জুরাছড়িতে মানবিক সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে ৯৯৩পরিবার!

Published: 08 May 2020   Friday   

করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় কর্মহীন ও হতদরিদ্রদের জন্য মানবিক সহায়তা কর্মসূচী থেকে বঞ্চিত হতে যাচ্ছে রাঙামাটির জুরাছড়ি উপজেলার দুর্গম মৈদং ও দুমদুম্যা ইউনিয়নবাসীরা। শুধুমাত্র মোবাইল নাম্বার না থাকায় ৯৯৩ পরিবার এ সহায়তা থেকে বঞ্চিত হতে যাচ্ছে বলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানিয়ছেন।


খোজ নিয়ে জানা গেছে, করোনা ভাইরাস মোকোবেলায় মানবিক সহায়তা কর্মসূচী চালুর উদ্যোগ নেয় সরকার। এ কর্মসূচীর অন্তঃভুক্তির গুরুত্বপূর্ন শর্ত হচ্ছে সুবিধাভোগীর মোবাইল নাম্বার থাকতে হবে। কিন্তু জুরাছড়ি উপজেলার মৈদং ও দুমদুম্যা ইউনিয়নবাসীর শুধুমাত্র মোবাইল নাম্বার না থাকায় ৯৯৩ পরিবার এ সহায়তা থেকে বঞ্চিত হতে যাচ্ছে। এই দুই ইউনিয়নের লোকজন একমাত্র জুম চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। এর মধ্যে জুরাছড়ি সদর উপজেলা থেকে মৈদ্যং ইউনিয়নের দুরত্ব হচ্ছে ৫০ কিলোমিটার এবং দুমদুম্যা ইউনিয়নের দুরত্ব প্রায় ১শ কিলোমিটার।


খোজ নিয়ে জানা গেছে, দুর্গম মৈদং ইউনিয়নের ভুয়াতলী ছড়ার সোনালী চাকমা। তার স্বামী দু’বছর আগে মারা গেছেন। করোনা ভাইরাসে অঘোষিত লক ডাউনে তিন সন্তান নিয়ে আধা পেট খেয়ে কষ্টে দিন যাপন করছেন। সরকারের মানবিক সহায়তা কর্মসূচীর চালুর খবর পেয়ে তিনি খুশি হলেও মোবাইল নাম্বার দিতে না পারায় তার নাম বাদ পড়েছে। শুধু তিনি নন কঞ্চন মালা চাকমা, ধনবী চাকমা, রূপসী চাকমাসহ অনেকে এই তালিকা থেকে বাদ পড়ায় হতাশ তারা।


দুমদুম্যা ইউনিয়নের প্রবীন হেডম্যান সমূর পাংখোয়া জানান, মোবাইল কি জিনিস সেখানকার লোকজন জানে না। মোবাইল নাম্বার কোথা থেকে দেবে। বগাখালীর ৫৫ বয়সী জলছড়ি পাংখোয়া জানান, মোবাইল কি জিনিস ! নাম্বার কোথা থেকে দেবো। জাতীয় পরিচয়পত্র দেখিয়ে বলে এটা নাকি? একই ইউনিয়নের কন্যামনি তঞ্চঙ্গ্যা (৬০) জানান, এক মাস ধরে এক বেলা ভাত খেয়ে অন্য বেলা জঙ্গলী আলু খেয়ে দিন পার করছি। সরকারি চাল দেবে শুনেছি অনেক উপকার হবে।


দুমদুম্যা ইউপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সাধন কুমার চাকমা জানান, জুরাছড়ির সবচেয়ে দুর্গম হচ্ছে দুমদুম্যা ইউনিয়ন। সেখোনে যেতে ৫ থেকে ৬ দিন সময় লেগে যায়। ইউনিয়নে মোবাইল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারনে সরকারের কাছে দাবী জানালেও কোল ফলপ্রসূ হয়নি। অথচ শুধু মাত্র মোবাইল নাম্বার না থাকায় প্রধানমন্ত্রীর মানবিক সহায়তা থেকে ইউনিয়নকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। তিনি জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে মোবাইল নাম্বার ছাড়া প্রান্তিক জনগোষ্ঠীদের অন্তঃভুক্ত করা দাবী জানান।


জুরাছড়ি অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রাপ্ত প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা অর্পন দেওয়ান বলেন, মানবিক সহায়তা প্রাপ্তি নির্দেশিকা অনুযায়ী করোনা ভাইরাসে ক্ষতিগ্রস্থের নামের সাথে অবশ্যই মোবাইল নাম্বার দিতে হবে। মোবাইল নাম্বার না থাকলে মানবিক সহায়তা সফটওয়ারে তার নাম অন্তঃভুক্ত করা যাবে না।


উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মাহফুজুর রহমান জানান, দুমদুম্যা ইউনিয়নের মোবাইল নেটওয়ার্ক না থাকার বিষটি নিশ্চিত করে বলেন এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকে অবহিত করা হয়েছে।


উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সুরেশ কুমার চাকমা বলেন, দুমদুম্যা ইউনিয়নে কোন মোবাইল নেটওয়াক নেই, সুতরাং সেখানকার অধিকাংশ জনগোষ্ঠীর মোবাইল ব্যবহার কওে না। যারা উপজেলা সদরে আসা-যাওয়া করে বিশেষ করে ওয়ার্ড সদস্যদের মোবাইল নাম্বার ব্যবহার করে। তিনি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীদের এ কর্মসূচীর সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরী বলে মন্তব্য করেন।
--হিলবিডি২৪/সম্পাদনা/সিআর.

উপদেষ্টা সম্পাদক : সুনীল কান্তি দে
সম্পাদক : সত্রং চাকমা

মোহাম্মদীয়া মার্কেট, কাটা পাহাড় লেন, বনরুপা, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা।
ইমেইল : [email protected]
সকল স্বত্ব hillbd24.com কর্তৃক সংরক্ষিত