• Hillbd newsletter page
  • Hillbd rss page
  • Hillbd twitter page
  • Hillbd facebook page
সর্বশেষ
কাপ্তাইয়ে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে পপির মনোনয়ন জমা                    রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ সদস্য সবির কুমার চাকমার পদত্যাগ পত্র দাখিল                    সভাপতি সুনীল কান্তি দে এবং সাধারণ সম্পাদক সিন্টু                    বঙ্গবন্ধু-ই প্রথম পাহাড়িদের উচ্চ শিক্ষার্জনে দেশ-বিদেশের পথ খুলে দিয়েছিলেন                    রাঙামাটিতে ৫দিনব্যাপী সঞ্জীবনী প্রশিক্ষণ কোর্স শুরু                    জুরাছড়িতে সংরক্ষিত ওয়ার্ড সদস্য কৃষ্ণা চাকমার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমেছে                    বিলাইছড়িতে দুস্থ জনগণের মাঝে সোলার প্যানেল বিতরণ                    প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি "কাপ্তাই প্রশান্তি পার্ক" সেজেছে নতুন সাজে                    খাগড়াছড়িতে বর্ণাঢ্য আয়োজনে পার্বত্য চট্টগ্রাম ফুটবল টুর্নামেন্ট শুরু                    বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে রাঙামাটিতে প্রতিবন্ধী শিশুদের নিয়ে ক্রীড়া প্রতিযোগিতা                    জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে পানছড়িতে আলোচনা সভা                    খাগড়াছড়িতে বসন্ত উৎসব পালন                    অশ্লীল ভিডিও প্রকাশের জের খাগড়াছড়িতে শিক্ষিকার অপসারণ ও শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন                    রাঙামাটি সদর উপজেলায় ভাইস চেয়ারম্যান পদে মনোনয়পত্র নিলেন সাংবাদিক সোলায়মান                    বরকলের খুব্বাং বাজারের অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ                    মধুর বসন্ত এসেছে, বনবীথি সেজেছে নতুন পত্রপল্লবে---                    বরকলের সীমান্তবর্তী ঠেগা খুব্বাং বাজারের অগ্নিকান্ডে ৩৬টি দোকান ও বসতঘর পুড়ে ছাই                    খাগড়াছড়িতে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান                    কাপ্তাই উপজেলার সেই ময়লার ভাগাড় এখন বিনোদনের স্পর্টে পরিনত                    পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া অবরুদ্ধ হয়ে রয়েছে-সন্তু লারমা                    মহালছড়িতে উপজেলা চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ শুরু                    
 

মাতৃভাষা হারিয়েছে পানছড়ির আদি ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের লোকজন

নতুন ধন চাকমা,পানছড়ি(খাগড়াছড়ি) : হিলবিডি টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published: 20 Feb 2018   Tuesday

৭৩টি ত্রিপুরা পরিবার। কালের বিবর্তনে ভুলে গেছে নিজস্ব মাতৃভাষা। কথা বলে চাকমা ভাষার সাথে মিল রেখে কিছুটা বিকৃত করে। যেন এক নতুন ভাষায়। এটি খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলার পানছড়ি ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের আদি ত্রিপুরা পাড়ার। শুধু এ আদি ত্রিপুরা পাড়ার নয়, উপজেলার টিএন্ডটি টিলার আদি ত্রিপুরা পাড়া, কালানাল ত্রিপরা পাড়া,  লোগাং ইউনিয়নের আমতুলির আদি ত্রিপুরারা সম্প্রদায়রাও একই ভাষায় কথা বলেন।

 

কখন থেকে মাতৃভাষাটি হারিয়ে ফেলেছে তা কেউ বলতে পারে না। এসব ত্রিপুরা পাড়ার লোকজনের আদি নিবাস রাঙামাটি। ১৯৬০ সালে কাপ্তাই বাঁধের কারণে তারা উদ্ভাস্তু হয়। বসটি গড়ে তোলে উপজেলার আদি ত্রিপুরা পাড়ায়, উপজেলার টিএন্ডটি টিলা, কালানাল ত্রিপরা পাড়া, লোগাং ইউনিয়নের আমতুলি। নিজেকে ত্রিপুরা জাতি বলে পরিচয় দিলেও মাতৃভাষা হারিয়েছে তারা। এসব ত্রিপুরাগুলো অন্যান্য ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের মতো সনাতন( হিন্দু ধর্ম) ধর্ম।

 

প্রাইমারী স্কুলের শিক্ষার্থী অভি ত্রিপুরা, শান্ত ত্রিপুরা জানায়, ত্রিপুরা পরিচয় দিলেও তারা মাতৃভাষায় কথা বলতে পারে না। বিদ্যালয়েও মাতৃভাষায় পড়ানো হয় না।

 

পূর্ণরানী ত্রিপুরা, নিঝুংগো ত্রিপুরা, অনিতা ত্রিপুরা বলেন,শুধু তারা নয় তাদের দাদা-দাদিরাও ত্রিপুরা ভাষায় কথা বলতে পারেন না। সবাই চাকমা ভাষার সাথে সুর মিলিয়ে কথা বলেন। তাই তারা পারেন না।

 

আদি ত্রিপুরা নিবাসী পানছড়ি সদর ৮ নং ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার সুকময় চাকমা বলেন, সব আদি ত্রিপুরারা চাকমার ভাষার সাথে সুর মিলিয়ে কথা বলেন। তারা মাতৃভাষা হারিয়েছেন।

 

পানছড়ি ইউনিয়নের ৭, ৮, ৯নং ওয়ার্ডের মহিলা সদস্যা ও আদি ত্রিপুরার স্থায়ী বাসিন্দা হিরামতি বড়–য়া বলেন,আদি ত্রিপুরা পাড়ার আদি ত্রিপুরারা কেউ আর ককবরক ভাষায়( ত্রিপুরা ভাষা) কথা বলতে পারেন না। তবে পরিচয় দেয় ত্রিপুরা জাতি হিসেবে। এ গ্রামের অধিকাংশ ত্রিপুরা পরিবার গরীব, তাদের কোনো  জায়গা জমি নেই। প্রায় সবাই দিন মজুর করে খেয়ে না খেয়ে থাকেন। বসতবাড়ী করেছে আত্মীয়-স্বজনের জায়গায়। তাই তাদের সব সময় মাথা নিচু করে থাকতে হয়। আর্থিক অস্বচ্ছলতার কারনে অধিকাংশ শিশু বিদ্যালয়ে যেতে পারে না। স্কুলে গেলেও ৪,৫ শ্রেণির পর ঝরে পড়ে।

 

তিনি আদি ত্রিপুরা পাড়ায় একটি ত্রিপুরা শিক্ষা গণকেন্দ্র স্থাপন করে দেওয়ার জন্য সচেতন মহলের কাছে দাবি করে জানান, ফলে আদি ত্রিপুরারা নিজস্ব ভাষায় কথা বলতে পারবে আর সচেতন হয়ে আস্তে আস্তে শিক্ষায় শিক্ষিত হতে পারবে।

 

আদি ত্রিপুরা পাড়ায় বাস করেন খাগড়াছড়ির সাংসদ কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরার সহকারী সচিব খগেন ত্রিপুরা। তিনি বলেন, চর্চা করলে পৃথিবীর যেকোনো ভাষা আয়ত্বে আনা যায়। চর্চার অভাবে তাঁরা মাতৃভাষা ‘ককবরক’ ভাষা হারিয়েছে। বাড়ীতে নিয়মিত মাতৃভাষা চর্চা করলে তারা মাতৃভাষা ফিরে পেতে পারে। কিন্তু তারা তো চর্চা করেন না।

 

খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদের সদস্য খগেশ্বর ত্রিপুরা বলেন,ত্রিপুরা ভাষা শিখার আগ্রহ থাকতে হবে এবং নিজেদের উদ্যোগে এ ভাষা শিখতে হবে। ককবরক ভাষার অভিধান পড়তে হবে। আর যারা ককবরক ভাষা বলতে পারে তাদের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে হবে। এতেই ককবরক ভাষা বলতে পারবে।

--হিলবিডি২৪/সম্পাদনা/সিআর.

 

 

আর্কাইভ