• Hillbd newsletter page
  • Hillbd rss page
  • Hillbd twitter page
  • Hillbd facebook page
সর্বশেষ
শান্তিপূর্ন পরিবেশ বাজয় রাখতে সকলকে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে রুখে দাড়াতে হবে                    বরকলে সাজাপ্রাপ্ত আসামী গ্রেফতার                    বান্দরবান বিকেবি’র ঋণ বিতরণ                    রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের মাসিক সভা                    রাঙামাটিতে হিল ফ্লাওয়ারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা                    মহালছড়ি টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজ পরিদর্শনে উন্নয়ন বোর্ড চেয়ারম্যান                    কাপ্তাই ব্যাঙছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শ্রেণীকক্ষ সম্প্রসারণ কাজের উদ্বোধন                    খাগড়াছড়িতে সোনালীকা ডে উপলক্ষে বার্ষিক সার্ভিস ও মত বিনিময় সভা                    পাহাড়ি-বাঙালির সম্মিলিত উন্নয়নেই পার্বত্যাঞ্চলে সমৃদ্ধি আসবে-উন্নয়ন বোর্ড চেয়ারম্যান                    পানছড়িতে আওয়ামীলীগ সভাপতির ভাগিনাসহ দুজনকে ৮শ পিস ইয়াবাসহ আটক                    রাঙামাটির উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তাদের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত                    খাগড়াছড়ি জেলা ফুটবল লীগ ফাইনালে চ্যাম্পিয়ন সার্প-খাগড়াছড়ি                    কাপ্তাই ইউএনও’র উদ্যোগে বদলে গেলো একটি ঘাটের পরিবেশ                    পানছড়ি বাজারের আগুনে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ালেন কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এমপি                    আলীকদমে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত                    কাপ্তাইয়ে নির্পোটে ৫ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা শুরু                    পানছড়ি বাজারে ভয়াবহ আগুনে ২৫টি বসত ও দোকান পুড়ে ছাই                    দৈনিক প্রথম আলোর রাঙামাটি প্রতিনিধি সাধন বিকাশ চাকমা সড়ক দুর্ঘটনায় আহত                    এমএন লারমার জীবন দর্শন ও রাজনৈতিক জীবন সংগ্রামকে তরুন প্রজন্মকে নতুন করে ভাবতে হবে-সন্তু লারমা                    এমএন লারমা ছিলেন দেশের সমগ্র খেতে খাওয়া,মেহনতি,শ্রমজীবী মানুষের নেতা                    খাগড়াছড়িতে মারমা উন্নয়ন সংসদের ২দিনের কেন্দ্রীয় সম্মেলনের উদ্বোধন                    
 

মাতৃভাষা হারিয়েছে পানছড়ির আদি ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের লোকজন

নতুন ধন চাকমা,পানছড়ি(খাগড়াছড়ি) : হিলবিডি টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published: 20 Feb 2018   Tuesday

৭৩টি ত্রিপুরা পরিবার। কালের বিবর্তনে ভুলে গেছে নিজস্ব মাতৃভাষা। কথা বলে চাকমা ভাষার সাথে মিল রেখে কিছুটা বিকৃত করে। যেন এক নতুন ভাষায়। এটি খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলার পানছড়ি ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের আদি ত্রিপুরা পাড়ার। শুধু এ আদি ত্রিপুরা পাড়ার নয়, উপজেলার টিএন্ডটি টিলার আদি ত্রিপুরা পাড়া, কালানাল ত্রিপরা পাড়া,  লোগাং ইউনিয়নের আমতুলির আদি ত্রিপুরারা সম্প্রদায়রাও একই ভাষায় কথা বলেন।

 

কখন থেকে মাতৃভাষাটি হারিয়ে ফেলেছে তা কেউ বলতে পারে না। এসব ত্রিপুরা পাড়ার লোকজনের আদি নিবাস রাঙামাটি। ১৯৬০ সালে কাপ্তাই বাঁধের কারণে তারা উদ্ভাস্তু হয়। বসটি গড়ে তোলে উপজেলার আদি ত্রিপুরা পাড়ায়, উপজেলার টিএন্ডটি টিলা, কালানাল ত্রিপরা পাড়া, লোগাং ইউনিয়নের আমতুলি। নিজেকে ত্রিপুরা জাতি বলে পরিচয় দিলেও মাতৃভাষা হারিয়েছে তারা। এসব ত্রিপুরাগুলো অন্যান্য ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের মতো সনাতন( হিন্দু ধর্ম) ধর্ম।

 

প্রাইমারী স্কুলের শিক্ষার্থী অভি ত্রিপুরা, শান্ত ত্রিপুরা জানায়, ত্রিপুরা পরিচয় দিলেও তারা মাতৃভাষায় কথা বলতে পারে না। বিদ্যালয়েও মাতৃভাষায় পড়ানো হয় না।

 

পূর্ণরানী ত্রিপুরা, নিঝুংগো ত্রিপুরা, অনিতা ত্রিপুরা বলেন,শুধু তারা নয় তাদের দাদা-দাদিরাও ত্রিপুরা ভাষায় কথা বলতে পারেন না। সবাই চাকমা ভাষার সাথে সুর মিলিয়ে কথা বলেন। তাই তারা পারেন না।

 

আদি ত্রিপুরা নিবাসী পানছড়ি সদর ৮ নং ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার সুকময় চাকমা বলেন, সব আদি ত্রিপুরারা চাকমার ভাষার সাথে সুর মিলিয়ে কথা বলেন। তারা মাতৃভাষা হারিয়েছেন।

 

পানছড়ি ইউনিয়নের ৭, ৮, ৯নং ওয়ার্ডের মহিলা সদস্যা ও আদি ত্রিপুরার স্থায়ী বাসিন্দা হিরামতি বড়–য়া বলেন,আদি ত্রিপুরা পাড়ার আদি ত্রিপুরারা কেউ আর ককবরক ভাষায়( ত্রিপুরা ভাষা) কথা বলতে পারেন না। তবে পরিচয় দেয় ত্রিপুরা জাতি হিসেবে। এ গ্রামের অধিকাংশ ত্রিপুরা পরিবার গরীব, তাদের কোনো  জায়গা জমি নেই। প্রায় সবাই দিন মজুর করে খেয়ে না খেয়ে থাকেন। বসতবাড়ী করেছে আত্মীয়-স্বজনের জায়গায়। তাই তাদের সব সময় মাথা নিচু করে থাকতে হয়। আর্থিক অস্বচ্ছলতার কারনে অধিকাংশ শিশু বিদ্যালয়ে যেতে পারে না। স্কুলে গেলেও ৪,৫ শ্রেণির পর ঝরে পড়ে।

 

তিনি আদি ত্রিপুরা পাড়ায় একটি ত্রিপুরা শিক্ষা গণকেন্দ্র স্থাপন করে দেওয়ার জন্য সচেতন মহলের কাছে দাবি করে জানান, ফলে আদি ত্রিপুরারা নিজস্ব ভাষায় কথা বলতে পারবে আর সচেতন হয়ে আস্তে আস্তে শিক্ষায় শিক্ষিত হতে পারবে।

 

আদি ত্রিপুরা পাড়ায় বাস করেন খাগড়াছড়ির সাংসদ কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরার সহকারী সচিব খগেন ত্রিপুরা। তিনি বলেন, চর্চা করলে পৃথিবীর যেকোনো ভাষা আয়ত্বে আনা যায়। চর্চার অভাবে তাঁরা মাতৃভাষা ‘ককবরক’ ভাষা হারিয়েছে। বাড়ীতে নিয়মিত মাতৃভাষা চর্চা করলে তারা মাতৃভাষা ফিরে পেতে পারে। কিন্তু তারা তো চর্চা করেন না।

 

খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদের সদস্য খগেশ্বর ত্রিপুরা বলেন,ত্রিপুরা ভাষা শিখার আগ্রহ থাকতে হবে এবং নিজেদের উদ্যোগে এ ভাষা শিখতে হবে। ককবরক ভাষার অভিধান পড়তে হবে। আর যারা ককবরক ভাষা বলতে পারে তাদের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে হবে। এতেই ককবরক ভাষা বলতে পারবে।

--হিলবিডি২৪/সম্পাদনা/সিআর.

 

 

আর্কাইভ