• Hillbd newsletter page
  • Hillbd rss page
  • Hillbd twitter page
  • Hillbd facebook page
সর্বশেষ
বিলাইছড়িতে বিশ্ব ম্যালেরিয়া দিবস পালন                    বাঘাইছড়িতে বিশেষ আইন-শৃংখলা সভা অনুষ্ঠিত                    রাঙামাটিতে পুলিশের কড়া প্রহরায় বিএনপি’র মানববন্ধন                    মহালছড়িতে জেলেদের বহুদিনের প্রতিক্ষিত বরফকল উদ্বোধন                    পার্বত্যাঞ্চল এখনো ম্যারেলিয়া ঝুকিতে                    সভাপতি বেলায়ত,সিনিয়র সহ-সভাপতি শাহ আলম ও আবদুল ওয়াদুদ                    শিক্ষার সামগ্রিক সংকট নিরসনে রাঙামাটিতে মতবিনিময় সভার আয়োজন                    লামায় এক রোহিঙ্গা পাথর শ্রমিকের লাশ গুমের সময় ধৃত ৪                    খাগড়াছড়িতে ১৫ জেএমবি সদস্যের যাবজ্জীবন                    খাগড়াছড়িতে বাঙ্গালী ছাত্র পরিষদের ডাকে শান্তিপূর্ন সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালিত                    পাহাড় ধস সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধিততে খাগড়াছড়িতে র‌্যালী ও কর্মশালা                    রাঙামাটিতে ঝুকিপূর্ন স্থানে বসবাস না করে নিরাপদ স্থানে বসবাসের আহ্বান জানালেন দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী                    রাঙামাটিতে সেনা বাহিনীর উদ্যোগে শিশুদের বিনোদনের হ্যাপী আইল্যান্ড উদ্ধোধন                    খাগড়াছড়ির বেতছড়িতে পিতা-পুত্রসহ তিন জনকে অপহরণের নিন্দা                    ইউপিডিএফের নেতাকে হত্যার প্রতিবাদে খাগড়াছড়িতে তিন সংগঠনের বিক্ষোভ,পুলিশী বাধার অভিযোগ                    পানছড়িতে ইউপিডিএফ`র নেতাকে হত্যার প্রতিবাদে খাগড়াছড়িতে তিন সংগঠনের বিক্ষোভ                    রাজস্থলীতে পর্যটন সম্ভাবনাময় দর্শনীয় স্থানগুলো অবহেলিত                    লামায় বন্য হাতির আক্রমণে গুরুতর আহত ১                    লামায় অগ্নিকান্ডে ১২টি বসত ঘর ভূস্মিভূত                    পাহাড়ে অবৈধ অস্ত্রধারীদের সংঘাতে সাধারণ মানুষ শংকিত- দীপংকর তালুকদার                    বরকলে বিজিবির উদ্যোগে আইন শৃংখলা বিষয়ে মতবিনিময় সভা                    
 

চুক্তির যথাযথ বাস্তবায়ন করা না হলে পার্বত্য চট্টগ্রামে আগুন জ্বলবে-সন্তু লারমা

বিশেষ রিপোর্টার : হিলবিডি টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published: 02 Dec 2017   Saturday

পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সভাপতি ও আঞ্চলিক পরিষদ চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা(সন্তু লারমা) হুশিয়ারী উচ্চারণ করে বলেছেন, পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নের লড়াইয়ে শাসকগোষ্ঠী অস্ত্র ভাষা প্রয়োগ করলে নিরস্ত্র জুম্মরাও বাধ্য হয়ে অস্ত্র ভাষা প্রয়োগ করতে হতে পারে। জুম্ম জনগণ পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নে বৃহত্তর আন্দোলন চালিয়ে যাবে এবং পার্বত্য চুক্তি বিরোধী ও জুম্ম স্বার্থ পরিপন্থী সকল প্রকার কার্যক্রম প্রতিরোধ করবে। পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির যথাযথ বাস্তবায়ন করা না হলে পার্বত্য চট্টগ্রামে আগুন জ্বলবে।

 

তিনি আরো বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে এখন ঔপনিবেশিক শাসনব্যবস্থা চলছে। সংবিধান থেকে আমাদের মুছে দেওয়া হয়েছে। আমাদের অস্তিত্বহীন করে ফেলা হয়েছে। পাহাড়ি জনগণ এখন কোথায় যাবে? কোথায় আশ্রয় নেবে?’

 

শনিবার, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি কর্তৃক পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির দুই দশক পূর্তি উপলক্ষ্য রাজধানী ঢাকায় ডেইলী স্টার ভবনে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

 

পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সদস্য দীপায়ন খীসার সঞ্চালনায় এবং ঐক্যন্যাপের সভাপতি পঙ্কজ ভট্টাচার্য্যর সভাপতিত্বে আমন্ত্রিত অতিথি ও আলোচকবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সভাপতি ও আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন এমপি, বিশিষ্ট কলামিষ্ট ও গবেষক সৈয়দ আবুল মকসুদ, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, সাবেক মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক শক্তিপদ ত্রিপুরা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ভারপ্রাপ্ত ডীন অধ্যাপক সাদেকা হালিম, শিক্ষক অধ্যাপক মেজবাহ কামাল, রোবায়েত ফেরদৌস, সৌরভ শিকদার, জাসদের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান, বাসদের প্রেসিডিয়াম সদস্য রাজেকুজ্জামান রতন, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক নূর মোহাম্মদ তালুকদার, গণতন্ত্রী পার্টির সভাপতি নুরুল রহমান সেলিম, লেখক ও সাংবাদিক আবু সাঈদ খান, সাপ্তাহিক পত্রিকার সম্পাদক গোলাম মোর্তোজা, এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদাসহ বিভিন্ন আদিবাসী ও প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

 

সন্তু লারমা আরো বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের সামগ্রিক বাস্তবতা আজ অত্যন্ত নাজুক । জুম্ম জনগোষ্ঠীর আজ পেছনে যাওয়ার জায়গা নেই। পার্বত্যবাসীরা বিশেষত জুম্ম জনগণ নিরাপত্তাহীন ও অনিশ্চিত এক চরম বাস্তবতার মুখোমুখী হয়ে কঠিন জীবনযাপনে বাধ্য হচ্ছে। জুম্ম জনগণ এই শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে আজ সংকল্পবদ্ধ।

 

তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির ২০তম বর্ষপূর্তি আজ। ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যার সমাধান করার লক্ষ্যেই পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি হয়েছিল। কিন্তু চুক্তির ২০ বছর অতিক্রান্ত হবার পরেও এখনো চুক্তির মৌলিক বিষয়গুলোরও বাস্তবায়ন না হওয়ায় পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যা দূর হয়নি। উপরন্তু পার্বত্য চুক্তিকে উপেক্ষা করে সরকারী, বেসরকারী উদ্যোগে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে প্রতিনিয়ত বহিরাগত সেটেলার বাঙালী ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিস্পত্তিকরণ, তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ নির্বাচন, আঞ্চলিক পরিষদ নির্বাচন প্রভৃতি মৌলিক বিষয়গুলো এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যার সমাধান করতে হলে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির বাস্তবায়নের বিকল্প নেই। চুক্তির ২০তম বর্ষপূর্তিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর তিন পার্বত্য জেলায় ভিডিও কনফারেন্সে দেওয়া বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তার দেওয়া বক্তব্যে অনেকগুলো বিতর্কিত বিষয় উত্থাপন করেছিলেন যেগুলো আদতে সত্য নয়। পর্যটন শিল্প, বেসামরিক প্রশাসন, সামরিক প্রশাসন প্রভৃতি বিষয়গুলো জেলা পরিষদে হস্তান্তর করাসহ চুক্তির ৭২ টি ধারার ৪৮ টি ধারা বাস্তবায়ন হয়েছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে দাবী করা হলেও তা শুভঙ্করের ফাঁকি ভিন্ন কিছু নয়। তিনি ১৯৯৭ সালের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য আর বর্তমানে দেওয়া বক্তব্যের মধ্যে আকাশ পাতাল ব্যবধান বলেও অভিযোগ করেন।

 

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন এমপি,  পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যা এখনো কেবলমাত্র জনসংহতি সমিতির সমস্যার মধ্যে আছে। এ সমস্যাকে জাতীয় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করা না গেলে আসলে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব হবে না।

 

অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন হওয়ার অন্যতম প্রধান তিনটি কারণের কথা তিনি উল্লেখ করে বলেন, পাহাড়ী এবং বাঙালী বিভেদকরণ, দেশের সার্বভৌমত্বের নিরাপত্তার প্রশ্নে প্রশাসন ও সরকারকে ভুল তথ্য প্রেরণ, পার্বত্য চুক্তি সামরিক চুক্তি নয় রাজনৈতিক চুক্তি, এ সত্যটি মেনে না নেওয়ার অভাব এ তিনটি কারণে এখন পর্যন্ত পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নের মুখ দেখছে না। তিনি ভূমি বিরোধ নিস্পত্তি হয়ে গেলে চুক্তির অন্যন্য বিষয়গুলোও বাস্তবায়িত হবে বলে উচ্চারণ করেন।

 

অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম বলেন, পাবর্ত্য চুক্তির ভিত্তি ছিল ১৯০০ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধি। অর্থাৎ চুক্তির মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামকে একটি সায়ত্বশাসিত অ ল হিসেবে স্বীকার করা হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ এবং অন্যন্য এজেন্সির মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রামের জুম্মদের ভূমি বেদখলের একটা সূক্ষ্ম প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। ভারতের সেভেন সিস্টার্সের আদিবাসীদের পার্লামেন্টে যে পরিমাণ গণতান্ত্রিক অধিকার দেয়া হয়েছে সেটা বর্তমানে বাংলাদেশে অনুপস্থিত বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

 

সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, আজ আদিবাসীরা রাষ্ট্রের যে অত্যাচার সে অত্যাচারের যাঁতাকলে পিষ্ঠ হচ্ছে। সরকার চুক্তির ৭২ টি ধারার মধ্যে ৪৮ টি ধারা বাস্তবায়ন হয়েছে বলে সরকারের যে মিথ্যাচার তিনি সে মিথ্যাচারের প্রবল সমালোচনা করেন। রাষ্ট্র, সরকার চুক্তি নিয়ে ভাওতাবাজী শুরু করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

আবু সাঈদ খান বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় স্বাধীন বাংলাদেশ কখনো মুসলমানের রাষ্ট্র, বাঙালীর রাষ্ট্র হবে এমনটা কথা ছিলোনা। গণপ্রজাতন্ত্রের চেতনা-ই ছিলো মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম প্রধান চেতনা। সুতরাং প্রকৃত অর্থে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ করে পার্বত্য চট্টগ্রামে স্থানীয় শাসনব্যবস্থার মাধ্যমে আদিবাসীদের রাষ্ট্র পরিচালনায় অংশিদারিত্বের ব্যবস্থা করা দরকার ।

 

সভাপতির বক্তব্যে পঙ্কজ ভট্টাচার্য্য বলেন, সংবিধানে সাম্প্রদায়িকরনের, আধিপত্যবাদের সূক্ষ্ম বীজ বপন করা হয়েছে। যার কারণে সমগ্র দেশ জুড়ে সাম্প্রদায়িকরণের সংস্কৃতি চলছে। গণতন্ত্রের সীমাবদ্ধতার কারণে আজ রাষ্ট্র সমতার, ন্যায়ের রাষ্ট্রে রুপান্তরিত হতে পারছে না।

--হিলবিডি২৪/সম্পাদনা/সিআর.

 

 

 

 

এই বিভাগের সর্বশেষ
আর্কাইভ