রাঙামাটি সদর উপজেলার ৬নং বালুখালী ইউনিয়নের বৌদ্ধদের সবচেয়ে বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব বাদলছড়ি জনকল্যাণ বৌদ্ধ বিহারে শনিবার ২৩তম দানোত্তম কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বিহার মাঠ প্রাঙ্গনে অনুষ্ঠিত কঠিন চীবর দানোৎসব উপলক্ষে সকালে বুদ্ধপূজা, বুদ্ধ মূর্তিদান, সংঘদান, অষ্টপরিস্কার দান, কঠিন চীবর দান, কল্পতরু দান, পঞ্চশীল প্রার্থনাসহ নানা বিধ দানীয়যজ্ঞ সম্পাদন করা হয়। বিকালে একই স্থানে ধর্মালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ধর্মদেশনা প্রদান করেন পার্বত্য ভিক্ষু সংঘের উপসংঘরাজ ও সংঘরাম বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ ভদন্ত শ্রদ্ধালঙ্কার মহাথেরো, বাদলছড়ি জনকল্যাণ বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ ভদন্ত পাঞা তিষ্য ভিক্ষু, মৈত্রী বিহারের ভদন্ত শীলা নন্দ মহাস্থবির, রাজ বিহারের ভিক্ষু ভদন্ত শীলপাল মহাথেরোসহ অন্যান্য প্রমূখ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সাবেক পার্বত্যমন্ত্রী মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান এমপি। এতে অন্যান্যর মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি সুভাষ চন্দ্র চাকমা, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সাবেক মূখ্য সচিব কৃষ্ণ চন্দ্র চাকমা, বিহার পরিচালনা কমিটির সভাপতি রমেশ চাকমা, তক্ষশীলা বনবিহার পরিচালনা কমটির সভাপতি মিরন খীসা, সাবেক বালুখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিজয় গিরি চাকমা। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন জ্ঞানেন্দু চাকমা, অর্জিতা চাকমা ও জয়া চাকমা প্রমুখ। এর আগে ভগবান বুদ্ধের জয়ধ্বনি দিয়ে পূর্নার্থীরা কঠিন চীবর ও কল্পতরু বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা আকারে নিয়ে আসেন। অনুষ্ঠানে দূর-দূরান্ত থেকে কয়েক হাজার পূণ্যার্থী অংশগ্রহণ করেন।
এর আগে শুক্রবার বিকাল থেকে আড়াই হাজার বছর আগে ভগবান গৌতম বুদ্ধের সময় মহাপূর্নবতী বিশাখা কর্তৃক প্রবর্তিত ২৪ ঘন্টার মধ্যে সূতা কাটা শুরু করে কাপড় বয়ন, সেলাই ও রং করাসহ যাবতীয় কাজ সম্পন্ন করা হয়। সেই ঐতিহ্যবাহী রীতি অনুযায়ী রাঙামাটিতে এ কঠিন চীবর তৈরী পরদিন ভিক্ষুদের উদ্দেশ্য দান করা হয়।
অনুষ্ঠানে বৌদ্ধ ধর্মীয় গুরুরা ভগবান বুদ্ধের অমৃত বাণী সঠিকভাবে জীবনে পালন ও দান শীল ভাবনার মাধ্যমে গৃহীদের পঞ্চশীল পালনে পরিবারে সুখ শান্তি লাভ করা সম্ভব বলে ধর্ম দেশনা দেন।
--হিলবিডি২৪/সম্পাদনা/সিআর.