সাজেকের পরিস্থিতি নিরসনে তিন সদস্যর কমিটি,সোমবার আন্দোলনকারীদের সাথে বৈঠক

Published: 25 Oct 2026   Sunday   

সাজেকের সংকট নিরসনের লক্ষে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে প্রশাসন। সোমবার এ কমিটি আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বৈঠকে বসার কথা রয়েছে। গঠিত তিন সদস্য কমিটিতে রয়েছেন সিএইচটি হেডম্যান নেটওয়ার্কের সহসভাপতি ভবতোষ দেওয়ান, সাধারণ সম্পাদক শান্তি বিজয় চাকমা এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম হেডম্যান অ্যাসোসিয়েশনের লংগদু উপজেলার প্রধান উপদেষ্টা কল্যাণ মিত্র চাকমা।
সাজেক পরিস্থিতি নিরসনে রোববার সকালের দিকে জেলা প্রশাসন সন্মেলন কক্ষে জেলার হেডম্যান(মৌজা প্রধান) ও কারবারী(গ্রাম প্রধান) নেতৃবৃন্দদের সাথে এক জরুরী মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূঁইয়া। বিশেষ অতিথি ছিলেন রাঙামাটি সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান মতবিনিময় সভায় জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী, পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিবসহ প্রশাসনের উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ঘন্টব্যাপী রুদ্ধধার বৈঠকে সিএচটি হেডম্যান নেটওয়ার্ক ও পার্বত্য চট্টগ্রাম হেডম্যান এসোসিয়েশনের নেতারা বিভিন্ন পরামর্শ ও মতামত তুলে ধরেন।
সভায় অবরোধের প্রথম দিনেই আন্দোলকারীরা আলোচনায় বসার জন্য প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করে ওয়াদুদ ভূঁইয়া এমপি বলেন, আন্দোলকারীদের মধ্যে সাজেক কারবারী এসোসিয়েশন নামে একটি সংগঠনের নাম আসছে। সেহেতু হেডম্যান-কারবারীদের দুটি কেন্দ্রীয় সংগঠনের সাথে মতবিনিময় সভায় হয়েছে। তবে দুটি সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে সাজেকে যারা কারবারী সংগঠন নাম দিয়ে আন্দোলন করছে তারা প্রকৃতপক্ষে কারবারী না। তারপরও আন্দোলনকারী কারবারী সংগঠনটি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি হিসেবে দাবি করছে তাই সিএচটি হেডম্যান নেটওয়ার্ক ও পার্বত্য চট্টগ্রাম হেডম্যান এসোসিয়েশন থেকে তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটি সোমবার থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মধ্যস্থতায় আন্দোলকারীদের দাবি-দাওয়া নিয়ে বৈঠকে বসবে।
তিনি আরো বলেন, সাজেক পর্যটন এলাকায় শুধু অর্থকে কেন্দ্র করে নয় মূলত দুটি আঞ্চলিক গ্রুপ এলাকার আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র এ ঘটনা ঘটছে। কারণ সাজেকে আগে একটি মাত্র গ্রুপ ছিল কিন্তু ইদানিং অপর একটি গ্রুপ প্রবেশ করেছে। এ গ্রুপটির বিরুদ্ধে কারবারী এসোসিয়েশন বা ছাত্র-জনতার ব্যানারে আন্দোলন করা হচ্ছে তা মিথ্যা। তিনি সাংবাদিকদের অপর এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, যে দাবিগুলো অফিসিয়ালি বা আলোচনা হচ্ছে তা একটি সশস্ত্র প্রবেশ করার কারণে বিভিন্ন সংগঠনের ব্যানারের নাম দিয়ে আন্দোলনের মাধ্যমে তাদের সাজেক থেকে বের দিতে অপর একটি সশস্ত্র সংগঠন চাইছে। এখানে দুটি সংগঠনই সশস্ত্র তাই একটি সংগঠনকে বের দেওয়ার সুযোগ নেই। নিরাপত্তাবাহিনী দুটি সশস্ত্র সংগঠনকে বের দেবে।
রাঙামাটি আসনের সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান বলেন, সাজেকের সৃষ্ঠ ঘটনা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান সম্ভব। আন্দোলনকারীরা ৫দফা দাবি করছে কিন্তু আন্দোলনকারীরা দৃশ্যমান না। তাই এ দাবিগুলো নিয়ে আলোচনায় বসতে এ কমিটি গঠন করে দেওয়া হয়েছে। আশাকরি আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে এ সমস্যা সমাধান হবে।
এদিকে, সন্তু লারমা গ্রুপের জেএসএসের কর্মীদের সাজেক এলাকা সরিয়ে নেওয়াসহ ৫দফা দাবিতে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের ডাকে রোববার সাজেক সড়কে শান্তিপূর্নভাবে অবরোধ পারিত হয়েছে। সড়কে বিভিন্ন স্থানে অবরোধকারীরা বিভিন্ন গাছের ফেলিয়ে আগুন জ¦ালিয়ে বিক্ষোভ-মিছিল করেছে।
--হিলবিডি২৪/সম্পাদনা/সিআর.

 

 

 

উপদেষ্টা সম্পাদক : সুনীল কান্তি দে
সম্পাদক : সত্রং চাকমা

মোহাম্মদীয়া মার্কেট, কাটা পাহাড় লেন, বনরুপা, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা।
ইমেইল : info@hillbd24.com
সকল স্বত্ব hillbd24.com কর্তৃক সংরক্ষিত