• Hillbd newsletter page
  • Hillbd rss page
  • Hillbd twitter page
  • Hillbd facebook page
সর্বশেষ
রাঙামাটিতে ১০দিনব্যাপী সৃজনশীল চলচ্চিত্র নির্মাণ প্রশিক্ষণ কর্মশালা সমাপ্ত                    লক্ষ্মীছড়ি থেকে দশ দিন ধরে এক কিশোরী নিখোঁজ                    হিল ফ্লাওয়ারের উদ্যোগে জলবায়ু পরিবর্তন অভিযোজনে জনগোষ্ঠীর সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষে অধিপরামর্শ সভা                    রাঙামাটিতে জেলা পরিষদের উদ্যোগে ইফতার মাহফিল                    দীঘিনালায় পছন্দের ডায়াগনস্টিক ল্যাবে এক্সরে না করায় চিকিৎসা না দেয়ার অভিযোগ                    সুপারভাইজারকে কর্মকর্তার দায়িত্ব দিয়ে চলছে বরকলের সমাজ সেবা অফিস                    বরকলে তথ্য সেবার উদ্যোগে উঠান বৈঠক                    কাপ্তাই হ্রদের পানি শুকিয়ে যাওয়ায় ব্যবসা- বানিজ্যে স্থবিরতা, সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব                    জনপ্রতিনিধিদের সাথে নানিয়ারচর জোন অধিনায়কের মতবিনিময়                    ঔপনিবেশিক কায়দায় পার্বত্য চট্টগ্রামকে পরিচালিত করা হচ্ছে-উষাতন তালুকদার                    রাজস্থলীতে যুবলীগ নেতাকে গুলি করে হত্যা                    বান্দরবানে ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ নেতাকে গুলি করে হত্যা                    মাতৃভাষার উপর সঠিক শিক্ষা প্রদানে শিক্ষা কর্মকর্তাকে মনিটরিং এর নির্দেশ                    খাগড়াছড়িতে বজ্রপাতে মা ছেলের মৃত্যু                    রাঙামাটিতে গাউছিয়া কমিটির ইফতার মাহফিল                    রাঙামাটিতে বুদ্ধ পূর্নিমা উদযাপিত,ব্যাপক নিরাপত্তা জোরদার                    কাপ্তাইয়ে সড়ক দূর্ঘটনায় কলেজ ছাত্রের মর্মান্তিক মৃত্যু                    ২৩ ঘন্টার পর পানিতে তলিয়ে যাওয়া উত্তম কুমার দেওয়ানের লাশ উদ্ধার                    কাপ্তাই হ্রদকে দূষণমুক্ত ও অবৈধ দখলদার কবল থেকে রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের নির্দেশ                    বান্দরবানে পরিত্যক্ত রকেট লাঞ্চার বিস্ফোরণে ২ সেনা সদস্য নিহত, আহত ১০                    খাগড়াছড়িতে শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস পালিত                    
 

ঢাকায় এমএন লারমার ৭৯তম জন্ম দিবসে আলোচনা সভায় বক্তারা
এমএন লারমা ছিলেন দেশের সমগ্র খেতে খাওয়া,মেহনতি,শ্রমজীবী মানুষের নেতা

ডেস্ক রিপোর্ট : হিলবিডি টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published: 15 Sep 2018   Saturday

মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমার(এমএন লারমা)  ৭৯তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে শনিবার ঢাকায়  এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

 

বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের মূখপাত্র অমর শান্তি চাকমার স্বাক্ষরিত এক প্রেস বার্তায় বলা হয়,বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের উদ্যোগে  বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রে বাংলাদেশ  আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রংয়ের সভাপতিত্বে আলোচক ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতিরি সহ-সভাপতি ঊষাতন তালুকদার এমপি, ঐক্যন্যাপের সভাপতি পঙ্কজ ভট্টাচার্য, বিশিষ্ট কলামিষ্ট ও গবেষক সৈয়দ আবুল মকসুদ, ঢাকা বিশ্বব্যিালয়ের শিক্ষক ড. খায়রুল চৌধুরী, কবি ও সাংবাদিক সোহরাব হাসান এবং এএলআরডি’র নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা। আলোচনা সভায় বুদ্ধিজীবী, কবি সাহিত্যিক ও বিভিন্ন প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন  বাংলাদেশ  আদিবাসী ফোরামের কেন্দ্রীয় সদস্য মেইনথিন প্রমীলা।

 

আলোচনা  সভায় তরুণ প্রজন্মের ভাবনায় এম এন লারমা শীর্ষক প্রারম্ভিক আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সতেজ চাকমা এবং এম এন লারমা স্মরণে গান পরিবেশন করেন এএলআরডির জান্নাত-ই ফেরদৌসী। 

 

আলোচনা সভায় ঊষাতন তালুকদার এমপি বিপ্লবী এম এন লারমার স্মৃতিতে শ্রদ্ধা জানিয়ে  বলেন, মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা একাধারে শিক্ষাবিধ, সমাজ সংস্কারক ও রাজনীতিবীদ। শিক্ষকতার পেশা গ্রহণের মধ্যে দিয়ে তিনি যেমন একদিকে শিক্ষা বিস্তার করার কাজে মনোনিবেশ করেছিলেন তেমনি সমাজ সংস্কারক হিসেবে ঘূণে ধরা সামন্তীয় সমাজব্যবস্থা, পশ্চাৎপদ সমাজব্যবস্থাকে বদলানোর জন্য নিরলস সংগ্রাম করে গিয়েছিলেন। তিনি শুধু পাহাড়ের মানুষের কথা বলেননি, তিনি দেশের সমস্থ কৃষক, শ্রমিক, মাঝি-মাল্লার অধিকারের কথাগুলো নির্ভয়ে সংসদে উত্থাপন করেছিলেন। তিনি ছিলেন প্রকৃতি প্রেমী। জঙ্গলে অবস্থানকালে তিনি তার সতীর্থদের প্রাকৃতিক জীবজন্তু না মারার জন্য বারণ করতেন।

তিনি আরো বলেন, এম এন লারমার যে চাওয়া সে চাওয়া আজও পূরণ হয়নি। পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির মধ্যে দিয়ে এম এন লারমার স্বপ্নকে বাস্তবায়নের যে চেষ্টা সেটাও চুক্তির মৌলিক বিষয়গুলো অবাস্তবায়িত থাকার ফলে ভেস্তে যাচ্ছে। প্রতিনিয়ত পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে আদিবাসীদের দেশান্তরী হতে বাধ্য করা হচ্ছে। অন্যদিকে জনগণের প্রতিনিধিরা ব্যক্তিস্বার্থের চক্রে বন্দী রয়েছেন। যার কারণে এম এন লারমার বলে যাওয়া সেই গরীব, মেহনতী, মাঝি-মাল্লারা এখনো অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এম এন লারমা বলতেন মানুষ হিসেবে বেঁচে থাকতে হলে গর্বের সহিত বেঁচে থাকতে হবে। উচ্চমার্গীয় চিন্তা আর সাধারণ জীবনযাপন ছিল তার জীবনাদর্শ বলেও ঊষাতন তালুকদার উল্লেখ করেন। 

ঐক্যন্যাপের সভাপতি পঙ্কজ ভট্টাচার্য্য বলেন, মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা দেশের গণতন্ত্রকে একটি অর্থপূর্ণ গণতন্ত্র দিতে চেয়েছিলেন, মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চেতনায় সমাজ বিনির্মাণ করে একটি মানবিক রাষ্ট্র গঠন করতে চেয়েছিলেন। তিনি ছিলেন দূরদর্শী একজন বিপ্লবী নেতা। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন  উগ্র বাঙ্গালী জাত্যভিমানী আগ্রাসনের কবলে জুম্ম জনগোষ্ঠী তার অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে। তিনি চেয়েছিলেন শাসনতন্ত্রে ভাষাগত, সংস্কৃতিগত, ঐতিহ্যগত স্বীকৃতি থাকবে যার মাধ্যমে প্রতিটি মানুষ তার নিজ অধিকার নিয়ে গর্বের সহিত বেঁচে থাকতে পারবে। তিনি আরো বলেন, এম এন লারমা স্বতন্ত্র শাসন কাঠামো, প্রথাগত ভূমি অধিকার, স্বতন্ত্র অর্থনৈতিক ব্যবস্থা, স্বকীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির  প্রতিশ্রুতির প্রেক্ষিতে তিনি বাকশালে যোগদান করেছিলেন। সুতরাং মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় প্রকৃত বাংলাদেশ গঠনের জন্য এম এন লারমার আদর্শকে ধারণ করা অত্যন্ত জরুরী বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বিশিষ্ট কলামিষ্ট ও গবেষক সৈয়দ আবুল মকসুদ মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমার জন্মবার্ষিকীতে বিন¤্র শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, তিনি ছিলেন একজন অকপট, সরল মানুষ। তিনি চেয়েছিলেন একটি আধুনিক সমাজতান্ত্রিক, ধর্মনিরপেক্ষ, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের। যে রাষ্ট্রে শোষণহীন সমাজব্যবস্থা  প্রতিষ্ঠা করার মধ্যে দিয়ে দেশে ধনী গরীবের কোন ব্যবধান থাকবেনা। তিনি ছিলেন একজন জাতীয় নেতা। পার্বত্য চট্টগ্রামের অধিকার হারা মানুষের কথার পাশাপাশি তিনি দেশের সমগ্র খেতে খাওয়া, মেহনতি, শ্রমজীবী মানুষের কথা বলে গিয়েছেন।

ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. খায়রুল চৌধুরী বলেন, মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষের আকাঙ্খাকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলার জন্য পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি গঠন করেছিলেন । তিনি চেয়েছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম একটি স্বতন্ত্র রাজনৈতিক ব্যবস্থায় পরিচালিত হবে, শাসনতন্ত্রে জুম্ম জনগোষ্ঠীর স্বীকৃতি থাকবে। কিন্তু ১৯৭২ সালের সংবিধান জুম্ম জনগোষ্ঠীর স্বীকৃতি দিতে পারেনি। যার কারণে তিনি স্বশস্ত্র বাহিনী গঠন করার মধ্যে দিয়ে ইস্পাত কঠিন আন্দোলনের মাধ্যমে অধিকার আদায় করতে চেয়েছিলেন।

এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক এ্যাডভোকেট শামসুল হুদা বলেন, এম এন লারমা রাজনৈতিক আদর্শে অত্যন্ত সৎ ছিলেন। যার কারণে তিনি তার অঞ্চলের নিপীড়িত মানুষের কথা, দেশের গরীব কৃষকের কথা সংসদে অকপটে বলতে পেরেছিলেন। তিনি আরো বলেন, এম এন লারমার রাজনৈতিক প্রাজ্ঞ, মূল্যবোধ থেকে শিক্ষা নিয়ে প্রতিটি তরুণকে মানবিক রাষ্ট্র গঠনের কাজে মনোনিবেশ করতে হবে।

কবি ও সাংবাদিক সোহরাব হাসান বলেন, এম এন লারমা কেবল পার্বত্য চট্টগ্রামের নেতা নয়, তিনি জাতীয় নেতা। তার জীবনাদর্শ, তার চেতনাকে স্মরণ করা সকলের দায়িত্ব। তিনি বলেন, এম এন লারমা একটি মানবিক সমাজ চেয়েছিলেন যে সমাজে মানুষের মাঝে কোন বিভেদ থাকবেনা, বৈষম্য থাকবেনা। প্রতিটি মানুষ, প্রতিটি জনগোষ্ঠী তার স্বকীয় ঐতিহ্য, রীতিনীতি, ধর্ম দ্বিধাহীন ভাবে পালন করতে পারবে।

সভাপতির বক্তব্যে সঞ্জীব দ্রং বলেন, সামন্তকালীন সময়েও মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা মানবিক সমাজের কথা বলেছিলেন, শিক্ষা বিস্তারের কাজে মনোনিবেশ করেছিলেন। এম এন লারমার দেশের প্রতি, দেশের মানুষের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা ছিল। এম এন লারমার চেতনা, তার আদর্শ তরুণ প্রজন্মের মধ্যে সঞ্চারিত হওয়ার মধ্যে দিয়ে এম এন লারমার স্বপ্ন বাস্তবায়ন হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

--হিলবিডি২৪/সিআর.

এই বিভাগের সর্বশেষ
আর্কাইভ