লামায় শখ করে বিলে মাছ ধরতে গিয়ে ৩ দিন ধরে নিঁখোজ দুই বোন

Published: 31 Aug 2019   Saturday   

বান্দরবানের লামায় শখ করে বিলে মাছ ধরতে গিয়ে দু`বোন এক সাথে গত তিন দিন ধরে নিঁখোজ রয়েছে।


গেল ২৯ আগষ্ট দুপুর সাড়ে বারোটার দিকে লামা উপজেলার গজালিয়া ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের বাতেন টিলা এলাকার চরুবিলে মাছ ধরতে গিয়ে এ ঘটনা ঘটে।


নিঁখোজ দু`বোনের নাম ইয়াছমিন বেগম (১১) ও মুক্তা বেগম (৯)। তারা উপজেলার গজালিয়া ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের বাতেনটিরা গ্রামের মনির আহম্মদের মেয়ে। ইয়াছমিন ও মুক্তা গজালিয়া ইউনিয়নের ক্রংতং পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪র্থ ও ৫ম শ্রেণীর ছাত্রী।


উপজেলার গজালিয়া ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডে ইউপি সদস্য(মেম্বার) উসাচিং মার্মা বলেন, গত বৃহস্প্রতিবার বাড়ির পাশে বমু খাল পেরিয়ে চরু বিলে দু`বোন এক সাথে মাছ ধরতে যায়। মাছ ধরতে গিয়ে এ দু`বোন আর বাড়ী ফিরেনি। ধারনা করা হচ্ছে মাছ ধরে বমু খাল পার হয়ে বাড়ি ফেরার সময় খালের চোরা বালিতে পড়ে বা পানির স্রোতে ভেসে গিয়ে তাদের মৃত্যু হতে পারে।


নিখোঁজ ইয়াছমিন ও মুক্তা`র বাবা মনির আহম্মদ বলেন, গত বৃহস্প্রতিবার আমার দু`মেয়ে সখের বসে বাড়ির পাশে চরু বিলে মাছ ধরতে গিয়ে আর বাড়িতে আসেনি। বমু খালে ও বিভিন্ন যায়গায় খোঁজা খুঁজি করেছি। কিন্তু এখনো আমার মেয়েদের খোঁজ পাইনি। শনিবার ফায়ার সার্ভিসের লোকজন এসে বমু খালে খোঁজা খুজি করে। না পেয়ে তারা চলে যায়।


লামা ফায়ার সার্ভিস ষ্টেশনের লীডার মোঃ মোজাম্মেল হকের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, শনিবার লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নূর এ জান্নাত রুমি স্যার দুপুর ২টার সময় খালে পড়ে দু`শিশু নিখোঁজ হয়েছে বলে ফোন করে আমাদের জানায়। আমরা এ সংবাদ পাওয়ার পর বিকাল তিনটার সময় ঘটনাস্থলে পৌছে নিখোঁজ দু`শিশুর বাবার সাথে কথা বলে বমু খালের সম্ভাব্য যায়গায় খোঁজাখুজি করি। ঘন্টা খানেক খোঁজাখুজির পর নিখোঁজ শিশুদের পাওয়া যায়নি। তবে এলকাবাসির সাথে কথা বলে জানাযায়, শিশু দু`বোন মাছ ধরে বাড়ি ফিরতে বমু খাল পার হতে স্থানীয় কয়েকজন ব্যাক্তি দেখেছে বলে জানায়। সে জন্য ধারনা করা হচ্ছে, নিখোঁজ দু`বোন হয় বমু খালের চোরা বালুতে পড়েছে না হয় তারা পানির স্রোতে ভেসে গেছে।


নিখোঁজ দু`বোনের চাচাতো ভাই মোঃ ফরিদ উদ্দিন জানায়, ইয়াছমিন ও মুক্তা গজালিয়া ইউনিয়নের ক্রংতং পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪র্থ ও ৫ম শ্রেণীর ছাত্রী। দু`মেয়ে নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে আমার চাচা মনির আহম্মদ ও তার স্ত্রী প্রায় পাগলের মতো হয়েছে। আমরা এখনো সম্ভাব্য সব যায়গায় খোঁজাখুজি করছি। ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দিয়ে বমু খালে খোঁজাখুজি করলে হয়তো মৃত অবস্থায় হলেও আমার বোনদের মৃতদেহ পাওয়া যেতো।


বিষয়টি নিয়ে লামা থানার পরিদর্শক(তদন্ত) মোহাম্মদ আমিনুল হকের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, উপজেলার গজালিয়ায় দু`বোন এক সাথে নিখোঁজ হওয়ার সংবাদ আমার জানা নেই। তবে থানায়ও কেই অভিযোগ করেনি বা সংবাদ দেয়নি বলে জানায়।


এ ব্যাপারে লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নূর এ জান্নাত রুমি এ প্রতিবেদককে বলেন, আমার উপজেলার গজালিয়া ইউনিয়নের বমু খালে পড়ে গত বৃহস্প্রতিবার থেকে দু`টি শিশু নিখোঁজ রয়েছে। শনিবার সংবাদটি শুনে সঙ্গে সঙ্গে লামা ফায়ার সির্ভিস ষ্টেশনে ফোন করে জানাই। তারা শনিবার বিকাল তিনটা বাজে ঘটনাস্থলে গিয়ে সম্ভাব্য সব যায়গায় খোঁজাখুজি করে। কিন্তু নিখোঁজ দু`শিশুর খোঁজে পাওয়া যায়নি।
--হিলবিডি২৪/সম্পাদনা/সিআর.

উপদেষ্টা সম্পাদক : সুনীল কান্তি দে
সম্পাদক : দিশারি চাকমা
মোহাম্মদীয়া মার্কেট
কাটা পাহাড় লেন, বনরুপা
রাঙামাটি পার্বত্য জেলা।
ইমেইল : info@hillbd24.com
সকল স্বত্ব hillbd24.com কর্তৃক সংরক্ষিত