বন উজাড়ের কারণে দিন দিন পার্বত্যাঞ্চলে পানির উৎস হারিয়ে যাচ্ছে

Published: 22 Mar 2016   Tuesday   

বিশ্ব পানি দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার রাঙামাটিতে জল জীবিকার স্বীকৃতি: স্থানীয় প্রেক্ষিত শীর্ষক সিম্পোজিয়াম অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

 

এতে বক্তারা দেশের সমতল অঞ্চলের তুলনায় পার্বত্য অঞ্চলের ভৌগলিক অবস্থা ভিন্ন। এখানে যেখানে সেখানে রিংওয়েল বা টিউবওয়েল বসানো সম্ভব হয় না। যার ফলে পাহাড়ের ছড়া, ঝিড়ি, ঝর্ণার পানির উপরই দূর্গম এলাকার মানুষদের ভরসা করে চলতে হয়। এসব ছড়া, ঝিড়ি, ঝর্ণার পানির একমাত্র উৎস হচ্ছে বন। কিন্তু সচেতনতার অভাবে পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রত্যান্ত অঞ্চলের লোকজন বন উজাড় করার কারণে দিন দিন পানির উৎসগুলো হারিয়ে যাচ্ছে।


রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের আয়োজনে ও স্থানীয় বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা এনজিও ফোরাম এবং প্রগ্রেসিভ এর সহযোগিতায় প্রধান অতিথি হিসেবে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ সদস্য রেমলিয়ানা পাংখোয়।

 

রাঙামাটি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী অচিউর রহমানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন দৈনিক প্রথম আলোর স্টাফ রিপোর্টার হরি কিশোর চাকমা, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের সমন্বিত সমাজ উন্নয়ন প্রকল্প (আইসিডিপি)’র উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা মঞ্জু মানস ত্রিপুরা। স্বাগত বক্তব্য দেন প্রগ্রেসিভ এর নির্বাহী পরিচালক সুচরিতা চাকমা। জল ও জীবিকা নিয়ে প্রবন্ধ পাঠ করেন স্থানীয় বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা হিলেহিলির উপদেষ্ঠা তনয় দেওয়ান। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন এ্যাডভোকেট কক্সী তালুকদার।


বক্তারা আরও বলেন, শহরের চাইতে সরকারী বেসরকারীভাবে গ্রাম পর্যায়ে বন সংরক্ষণ ও পানি সংগ্রহের বিষয়ে সাধারণ মানুষদের অবহিত ও সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন। এছাড়া যেসব দূর্গম এলাকায় দু একটি রিং বা টিউবওয়েল স্থাপন করা হচ্ছে সে এলাকার গ্রাম উন্নয়ন কমিটিকে রিং বা টিউবওয়েল মেরামত বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করা প্রয়োজন। যাতে করে নষ্ট হলেই তা দ্রুত ঠিক করা যায়।


বক্তরা বলেন, কৃত্রিম কাপ্তাই হ্রদের নৌ চলাচল নির্বিঘ্নে করা ও দূষন রোধে কচুরিপানা নিংয়ন্ত্রন করা। এ লক্ষে কচুরিপানার কম্পোস্ট তৈরিতে কৃষক পর্যায়ে প্রণোদনা ও কারগরি সহায়তা প্রদান করা। এতে করে কচুরিপানা জঞ্জাল নয় সম্পদে পরিণত হবে।


বক্তারা বলেন, পাহাড়ে সংরক্ষণমূলক কৃষি চাষাবাদে উদ্বুব্ধ করা। এতে এক প্রজাতির বনায়ন হ্রাস পাবে। পাহাড় বৃদ্ধি পাবে ও বছর জুড়ে আত্নকর্মসংস্থান ঘটবে। পরিনতিতে পাহাড় ছড়া বেঁচে যাবে, জীববৈচিত্র সংরক্ষিত হবে।


বক্তারা বৃষ্টির পানি ধরে রাখার উপর গুরুত্বারোপ করে বিনামূল্যে সংরক্ষণাগার ও লাগসই প্রযুক্তি সহায়তা প্রদান,সবার জন্য পানি নিশ্চিতকরনে পরিকল্পনা গ্রহণ এবং এতে নারী ও শিশুদের অংশগ্রহণ ও মতামত সুনিশ্চিত এবং পাহাড়ের বৈচিত্র্য ও মানুষের অভ্যাসকে ভিত্তি করে পানি ব্যবহারে সচেতনতা সৃষ্টি করার জন্য  সুপারিশ তুলে ধরেন ।
--হিলবিডি২৪/সম্পাদনা/সিআর.

উপদেষ্টা সম্পাদক : সুনীল কান্তি দে
সম্পাদক : দিশারি চাকমা
মোহাম্মদীয়া মার্কেট
কাটা পাহাড় লেন, বনরুপা
রাঙামাটি পার্বত্য জেলা।
ইমেইল : [email protected]
সকল স্বত্ব hillbd24.com কর্তৃক সংরক্ষিত