বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় অনুষ্ঠান প্রবারণা পূর্ণিমা উপলক্ষে বিলাইছড়িতে বিহারে বিহারে নানা দানানুষ্ঠানের মাধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে।
রোববার উপজেলার ধুপ্যাচর ত্রিরত্ন বৌদ্ধ বিহারে নানা দানানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এর মধ্যে বুদ্ধ পূজা, অষ্ট পরিস্কার দানসহ নানাবিধ দানানুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবারণা পুর্ণিমা পালন করা হয়। এছাড়াও উপজেলার প্রায় সকল বিহারে এই প্রবারণা পূর্ণিমা পালন করা হয়। এবং প্রবারণা উদযাপনের মাধ্যমে বিশ্ব শান্তি ও মঙ্গল কামনা করা হয়।
প্রসঙ্গত, প্রবারণা সকল বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের কাছে উল্লেখযোগ্য একটি দিন। আষাঢ়ী পূর্ণিমা থেকে আশ্বিনী পূর্ণিমা পর্যন্ত এই তিন মাস সময়কে বৌদ্ধ পরিভাষায় বর্ষাবাস বলা হয়। তাই বৌদ্ধদের কাছে বা ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে প্রবারণা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তিন মাস বর্ষাবাস শেষে প্রবারণা উদযাপন করা হয়। সুখদুঃখ, ভালমন্দ, দান, শীল (নীতি), ভাবনা তথা ত্রিপিটক সাহিত্যচর্চার ক্ষেত্রে বর্ষাবাস বৌদ্ধদের কাছে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করে।কর্মই জীবন। মানুষ সংসারে জন্ম নিলে আমরণ তার কর্মব্যস্ততা থাকে। প্রতিটি মানুষ নিজ নিজ অবস্থান থেকে ব্যস্ত জীবন কাটায়। কিন্তু বর্ষায় মানুষের গতিশীল জীবন অনেকটা স্থবির হয়ে পড়ে। সার্বক্ষণিক ঘোরাফেরা কাজকর্ম করা সম্ভব হয়ে ওঠে না। গৌতম বুদ্ধের সময়ে ভিক্ষুসংঘ দেব মানবের কল্যাণে ধর্মপ্রচারের জন্য দিকে দিকে ছড়িয়ে পড়তেন, বিচরণ করতেন। পরহিত বা কল্যাণ সাধনই ছিল মূল লক্ষ্য। বর্ষা ঋতুতে চতুর্দিকে বিচরণ করা দুঃসাধ্য ছিল। এই সময়ের মত তখনো প্রকৃতির তা-বলীলা চলত সময়ে সময়ে। এই সমস্ত কারণে ভিক্ষুসংঘকে কোন এক জায়গায় স্থির থেকে বুদ্ধ বর্ষাঋতু পালনের জন্য ভিক্ষুসংঘকে কিছু নিয়মনীতিও বেঁধে দেন। তিন মাস ব্যাপী বর্ষা ঋতু উদ্যাপনের বিধিবিধান এবং বিনয় সমৃদ্ধ এই পদ্ধতিকে বলা হচ্ছে বর্ষাবাস বা বর্ষাব্রত। বর্ষাবাস শেষে, সকল প্রকার ভেদাভেদ গ্লানি ভুলে গিয়ে কলুষমুক্ত হওয়ার জন্য ভিক্ষুসংঘ পবিত্র সীমা ঘরে সম্মিলিত হয়ে একে অপরের নিকট দোষ স্বীকার করেন। প্রবারণা মানে ভুলত্রুটির নির্দেশ। আশার তৃপ্তি, অভিলাষ পূরণ ও ধ্যান শিক্ষার সমাপ্তি। বৌদ্ধ নিয়ম অনুসারে বর্ষাবাস বা প্রবারণা পূর্নিমার আনুষ্ঠানিকতা শেষে এক মাসব্যাপী প্রতিটি বৌদ্ধ বিহারে বিহারে দানোত্তম কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠিত হয়।
--হিলবিডি২৪/সম্পাদনা/সিআর.