দুই ত্রিপুরা কিশোরীর হত্যাকারীদের শাস্তির দাবিতে ঢাকায় মানববন্ধন ও সমাবেশ

Published: 25 May 2018   Friday   

চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে দুই ত্রিপুরা কিশোরীকে হত্যারকারীদের শাস্তির দাবীতে শুক্রবার ঢাকায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ আদিবাসী ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ ও বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম।

 

মানববন্ধনে বক্তারা ঘটনার সাথে জড়িতদের অতি দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে বলেন, সারাদেশ ধর্ষকদের অভয়্যারণ্যে পরিণত হচ্ছে। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়ায় সারাদেশে ধর্ষণ বাড়ছে।


বাংলাদেশ আদিবাসী ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ সভাপতি উইলিয়াম নকরেক এর স্বাক্ষরিত এক প্রেস বার্তায় বলা হয়,সকালে শাহবাগস্থ জাতীয় জাদু ঘরের সামনে ঘন্টাব্যাপী মানবন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধন চলাকালে বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারন সম্পাদক সঞ্জীব দ্রংএর সভাপতিত্বে অন্যান্যর মধ্যে বক্তব্যে দেন বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ ঐক্য ন্যাপের সভাপতি পঙ্কজ ভট্টাচার্য, অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস,বিশিষ্ট নাট্যকার, অভিনেতা ও সাস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মামুনুররশীদ, জাতীয় আদিবাসী পরিষদের সভাপতি রবীন্দ্র নাথ সরেন,আদিবাসী নেত্রী রাখি ম্রং, ফাল্গুনী ত্রিপুরা,কাপেং ফাউন্ডেশনের পরিচালক পল্লব চাকমা, আদিবাসী ফোরামের সদস্য হিরণ মিত্র চাকমা, ত্রিপুরা কল্যাণ সংসদের সভাপতি বরেন্দ্র লাল ত্রিপুরা প্রমুখ। এসময় বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


মানবন্ধন থেকে দুই ত্রিপুরা আদিবাসী কিশোরীর হত্যাকারীদের ধর্ষণ ও হত্যার সাথে জড়িত সকল আসামীদের দ্রুত গ্রেফতার করে শাস্তির আওতায় নিয়ে আসা,নিহত দুই পরিবারকে যথাযথভাবে ক্ষতিপূরণ প্রদান, সীতাকু-ের আদিবাসী পাড়ায় বখাটেদের উৎপাত বন্ধসহ আদিবাসী নারী ও পরিবারগুলোর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও সারাদেশে আদিবাসী নারীদের প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে রাষ্ট্রকে গুরুত্বসহকারে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী জানানো হয়।


সমাবেশে বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ পঙ্কজ ভট্টাচার্য বলেন,মাদক ব্যবসায়ীদের প্রতি জিরোটলারেন্স হচ্ছে কিন্তু ধর্ষকদের জিরো টলারেন্স হচ্ছে না। তিনি প্রশ্ন রেখেবলেন, রাষ্ট্র তুমি কার? রাষ্ট্র তুমি ধর্ষকের কিনা, রাষ্ট্র তুমি হত্যাকারী কিনা? রাষ্ট্র তুমি পাকিস্তানি মনস্তত্বের কিনা;আজ এ প্রশ্ন সর্বত্র দেখা দিয়েছে। তিনি ধর্ষক ও হত্যাকারীদের শাস্তি দাবি করেন।

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস বক্তব্যে বলেন, ধর্ষণের এ ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়,বাংলাদেশকে সংখ্যালঘুদের থেকে সংখ্যা শূণ্য করার যে রাজনৈতিক প্রক্রিয়া আদিবাসীদেরকে যে প্রান্তিকতার অবস্থানকে আরও প্রান্তিক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার যে রাজনৈতি কপ্রক্রিয়া এটি তারই অংশ হিসেবে ধর্ষণটি করা হয়। তিনি আরও বলেন, আদিবাসীদেরকে তাদের জায়গাজমি সম্পদ দখল করার জন্য তাদেরকে চারভাগে আক্রমণ করা হয়। প্রথমত, তাদের যে রুটি রুজির ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, সেখানে আক্রমণ করা হয়। এটিতে কাজ না হলে, তাদের বসতবাটিতে আক্রমণ করা হয় তাতেও যদি কাজ না হয়, তাদের যে বিশ্বাসের জায়গা সেই উপাসনালয়ে আগুন দেয়া হয় ও ধ্বংস করা হয়। এই তিনটিতে কাজ না হলে আদিবাসী চতুর্থত আদিবাসী নারীকে ধর্ষণ করা হয়। যাতে সামাজিক লোক লজ্জার ভয়ে সেই আদিবাসী জনগোষ্ঠী সেই কমিউনিটির মধ্যে যেন বাস করতে না পারে এবং দেশত্যাগের বাধ্য হয়। ধর্ষণকে তিনি ন্যক্কারজনক ঘটনাউল্লেখ্য করে, তিনি জড়িতদের শাস্তি দাবি করেন।


বিশিষ্ট নাট্যকার, অভিনেতা ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মামুনুররশীদ বলেন, ধর্ষণ সারাদেশেই হচ্ছে কিন্তু আদিবাসী জনগোষ্ঠীর উপর সংগঠিত উপায়ে হচ্ছে। তবে আদিবাসী নারীদের উপর ধর্ষণ হচ্ছে, নিপীড়ন হচ্ছে একই সাথে আমাদের বাঙালিদের উপর যে হচ্ছে না তা নয়। কিছু দিন আগে মধুপুরে একজন বাস চালক একজন নারীকে ধর্ষণ করে হত্যা করেছে। জানি না এর বিচারই বা ক’দিন পরে হবে, কবে হবে।তিনি সারাদেশে আদিবাসীদের রক্ষার জন্য সবারপ্রতিআহ্বানজানান।


সভাপতির বক্তব্যে সঞ্জীব দ্রং বলেন, আমরা এমন বাংলাদেশ চাই নাই, আমরা চেয়ে ছিলাম একটি মানবিক, সংবেদনশীল, প্রগতিশীল, অসাম্প্রদায়িক একটি রাষ্ট্র, যে রাষ্ট্রের সরকার হবে মানবিক। আমরা রোহিঙ্গাদের জন্য মানবিকতার সবোর্চ্চ মানবিকতা প্রদর্শন করলাম কিন্তু আদিবাসী মানুষের সাথে, সংখ্যালঘু, জাতিগত, মানুষের সাথে আমরা একটি দৈত্য মানবিক আচরণ করে ফেলেছি। আরও বলেন, আমাদে ররাষ্ট্র কোন না কোন সময় একদিন মানবিক, সংবেদনশীল, প্রগতিশীল, অসাম্প্রদায়িকও অনুভূতি প্রবণ হবে।

--হিলবিডি২৪/সম্পাদনা/সিআর.

 

উপদেষ্টা সম্পাদক : সুনীল কান্তি দে
সম্পাদক : সত্রং চাকমা

মোহাম্মদীয়া মার্কেট, কাটা পাহাড় লেন, বনরুপা, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা।
ইমেইল : info@hillbd24.com
সকল স্বত্ব hillbd24.com কর্তৃক সংরক্ষিত