তিন ফুট খুলে দিয়ে কাপ্তাই বাঁধের পানির চাপ কমানো হচ্ছে

Published: 01 Sep 2026   Tuesday   

টানা ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে দ্রুত বাড়ছে কাপ্তাই হ্রদের পানি। এতে রাঙামাটির বাঘাইছড়িসহ হ্রদ তীরবর্তী বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। তবে অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশনে কাপ্তাই বাঁধের ১৬টি জলকপাটের সর্বশেষ তিন ফুট করে পানি ছেড়ে দিয়ে বাঁধে পানির চাপ কমানো হচ্ছে। তবে বাঘাইছড়ির প্লাবিত নিম্নাঞ্চল থেকে পানি নামতে শুরু করেছে।
কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র জানায়, টানা ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে কাপ্তাই হ্রদের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় গত শনিবার রাত ৮টা থেকে বাঁধের ১৬টি জলকপাট প্রথমে ৬ ইঞ্চি দিয়ে পানি ছেড়ে দেওয়া হয়। পরে কাপ্তাই হ্রদে অতিরিক্ত পানির চাপ থাকায় পরে বাঁধের ১৬টি জলকপাটের তিন ফুট বাড়িয়ে করে পানি নিস্কাশন করা হচ্ছে। এই ১৬টি জলকপাট থেকে প্রতি সেকেন্ডে ৫৮ হাজার কিউসেক পানি কর্ণফূলী নদীতে নিস্কাশিত হচ্ছে। বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কন্ট্রোল রুমের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী সোমবার বিকাল পর্ষন্ত কাপ্তাই হ্রদে পানির উচ্চতা রয়েছে ১০৬.২২ ফুট এমএসএল (মিনস সি লেভেল)। এ হ্রদের সর্বোচ্চ পানি ধারণক্ষমতা ১০৯ ফুট এমএসএল। প্রকল্পের ৫টি ইউনিটের মধ্যে চারটি ইউনিট চালু রয়েছে। তবে একটি ইউনিট যান্ত্রিক ত্রুতির কারণে বন্ধ রয়েছে, সেটি মেরামতের চেষ্টা করা হচ্ছে। চারটি ইউটি থেকে ২২২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। ৫টি ইউনিটে সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে ২৪০ মেগাওয়াট। প্রসঙ্গতঃ গত ১৮ জুলাই প্রথম ধাপে কাপ্তাই বাঁধের ১৬টি জলকপাট খুলে দেওয়া হয়েছিল। হ্রদে পানি কমে যাওয়ায় গত ২৩ জুলাই জলকপাটগুলো পানি নিস্কাশন বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ।
কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের প্রকল্পের সহকারী প্রকৌশলী তারেক আহমেদ জানান, হ্রদের পানির উচ্চতা, উজান থেকে আসা পানির প্রবাহ এবং বৃষ্টিপাতের পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বাধের ১৬টি জলকপাট থেকে তিন ফুট করে পানি ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। কাপ্তাই হ্রদে পানির উচ্চতার উপর নির্ভর করবে পানি নিস্কাশনের মাত্রা।
এদিকে, ভারী বর্ষনে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলাসহ কয়েকটি এলাকায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়। সিম্বল অব রাঙামাটির পর্যটনের ঝুলন্ত সেতুটি পানিতে ডুবে যায়। বাঘাইছড়ি উপজেলার পুরাতন মারিশ্যা, মাস্টারপাড়া, মাদ্রাসাপাড়া, লাইল্যাঘোনা, উলুছড়ি, বাঘাইহাট, পশ্চিম মুসলিম ব্লক ও মধ্যমপাড়াসহ বিস্তীর্ণ এলাকার বসতবাড়ি ও প্রধান সড়ক পানিতে প্লাবিত হয়। এতে শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েন। এর মধ্যে কিশলয় সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় আশ্রয় কেন্দ্রে ১৬ পরিবার ও কাচালং দাখিল মাদ্রাসা আশ্রয় কেন্দ্রে ২ পরিবার আশ্রয় নিলেও পানি কমায় তারা নিজ নিজ বাড়িতে ফেরত গেছেন। তবে পানি কমে গেলেও উপজেলা সদরের মাষ্টার পাড়া, পুরাতন মারিশ্যা, লাইল্যাঘোনা ও বটতলী এলাকায় জলাবদ্ধ দেখা দিয়েছে।
বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমেনা মারজান বলেন, ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে কাচালং নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় উপজেলার কিছু কিছু এলাকায় নি¤œাঞ্চল প্লাবিত হলেও বর্তমানে পানি কমে গেছে। কয়েকটি পরিবার আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নিলেও পানি কমে যাওয়ায় তারা সবাই নিজ নিজ বাড়িতে ফেরত গেছেন। এখন আশ্রয় কেন্দ্রে কোন লোকজন নেই।
--হিলবিডি২৪/সম্পাদনা/সিআর.

 

উপদেষ্টা সম্পাদক : সুনীল কান্তি দে
সম্পাদক : সত্রং চাকমা

মোহাম্মদীয়া মার্কেট, কাটা পাহাড় লেন, বনরুপা, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা।
ইমেইল : info@hillbd24.com
সকল স্বত্ব hillbd24.com কর্তৃক সংরক্ষিত