দোলায় ঝুলিয়ে দুর্গম পথ হেটে গ্রামবাসীরা প্রসূতিকে জুরাছড়িতে হাসপাতালে পৌছাল

Published: 14 Jun 2026   Sunday   

আশপাশে কোন স্বাস্হ্যসেবা কেন্দ্র না থাকায় বাঁশ ও কাপড় দিয়ে তৈরি অস্থায়ী দোলায় ঝুলিয়ে দুর্গম ১০ কিলোমিটার পথ পায়ে হেটে  প্রসব বেদনায় কাতর এক প্রসূতিকে হাসপাতালে পৌছে দিলেন গ্রামবাসীরা।  শনিবার সকালে বরকল উপজেলার ভারতপাড়া থেকে জুরাছড়ি উপজেলা স্বাস্হ্য কমপ্লেক্সে আনা হয় জেসিকা চাকমা(১৯) নামে এই প্রসূতি নারীকে। তবে হাসপাতালে আনার পর পরই  ওই নারীর  স্বাভাবিক প্রসব হয়। বর্তমানে ওই নারী ও নবজাতক দুজনই সুস্থ  থাকায়  রোববার হাসপাতাল থেকে তারা বাড়ী ফিরেছেন।
জানা যায়, বরকল উপজেলার দুর্গম আইমাছড়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ভরতপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ও গ্রাম পুলিশ সদস্য বিজয় চাকমার স্ত্রী জেসিকা চাকমার শুক্রবার রাতে প্রসব বেদনা দেখা দেয়। এতে প্রথমে স্হানীয় ওঝা দিয়ে প্রসব করানোর চেষ্টা করলে ব্যর্থ হয়। এতে প্রসূতি প্রসবের যন্ত্রনায় কাতর হয়ে পড়ায় ও শারিরীক ঝুকি দেখা দেয়। এক পর্যায়ে তার স্বামী ও গ্রামবাসীরা প্রসূতি নারী ও নবজাতকের জীবন রক্ষার্থে বাঁশ ও কাপড় দিয়ে তৈরি অস্থায়ী দোলায় ঝুলিয়ে শনিবার সকালে আকাবাকা পাহাড়ী দুর্গম ১০ কিলোমিটারের পথ তিন ঘন্টা পায়ে হেটে  সকাল ৯টার দিকে পার্শ্ববতী জুরাছড়ি স্বাস্হ্য কমপ্লেক্সে পৌছান তারা। হাসপাতালে আনার কিছুক্ষন পর ওই প্রসূতি নারীর স্বাভাবিক প্রসব হয়। বর্তমানে ওই নারী ও নবজাতক দুজনই সুস্থ রয়েছেন। রোববার সকালের দিকে মা ও নবজাতক  বাড়ী ফিরেছেন।
প্রসূতির স্বামী  ও গ্রাম পুলিশ সুমন জ্যোতি চাকমা দোলায় ঝুলিয়ে প্রসূতিকে নিয়ে যাওয়ার সময় দুই মিনিট ৩ সেকেন্ডর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোষ্ট করলে ঘটনাটি ভাইরাল হয়ে যায়। ভিডিওতে দেখা যায়, প্রায় ১০ থেকে ১২ জন গ্রামবাসী বাঁশের সাথে বাঁশ বেঁধে প্রসূতিকে কাপড়ে ঝুলিয়ে হেটে যেতে দেখা যায়।  ভিডিওতে সুমন জ্যোতি চাকমাকে বলতে শুনা যায়, আমরা অত্যন্ত দুর্গম অঞ্চলে বাস করি। আজ একজন ডেলিভারি রোগীকে নিয়ে বিপাকে পড়েছি। অ্যাম্বুলেন্স তো দূরের কথা, এখানে রাস্তাঘাটও নেই। বাঁশের দোলায় করেই রোগীকে নিতে হচ্ছে হাসপাতালে।
বিজয় চাকমা জানান, শুক্রবার রাত ১০টার দিকে তার স্ত্রীর প্রসব বেদনা শুরু হয়। এরপর স্থানীয়ভাবে প্রসবের চেষ্টা করা হয়েছিল। পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় শনিবার সকাল ৭টার দিকে তিনিসহ গ্রামবাসীদের সহায়তা নিয়ে তার স্ত্রীকে নিয়ে হাসপাতালে রওনা দেন। পরে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে হাসপাতালে পৌছি। হাসপাতালে পৌঁছানোর কিছুক্ষণ পরই  তার স্ত্রীর স্বাভাবিক প্রসব হয়।
বরকল উপজেলার আইমাছড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সুবিমল চাকমা  বলেন, তার দুর্গম আইমাছড়া ইউনিয়নে মাত্র একটি ইউনিয়ন স্বাস্হ্য ক্লিনিক ও তিনটি স্বাস্হ্য সেবা কেন্দ্র রয়েছে। তবে ভরতপাড়া গ্রামটি এসব স্বাস্হ্য কেন্দ্রগুলো থেকে  দুর্গম ও অনেক দুরত্বে। তাছাড়া একটা পাড়া থেকে আরেকটি পাড়া যেতে  অনেক অনেক সময় সাপেক্ষের ব্যাপার। এসব এলাকা যেতে হলে পায়ে হেটে যাওয়া ছাড়া কোন উপায় নেই। আর বরকল স্বাস্হ্য কমপ্লেক্সে নিতে গেলে একদিন সময় লাগে। তাই ভরতপাড়াটি জুরাছড়ি উপজেলার কাছাকাছি হওয়ায় সেখানকার স্বাস্হ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়েছিল ওই প্রসূতিকে।
জুরাছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. অনন্যা চাকমা বলেন, শনিবার সকালে বরকলের আইমাছড়া ইউনিয়নের ভরতপাড়া থেকে বাঁশের দোলায় করে এক প্রসূতিকে তার হাসপাতালে আনা হয়েছে। হাসপাতালে আনার  কিছুক্ষণ পরই  প্রসূতির স্বাভাবিক প্রসব হয়। নবজাতকের ওজনও ভালো। মা ও নবজাতক ছেলে দুইজনই সুস্থ  থাকায় রোববার সকালের দিকে তারা বাড়ী ফিরে গেছেন।

--হিলবিডি২৪/সম্পাদনা/সিআর.

উপদেষ্টা সম্পাদক : সুনীল কান্তি দে
সম্পাদক : সত্রং চাকমা

মোহাম্মদীয়া মার্কেট, কাটা পাহাড় লেন, বনরুপা, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা।
ইমেইল : info@hillbd24.com
সকল স্বত্ব hillbd24.com কর্তৃক সংরক্ষিত