পার্বত্য প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশে রাজস্থলীর দুর্গম খিয়াং পাড়ার ৫০পরিবার সুপেয় পানি পাচ্ছে

Published: 17 Jun 2026   Wednesday   

‎‎প্রায় তিন যুগের অধিক রাঙামাটির রাজস্থলী উপজেলার দুর্গম কুক্যাছড়ি খিয়াং পাড়াবাসীরা সুপেয় পানির চরম সংকটে ভুগছেন। প্রায় চারশ ফুট নিচে পাহাড়ি ঝিরি থেকে এ সুপেয় পানি সংগ্রহ করতে হয় এই পাড়াবাসীদের। অবশেষে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীর এমপির নির্দেশে আগামী দশ দিনের মধ্যে সুপেয় পানি ব্যবস্থা নিশ্চিত করায় খুশি খিয়াং পাড়ার ৫০টি পরিবার।
‎জানা যায়, রাজস্থলী উপজেলার সদর থেকে ৯ থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ঘিলাছড়ি ইউনিয়নের দুর্গম কুক্যাছড়ি এলাকায় ৫০টি খিয়াং সম্প্রদায়ের পরিবারের বসবাস। তিন যুগের অধিক সময় ধরে এ পাড়ার বাসিন্দারা প্রতিদিন খাবার পানি থেকে নিত্য ব্যবহার্য্য পানি প্রায় ৪০০ ফুট নিচে পাহাড়ি ঝিরিতে নেমে পানি সংগ্রহ করতে হয়। এতে দুর্গমগতা ও আকাবাঁকা পাহাড়ি পথ হওয়ার কারণে অনেক সময় পানি সংগ্রহ করে নিয়ে আসতে গিয়ে দুর্ঘটনার ঘটনাও ঘটেছে। তাছাড়া পাড়াবাসী বিভিন্ন পানিবাহিত রোগেও ভুগে থাকেন। জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাঈমুল ইসলাম রনির রাজস্থলী নিজ উপজেলা হওয়ার কারণে খিয়াং সম্প্রদায়ের দীর্ঘ দিনের পানি সংকটের বিষয়টি তার নজরে আসে। তিনি পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলালকে বিষয়টি অবগত করেন। এতে পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী ১২ ঘণ্টার মধ্যেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদকে। বুধবার জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার রেজাউল করিম নেতৃত্বে একটি দল কুক্যাছড়ি খিয়াং পাড়া সরেজমিনে পরিদর্শন ও পানির উৎসস্থল ঘুরে দেখেন।‎
প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশে দীর্ঘদিনের পানিসংকট নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ায় স্থানীয় খিয়াং সম্প্রদায়ের পাড়া বাসিন্দারা প্রতিমন্ত্রী ও জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাঈমুল ইসলাম রনির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তাদের প্রত্যাশা, পানির সমস্যা সমাধানের মাধ্যমে দীর্ঘ তিন যুগের অধিক সময়ের ভোগান্তির অবসান ঘটবে। তাছাড়া দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের মানুষ নিরাপদ ও সুপেয় পানির সুবিধা পাবে। পাড়াবাসীরা প্রতিমন্ত্রীকে এ প্রকল্প উদ্বোধনের সময় সরাসরি তার উপস্থিতিও কামনা করেছেন।
ওই ইউনিয়নের স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার চিংলাউ খিয়াং জানান, গোসল করার পানি দুরের কথা, এখন খাওয়ার পানি পর্যন্ত মিলছে না। সন্ধ্যা নামলে পানির জন্য পাড়াবাসীদের লম্বা লাইন পড়ে যায়। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে যেসব নলকূপ বসানো হয়েছে সেগুলো এখন অকেজো হয়ে পড়ে রয়েছে।
‎পরিদর্শন শেষে জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার রেজাউল করিম বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বিষয়টি জানার পর দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তাই একটি টিম নিয়ে তিনি সরেজমিনে এলাকা পরির্দশনে করতে গেছেন। তবে ঝিরি থেকে সোলার বিদ্যুৎ চালিত মোটরের মাধ্যমে পানি উত্তোলন করে স্কুলের ছাদে ট্যাংক এর মধ্যে পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। আশা করা যাচ্ছে আগামী দশ দিনের মধ্যে এ কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। এটি বাস্তবায়ন করা গেলে খিয়াং পাড়ার ৫০টি পরিবার সুপেয় পানির সুবিধা ভোগ করতে পারবেন।
--হিলবিডি২৪/সম্পাদনা/সিআর.

উপদেষ্টা সম্পাদক : সুনীল কান্তি দে
সম্পাদক : সত্রং চাকমা

মোহাম্মদীয়া মার্কেট, কাটা পাহাড় লেন, বনরুপা, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা।
ইমেইল : info@hillbd24.com
সকল স্বত্ব hillbd24.com কর্তৃক সংরক্ষিত