জলবায়ু পরিবর্তন অভিযোজনে পার্বত্য এলাকায় প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সার্বিক উন্নয়ন বিষয়ক জেলা পর্যায়ে রাঙামাটিতে মতবিনিময় সভা

Published: 30 Nov 2020   Monday   

 

জলবায়ু পরিবর্তন অভিযোজনে পার্বত্য এলাকায় প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সার্বিক উন্নয়ন বিষয়ক জেলা পর্যায়ে সোমবার রাঙামাটিতে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।


রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের এনেক্স ভবনে বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা হিল ফ্লাওয়ারের আয়োজনে ও মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে মত বিনিময় সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বৃষকেতু চাকমা। বক্তব্যে দেন রাঙামাটি জেলা ডেপুটি সিভিল সার্জন ডাঃ নিতীশ চাকমা, হিল ফ্লাওয়ারের নির্বাহী পরিচালক ডাঃ নীলু কুমার তংচংগ্যা, বালুখালী ইউপি চেয়ারম্যান বিজয়গিরি চাকমা। হিল ফ্লাওয়ারের প্রজেক্টের উপর ধারনা দেন প্রজেক্ট ম্যানেজার জ্যোতি বিকাশ চাকমা। অনুষ্ঠানে সরকার-বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা ছাড়াও সুফলভোগী ও সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


 এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাঃ আশরাফুল ইসলাম, রাঙ্গামাটি সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ শহীদুজ্জামান মহসীন, রাঙ্গামাটি সদর উপজেলা পরিষদের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাতেমা তুজ জোহরা উপমা, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক পবন কুমার চাকমা, রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয় এর সহকারী অধ্যাপক ড. নিখিল চাকমা, জেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ বরুন কুমার দত্ত, ডেপুটি সিভিল সার্জন ডাঃ নীতিশ চাকমা, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আপু মারমা, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা শ্রীবাস চন্দ্র চন্দ, রাঙ্গামাটি সহকারী বন সংরক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক হাসনে আরা বেগম, উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ প্রিমা মহাজন, জেলা সমাজসেবা কার্যালয় এর সহকারী পরিচালক বিশ^জিৎ চাকমা, ভাইজ্যাতলী মৌজার হেডম্যান থোয়াই অং মারমা, বিলাইছড়ি হেডম্যান শান্তি বিজয় চাকমা, বালুখালী ইউনিয়ন পরিষদ এর চেয়ারম্যান বরুন বিকাশ চাকমা ও প্রকল্পের বিভিন্ন গ্রাম কমিটির উপকারভোগী সদস্যবৃন্দ।


অনুষ্ঠানে বক্তারা বাল্য বিবাহ প্রতিরোধ, নারীর প্রতি সহিংসতা বিষয়ে সচেতনা সৃষ্টির জন্য আহ্বানের পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তন কারণে পরিবেশে যে বিরুপ প্রভাব পড়ছে তা গ্রামীণ সাধারন বন(ভিসিএফ) কে সংরক্ষন করতে পারলে পরিবেশে বিরাট ভূমিকা রাখতে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন।


রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বৃষ কেতু চাকমা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন জনিত প্রভাবের কারণে তাপমাত্রা বৃদ্ধি, অনাবৃষ্টি ও খরার প্রাদুর্ভাবের ফলে পার্বত্য চট্টগ্রামের পানিসম্পদ বেশী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ অঞ্চলের তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে শুকনো মৌসুমে খরার সময় পাহাড় শুকিয়ে যাওয়ার ফলে আবাদি জমি অনাবাদিতে পরিণত হচ্ছে। পানিজনিত নানা রোগের প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়ছে। এছাড়াও কৃষি জমিতে প্রয়োজনের অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ব্যবহার, পাহাড়ের গাছপালা কেটে ফেলা ও সমতল জমিতে তামাক চাষ, ঝিরি/ছড়া থেকে পাথর উত্তোলন, পরিবেশ বান্ধব নয় এমন গাছ লাগানো ইত্যাদির কারণে ধীরে ধীরে পাহাড়ে পানির প্রাপ্যতা কমে যাচ্ছে।


তিনি আরো বলেন, পানির প্রাপ্যত্য কমে যাওয়ায় স্থানীয় জনগোষ্ঠীর খাওয়া, গোসল, কাপড় ধোয়াসহ দৈনন্দিন কর্মকান্ড ব্যাহত হচ্ছে। অপরিকল্পিত জুম চাষের ফলে প্রাকৃতিক বন যেমন উজাড় হচ্ছে তেমনি বন্যপ্রাণীও প্রায় বিলুপ্তির পথে। তাই জুম কাটার সময় ছড়া বা ঝিরির আশেপাশে কম করে হলেও ২০ থেকে ৩০ মিটার বন সংরক্ষণ ও সুরক্ষিত রাখা এবং এলাকাভিত্তিক সামাজিক বনায়ন সৃষ্টি করে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করতে হবে।
--হিলবিডি২৪/সম্পাদনা/সিআর.

 

উপদেষ্টা সম্পাদক : সুনীল কান্তি দে
সম্পাদক : সত্রং চাকমা

মোহাম্মদীয়া মার্কেট, কাটা পাহাড় লেন, বনরুপা, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা।
ইমেইল : [email protected]
সকল স্বত্ব hillbd24.com কর্তৃক সংরক্ষিত