ সালে সরকার গঠনের মাধ্যমে পার্বত্য চুক্তির প্রতিটি ধারা অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করা হবে বলে আওয়ামীলীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছিল। কিন্ত দুঃখের বিষয় হলেও সত্য বিগত ৯ বছর ধরে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসীন থাকা সত্ত্বেও বর্তমান শেখ হাসিনা সরকার চুক্তির মৌলিক বিষয়সমূহ বাস্তবায়নে কোন কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেননি।


তিনি অভিযোগ করে বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে নিয়োজিত গোয়েন্দা বাহিনী, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ক্ষমতাসীন দলের প্রত্যক্ষ  সহযোগিতায় পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বিরোধী ও জুম্ম স্বার্থ পরিপন্থী ভূমিকা পালন করে চলেছে। চুক্তিতে সকল প্রকার অস্থায়ী ক্যাম্প প্রত্যাহারের বিধান থাকলেও এখনো চার শতাধিক ক্যাম্প পার্বত্যাঞ্চলে বিদ্যমান রয়েছে। সেনাশাসন চলমান হেতু পার্বত্য চট্টগ্রামে অবাধে যত্রতত্র সেনা অভিযান, তল্লাসী, ধরপাকড়, মারপিট, দমন-পীড়ন এবং বাক স্বাধীনতা ও সভা সমাবেশের উপর হস্তক্ষেপ ইত্যাদি চলছে। এছাড়াও তিন পার্বত্য জেলার সাধারণ প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা, পুলিশ, ভূমি ও ভূমি ব্যবস্থাপনা, বন ও পরিবেশ, পর্যটন, মাধ্যমিক শিক্ষা, উন্নয়ন ইত্যাদি বিষয়গুলো এখনো তিন পার্বত্য জেলা পরিষদে হস্থান্তর করা হয়নি।

 

পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ আইন কার্যকর করা হয়নি। ভূমি বিরোধ নিস্পত্তি, সেটেলার বাঙালিদের পার্বত্য চট্টগ্রামের বাইরে সম্মানজনক পুনর্বাসন, ভারত প্রত্যাগত শরণার্থী ও অভ্যন্তরীণ জুম্ম উদ্বাস্তদের স্ব-স্ব জায়গা-জমি প্রত্যর্পণ পূর্বক যথাযথ পুনর্বাসন করা হয়নি।


তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির নির্দিষ্ট নীতি ও আদর্শ রয়েছে। সে নীতি ও আদর্শকে ধারণ করে জুম্ম জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রনাধিকার প্রতিষ্ঠায় নিবিড়ভাবে কাজ করে চলেছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য গণতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলনরত পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সদস্যসহ জুম্মদেরকে চাঁদাবাজি, অস্ত্রধারী, সন্ত্রাসী, বিচ্ছিন্নতাবাদী ইত্যাদি সাজানো অভিযোগে অভিযুক্ত করে মিথ্যা মামলা দায়ের, ধরপাকড়, জেলে প্রেরণ, ক্যাম্পে আটক ও নির্যাতন, ঘরবাড়ি তল্লাসী ইত্যাদি নিপীড়ন-নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

 

পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বিরোধী চক্র যারা পার্বত্য চট্টগ্রামকে অস্থিতিশীল রাখতে চায় তারাই জনসংহতি সমিতির নামে কুৎসা রটায়। তাই উড়ো কথায় কান না দিয়ে পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নের আন্দোলনকে বেগবান করার লক্ষ্যে দেশের আপামর জনগণকে এগিয়ে আসার জন্যও সন্তু লারমা আহ্বান জানান।

 

সন্তু লারমা আরো বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি যথাযথ বাস্তবায়নের স্বার্থে চুক্তি-পরিপন্থী ও জুম্ম স্বার্থ বিরোধী যে কোন ষড়যন্ত্র প্রতিরোধ করতে জুম্ম জনগণ আজ দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। তিনি পার্বত্য চট্টগ্রাম তথা দেশের বৃহত্তর স্বার্থে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নে কার্যকর ভূমিকা রাখার জন্য দেশের গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক ও প্রগতিশীল রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের প্রতিও আহ্বান জানান।

 

উল্লেখ্য, পার্বত্য চট্টগ্রামের দীর্ঘ  দুই যুগেরও বেশী সময় ধরে চলা সশস্ত্র সংঘাত অবসানের লক্ষ্যে তৎকালীন আওয়ামীলীগ সরকার ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির মধ্যে  ১৯৯৭ সালের ২রা ডিসেম্বর পার্বত্য চুক্তি সই হয়। চুক্তি মোতাবেক ১৯৯৮সালে জনসংহতি সমিতির তৎকালীন শান্তি বাহিনীর প্রায় দুই হাজার সদস্য সরকারের কাছে অস্ত্র জমা দিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসেন। 
--হিলবিডি২৪/সম্পাদনা/সিআর.

 

এই বিভাগের সর্বশেষ
আর্কাইভ