লেকার্স পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজের রজত জয়ন্তী উৎসব উপলক্ষে বর্নাঢ্য র‌্যালী

Published: 28 Feb 2018   Wednesday   

রাঙামাটির অন্যতম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান লেকার্স পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজের ২৫ বচল পূর্তি উপলক্ষে বুধবার থেকে দুই দিনের রজত জয়ন্তী উৎসব ও প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রীদের পূর্ণ মিলনী শুরু হয়েছে। রজতজয়ন্তী উপলক্ষে সকালে রাঙামাটি শহরে বের করা হয় বর্নাঢ্য  র‌্যালী। 

 

সকালে বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে দুদিনের রজতজয়ন্তী উৎসবের উদ্বোধক ও প্রধান অতিথি ছিলেন সেনাবাহিনীর ২৪ পদাতিক ডিভিশনের চট্টগ্রাম এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল জাহাঙ্গীর কবির তালুকদার।


প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি রাঙামাটি লেকার্স পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ এই অঞ্চলের একটি শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ। এটা একটা স্বপ্ন দেখানোর জায়গা এবং তা বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য উদাহরণ। তিনি বলেন , যেখানে একি সাথে একি প্লাটফর্মে বিভিন্ন ধর্মের মানুষের ছেলে মেয়েরা লেখা পড়া করছে। সম্প্রীতির সাথে তারা শিক্ষা কার্যক্রম চালাচ্ছে। এই উদাহরণ পুরো বাংলাদেশে ছড়িয়ে পড়া উচিত এবং তা সকলের চাওয়া বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি লেকার্সে প্রত্যেক শিক্ষার্থী ও শিক্ষক-শিক্ষিকা ও অভিভাবদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন,তারা এই অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি করেছে। এই উদাহরণ বাংলাদেশের জন্য প্রশংসার দাবীদার।


রাঙামাটি সেনা রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল গোলাম ফারুক-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে গেষ্ট অব অনার ছিলেন পার্বত্য মন্ত্রনালয়ের সাবেক প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদার। বক্তব্যে রাখেন রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপার্চায্য ড. প্রদানেন্দু বিকাশ চাকমা, রাজ পরিবারের সদস্য কুমার নন্দিত রায় ও লেকার্স পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ নাসনিন নাহার প্রমুখ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা মরহুম মেজর জেনারেল আহসান নাজুমল আমিনের স্বরণে শিক্ষা বৃত্তির উদ্বোধন ও স্কুলের মেধাবী ১৫জন শিক্ষার্থীর হাতে শিক্ষা বৃত্তি বিতরণ করেন।


এর আগে বিদ্যালয়টির ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত বর্নাঢ্য র‌্যালীর উদ্বোধন করেন পার্বত্য মন্ত্রনালয়ের সাবেক প্রতিমন্ত্রী তালুকদার। উদ্বোধনের পর পর রাঙামাটি শহরে বনার্ঢ্য র‌্যালী বের করা হয়। র‌্যালীটি শহরের প্রধান সড়ক ঘুরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়। এছাড়া বিদ্যালয়ের রজতজয়ন্তী উপলক্ষে উপস্থিত অতিথিরা বিশালাকার কেট কাটেন। দুই দিন ব্যাপী রজত জয়ন্তী অনুষ্ঠানে শিক্ষা সম্মাননা, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান রয়েছে।

 

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জিওসি আরো বলেন, ২৫ বছর সময় একটি বিদ্যাপীঠের জন্য খুব বড় এটা সময় নয়। একটা বিদ্যাপীঠ গড়ে তুলতে অনেকের শ্রম নিষ্ঠা এবং দীর্ঘদিন সময় লাগে। ২৫ বছরে রাঙামাটির এই বিদ্যাপীঠ যে পথ অতিক্রম করে এসেছে তা খুব সহজ ছিল না। এই পথ চলাটা ছিল অনেক কষ্টের। তার পরেও এই বিদ্যাপীঠটি যে পর্যায়ে এসেছে তা রাঙামাটিরবাসীর অবদান। সবার ঐক্লান্তিক চেষ্টায় ও ভালবাসায় এই বিদ্যাপীঠ আরো অনেক দুরে এগিয়ে যাবে। 

 

তিনি বলেন, এই বিদ্যাপীঠ প্রতিষ্ঠায় যাদের অবদান ছিল তাদের অবশ্যই স্বরণ করা হবে। বিদ্যালয়ের রজত জয়ন্তীতে লেকার্সের প্রতিষ্ঠাতা মরহুম মেজর জেনারেল আহসান নাজমুল আমিন এর নামে শিক্ষা বৃত্তি চালুর ঘোষনা দেন তিনি।


শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে জিওসি বলেন, শিক্ষার্থীদের প্রথমে ভাল ভাবে শিক্ষা গ্রহন করতে হবে। শিক্ষা অর্থ বিশাল ও ব্যাপক। মনে রাখতে হবে, পুথিগত বিদ্যা অর্জনের পাশাপাশি চরিত্র গঠনের মাধ্যমে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে হবে। চরিত্র গঠনের বিশাল অনুসঙ্গ হচ্ছে শিক্ষা। যে শিক্ষিত তিনি যদি চরিত্রবান না হন তাকে দিয়ে অনেক খারাপ কাজ করার আশংকা থাকে। শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য হতে হবে শিক্ষার পাশাপাশি চরিত্র গঠন করা এবং সমাজে ভালভাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করা।


তিনি বলেন, লেকার্সে পড়ালেখা করে ইতোমধ্যে যারা বেড়িয়ে গেছে তারা সমাজে ভালভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে ভাল কাজ করছে। আজ যারা শিক্ষার্থী তাদের দিকে সকলে তাকিয়ে আছে তারা বড় হয়ে দেশ ও জাতির মানসম্মান দেশে ও পুরো বিশ্বে ছড়িয়ে দেবে। সকলেই আকাশের নক্ষত্র হয়ে জ্বলবে এবং মানুষের মত মানুষ হয়ে প্রমাণ করে দেবে বাংলাদেশের মানুষ সবাইকে ভালবাসে, বাংলাশের মানুষ চরিত্রবান, বাংলাদেশের মানুষ শিক্ষাকে কাজে লাগিয়ে মানবতার কল্যাণে ভাল কাজ করছে এবং ভাল কাজ করে যাবে।


উৎসব অনুষ্ঠানের গেষ্ট অব অনার সাবেক পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদার বলেন, লেকার্স পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ আজ রাঙামাটিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমূহের মধ্যে প্রথম সারিতে এগিয়ে রয়েছে। অথচ এই স্কুল প্রতিষ্ঠার সময় অনেকেই সমালোচনা করেছিল। আজ এই স্কুলের সাফল্য সেইসব সমালোচকদের মুখে ছাই দিয়েছে।


তিনি লেকার্স পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করে বলেন, স্কুলের শিক্ষার্থী ও শিক্ষক-শিক্ষিকা ও অভিভাবকদের ঐক্লান্তিক প্রচেষ্ঠায় এই বিদ্যালয় আরো সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারবে।

 

রাঙামাটি সেনা রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল গোলাম ফারুক বলেন, রাঙামাটি লেকার্স পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজের যে সুনাম অর্জন করেছে তার অবদান এই অঞ্চলের মানুষের। লেকার্স স্কুল এন্ড কলেজ আজ রাঙামাটির মধ্যে একটি অন্যতম শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।


তিনি ঘোষণা দিয়ে বলেন, রাঙামাটিতে অচিরেই আলাদা করে ক্যান্টেনম্যান্ট পাকলিক স্কুল এন্ড কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হবে। ইতোমধ্যে এই কাজের অনেক দুর এগিয়ে গেছে বাকি কাজ শেষ হলে রাঙামাটিতে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে। তিনি লেকার্স স্কুল এন্ড কলেজের রজত জয়ন্তী উৎসবে আগত প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবকসহ সংশ্লিষ্ট সকলের ঐক্লান্তিক প্রয়াসে এই বিদ্যাপীঠ আরো এগিয়ে যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
--হিলবিডি২৪/সম্পাদনা/সিআর.

উপদেষ্টা সম্পাদক : সুনীল কান্তি দে
সম্পাদক : সত্রং চাকমা

মোহাম্মদীয়া মার্কেট, কাটা পাহাড় লেন, বনরুপা, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা।
ইমেইল : info@hillbd24.com
সকল স্বত্ব hillbd24.com কর্তৃক সংরক্ষিত