পাহাড়ে রক্তপাত হানাহানি ও চাঁদাবাজি বন্ধে সরকার সব কিছুই করবে- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

Published: 26 May 2022   Thursday   

পার্বত্য চট্টগ্রামে যেসব স্থানে সেনাবাহিনীর ক্যাম্প প্রত্যাহার করা হয়েছে, সেখানে এপিবিএন পুলিশ ক্যাম্প মোতায়েন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল।


তিনি বলেন, ‘পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষে সেনাবাহিনী দীর্ঘকাল ধরে কাজ করছে। তাদের সাথে আলাপ-আলোচনা করে এবং চুক্তি অনুযায়ী এই পরিত্যক্ত ক্যাম্পগুলোতে পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এলাকায় শান্তি শৃংখলা বজায় রাখতে এসব পুলিশ ক্যাম্পগুলো দায়িত্ব পালন করবে।


বৃস্পতিবার রাঙামাটি পুলিশ লাইনস সুখী নীলগঞ্জে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নস্ এর পার্বত্য আঞ্চলিক দপ্তর ও তিন পার্বত্য জেলায় তিনটি আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন কার্যালয়ের এর ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন উপলে আয়োজিত সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।


তিনি আরো বলেন, পাহাড়ে রক্তপাত হানাহানি ও চাঁদাবাজি বন্ধে যা কিছু করা প্রয়োজন তাই সরকার করবে। কারণ পার্বত্য চট্টগ্রাম একটি সম্ভাবনাময় অঞ্চল এটিকে কিছুতেই অশান্তি হতে দেওয়া যাবে না।


স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মোঃ আখতার হোসেন এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বীর বাহাদুর ঊশৈ সিং এমপি, খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি দীপংকর তালুকদার এমপি, খাগড়াছড়ি জেলার সংসদ সদস্য কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এমপি, সংরতি আসনের মহিলা সংসদ সদস্য বাসন্তি চাকমা, মন্ত্রী পরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম, চট্টগ্রাম ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল মোঃ সাইফুল আবেদীন, বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক বেনজির আহমেদ, র‌্যাবের মহাপরিচালক আব্দুল্লাহ মামুন, এপিবিএনের আইজিপি হাসানুল হায়দার, ডিজিএফআই প্রধান মেজর জেনারেল আহমেদ তাবরেজ শামস চৌধুরী, তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানগণ,তিন পার্বত্য জেলা প্রশাসকগণ, তিন সার্কেল চীফগন। এসময় সামরিক-বেসামরিক উর্দ্ধতন কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি,বিভিন্ন পেশাজীবি নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক বেনজির আহমেদ, পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তির সুবাতাসের লক্ষে ১৯৯৭ সালে পার্বত্য শান্তি চুক্তি সই হয়। কিন্তু এক শ্রেনীর মানুষ মাথা সাড়া দিয়ে উঠেছে। তারা আবার চাদাবাজি খুন অপহরণসহ রক্তের হলি খেলা খেলা খেলছে। চাদাবাজি সন্ত্রাসীর কার্যক্রমের কারণে এ এলাকায় উন্নয়ন বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। তিনি এসব সন্ত্রাসীদের এসব অপকর্ম ছেড়ে দিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার আহ্বান জানান। তা না হলে জনগণকে সাথে নিয়ে আইন-শৃংখলা বাহিনী তাদের অপকর্ম নির্মূল করবে।


চাকমা চীফ বারিষ্টার দেবাশীষ রায় এপিবিএন ক্যাম্প স্থাপন ও শান্তি শৃংখলা বজায় রাখার ক্ষেত্রে প্রথাগত নেতৃত্ব ও এলাকার মানুষের যাতে মানবধিকার লংঘিত না হয় তার আহŸান জানিয়ে বলেন,এপিবিএনসহ অন্যান্য আইন-শৃংখলা বাহিনী ও নিরাপত্তা বাহিনীর ভূমিকা পার্বত্য চুক্তির সাথে সংগতিপূর্নভাবে হয়, পার্বত্য চুক্তি অনুযায়ী জেলা পরিষদ আইন অনুযায়ী তিন পার্বত্য জেলা থেকে বিভিন্ন জাতিসত্বা থেকে সাব ইন্সপেক্টর নিয়োগ দেওয়া হয় এবং পার্বত্য চুক্তির অবাস্তবায়িত ধারাগুলো শিগগিরই বাস্তবায়নের জন্য সরকারের কাছে আহ্বান জানান।


পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বীর বাহাদুর ঊশৈ সিং এমপি সন্ত্রাস, খুলাখুনি কোন সমস্যা সমাধানের পথ নয় উল্লেখ করে বলেন, সমস্যা থাকলে তুলে ধরতে হবে, সমস্যা সমাধানের জন্য আমরা সবাই মিলে চেষ্টা করবো। পার্বত্য চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে দীর্ঘ চব্বিশ বছরের সমাধান করেছি। আমাদের এ এলাকাকে উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিজেদেরকে সম্পৃক্ত করতে হবে। যারা বিপদগামী রয়েছেন তাদের সঠিক পথে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, যারা সন্ত্রাস করছে, যারা বিপথে রয়েছেন তারা ভালো পথে আসলে আমরা তাদের জন্য ফুলের মালা নিয়ে দাড়িয়ে রয়েছি। আমরা সন্ত্রাস লালনে দুরে থেকে যাতে ভবিষ্যত বংশধরকে সুন্দর পরিবেশ গড়ে তুলি। আমরা যদি ভালো, সুন্দর, শান্তির পথে গেলে এখানে ঘন ঘন ক্যাম্প, পুলিশ আইন শৃংখলা প্রয়োজন পড়ে না। আর না হলে আইন-শৃংখলা বাহিনী জনগনের জানমাল নিরাপত্তার জন্য যা করার তাই করবে।
--হিলবিডি২৪/সম্পাদনা/সিআর.

উপদেষ্টা সম্পাদক : সুনীল কান্তি দে
সম্পাদক : সত্রং চাকমা

মোহাম্মদীয়া মার্কেট, কাটা পাহাড় লেন, বনরুপা, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা।
ইমেইল : info@hillbd24.com
সকল স্বত্ব hillbd24.com কর্তৃক সংরক্ষিত