• Hillbd newsletter page
  • Hillbd rss page
  • Hillbd twitter page
  • Hillbd facebook page
সর্বশেষ
রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম বিভাগের ২য় ব্যাচের নবীন বরণ অনুষ্ঠিত                    প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গেইট ভেঙ্গে পড়ে ছাত্রের মৃত্যু                    খাগড়াছড়িতে আদিবাসী দিবসকে কেন্দ্র করে পাল্টাপাল্টি মানববন্ধন ও বিক্ষোভ                    সংবিধানে আদিবাসী স্বীকৃতি ও মৌলিক অধিকারসহ পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি পূর্ণ বাস্তবায়ন করতে হবে                    রাঙামাটিতে অটোরিক্সা ভাড়া পুণ নির্ধারণ, যানচলাচল শুরু                    খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের সাথে ইউনিয়ন এমএসপি‘র সংযোগ কর্মশালায় অভিজ্ঞতা বিনিময়                    খাগড়াছড়িতে সাবেক রাষ্ট্রদূত সুপ্রদীপ চাকমা পাহাড়ের উন্নয়নে সব সম্প্রদায়ের সম-অংশীদারিত্ব এবং অংশগ্রহণ প্রয়োজন                    রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদে পানিতে ডুবে এক পর্যটকের মৃত্যু                    রাঙামাটিতে গণ পরিবহন চলাচল বন্ধে যাত্রীদের চরম ভোগান্তি                    বাঘা্ইছড়িতে ধর্ষনের অভিযোগে দুই ছাত্রলীগ নেতাসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা                    রাঙামাটিতে শেখ কামালের জন্মদিনে উদ্বোধন হলো উত্তরাধিকার সনদ সিস্টেম।                    রাঙামাটি রাজ বন বিহারে বন্দুকভাঙ্গাবাসীর সার্বজনীন ২২তম মহাসংঘদান                    রাঙামাটিতে শেখ কামালের ৭৩ জন্মবার্ষিকী পালন                    রাঙামাটিতে পার্বত্য চট্টগ্রামে পুষ্টির প্রতিশ্রুতি অগ্রসর বিষয়ে গোল টেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত                    সভাপতি লোকমান ও সা: সম্পাদক ইকবাল নির্বাচিত                    খাগড়াছড়ি সাংবাদিক ইউনিয়ন থেকে রফিকুল ও রিপনকে অব্যাহতি প্রদান                    নানানভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছে পাহাড়ী নারীরা                    রাঙামাটিতে যুবদলের নেতা শিশির বিন্দু চাকমার পদত্যাগ পত্র প্রত্যাহার                    খাগড়াছড়িতে পার্বত্য চট্টগ্রামের জন্য পুষ্টির প্রতিশ্রুতি উন্নয়ন নিয়ে গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত                    আদিবাসী শব্দ ব্যবহারে সরকারের আপত্তিতে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক কমিটির                    কাপ্তাইয়ে হাতির ভয়ে পালাতে গিয়ে অটোরিকশা উল্টে আহত-৩                    
 
ads

রাঙামাটিতে ভয়াবহ পাহাড় ধসের তিন বছর,পুনরায় সেই মৃত্যুকূপে বসবাস

বিশেষ রিপোর্টার : হিলবিডি টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published: 13 Jun 2020   Saturday

রাঙামাটিতে ভয়াবহ পাহাড় ধসের ঘটনার আজ শনিবার তিন বছর পূর্ন হলো। তিন বছর আগে ভারী বর্ষনের ফলে পাহাড় ধসের ঘটনায় ৫ সেনা সদস্যসহ ১২০ জনের মৃত্যূ হয়। কিন্তু সেই মৃত্যু কূপে পূনরায় ঘরবাড়ি নির্মাণ করে ঝুকিপূর্ন অবস্থায় বসবাস করছে। মানছে না প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা। তবে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে রাঙামাটি শহরের ৩৩টি স্থানকে ঝুকিপূর্ন এলাকা হিসেবে চিহিৃত করে সচেতনামূলক সাইনবোর্ড টানিয়ে দিয়েছে।


উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ১৩ জুন ভারী বর্ষনের ফলে পাহাড় ধসের ঘটনায় মাটি চাপা পড়ে ভেদভেদীর যুব উন্নয়ন বোর্ড এলাকা,মুসলিম পাড়া.শিমুলতলী এলাকা,সাপছড়ি,মগবান,বালুখালী এলাকায় এবং জুরাছড়ি,কাপ্তাই,কাউখালী ও বিলাইছড়ি এলাকায় ৫ সেনা সদস্যসহ ১২০ জনের মৃত্যূ হয়। এতে জেলায় ১৬শ থেকে ১৭ শ ঘরবাড়ি সম্পূর্ন ও আংশিক ক্ষতিগ্রস্থ হয়। পাহাড় ধসের কারণে সারাদেশের সাথে সড়ক যোগযোগের এক সপ্তাহ বিচ্ছিন্ন থাকার পর হালকা যানবাহনের জন্য খুলে দেওয়া হয়। এছাড়া পাহাড় ধসে ২০১৮ সালে নানিয়ারচর উপজেলার বুড়িঘাট ইউনিয়নে ১১জন এবং ২০১৯ সালে কাপ্তাই উপজেলায় ৭জন প্রাণ হারায়।

 

শহরের রুপনগর, পশ্চিম মুসলিম পাড়া,নতুন পাড়া, রুপনগর, রেডিও স্টেশন এলাকা, ভেদভেদি এলাকায় সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, তিন বছর আগে ভয়াবহ পাহাড় ধসের প্রাণহনি ঘটেচলো সেই মৃত্যুকূপে পুনরায় ক্ষতিগ্রস্তরা ঘরবাড়ি নির্মান করে বসবাস করছে। ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঝুকিপুর্ন এলাকা বসবাস ও স্থাপনা নির্মাণ না করতে নিষেধ করে সাইন টাঙিয়ে দিয়ে সর্তক করা হয়েছে। কিন্তু তারপরও ক্ষতিগ্রস্থরা সেই নিষেধাজ্ঞা মানছেন না। তারা জীবনের ঝুকি নিয়ে সেই মৃত্যুকূপে  বসবাস করতে দেখা গেছে।


রুপনগরের বাসিন্দা মোঃ ইসলাম, মোঃ জাহাঙ্গীর, নুরুল কবির ও মরিয়ম বেগমের সাথে কথা বলে তারা জানান, বৃষ্টি হলে ভয় লাগে। কিন্তু যাওয়ার মতো তাদের কোন জায়গা নেই। অতি বৃষ্টিপাত হলে নিকটবর্তী নিরাপদ আশ্রয় কেন্দ্রে চলে যাওয়ার জন্য জেলা প্রশাসন থেকে বলা হয়েছে। সরকার যদি তাদের থাকার জন্য সমতল জায়গা ব্যবস্থা করে দেয় তাহলে এই ঝুকিপূর্ন স্থানে বসবাস করবেন না।

 

এদিকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে রাঙামাটি পৌর সভা এলাকায় ৩৩টি স্থানে ঝুকিপূর্ন তালিকা করেছে। এছাড়া ঝুকিপূর্ন এলাকায় বসবাসকারীদের পাশ^বর্তী আশ্রয় নেয়ার জন্য রাঙামাটি পৌর এলাকায় ২৬টি আশ্রয় কেন্দ্রের তালিকা করেছে। রাঙামাটি পৌরসভার ঝুকিপূর্ন স্থানগুলো হলো রিজার্ভ বাজার এলাকার মধ্যে রয়েছে চম্পানির মার টিলা, চেংগিমুখ, আব্দুল আলী একাডেমী সংলগ্ন ঢাল, এসপি অফিস সংলগ্ন ঢাল, মাতৃমঙ্গল এলাকা ঢাল, পুলিশ লাইন সংলগ্ন ঢাল। তবলছড়ি এলাকার মধ্যে এডিসি হিল সংলগ্ন রাস্তার ঢাল, দুর্নীতি দমন কমিশন অফিস সংলগ্ন ঢাল, ওয়াপদা কলোনীর ঢাল, স্বর্ন টিলা, বিএডিসি পাহাড়ের ঢাল। বনরুপা এলাকার মধ্যে দেওয়ানপাড়া পাহাড়ের ঢাল, কাঠালতলী মসজিদ কলোনী পাহাড়ের ঢাল, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সংলগ্ন পাহাড়ের ঢাল, আলম ডক পাহাড়ের ঢাল, গর্জনতলী মুখ, চম্পক নগর এলাকার পাহাড়ের ঢাল, পাবলিক হেলথ এলাকা পাহাড়ের ঢাল। ভেদভেদী এলাকার মধ্যে রয়েছে মুসলিম পাড়া পাহাড়ের ঢাল, রাজমনি পাড়া পাহাড়ের ঢাল, পোষ্ট অফিস কলোনী এলাকা, নতুন পাড়া, শিমুলতলী, রুপনগর, বিদ্যানগর, লোকনাথ মন্দির এলাকা,কিনারাম পাড়া, সিলেটি পাড়া, আলুটিলা ও আনসার ক্যাম্প সংলগ্ন পাহাড়ের ঢাল।


জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশীদ বলেন, রাঙামাটিতে ২০১৭,১৮ ও ১৯ সালেও পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছিল। এ জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গত এক মাস যাবত বর্ষাকে কেন্দ্র করে পাহাড় ধস বিষয়ে জনগনকে সচেতন করার জন্য সকল কার্যক্রম গ্রহন করে আসছি। রাঙামাটি পৌরসভা ও প্রতিটি উপজেলায় যে সমস্ত পাহাড়ে ঝুকিপূর্ন বসবাস রয়েছে সেগুলো চিহিৃত করেছি। এসব এলাকায় বসবাসকারী ঝুকিপূর্ন লোকজনদের ভারী বর্ষনের সময় অস্থায়ী আশ্রয় কেন্দ্রে নিয়ে যেতে পারি তার কাজ শুরু করেছি। এছাড়া ঝুকিপূর্ন এলাকাগুলো চিহিৃত করে সাইন বোর্ড ও লিফলেট বিতরণ করেছি।


তিনি আরো বলেন, ইতোমধ্যে জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সাথে মিটিং করেছি। এতে সকল প্রস্তুতি গ্রহন করেছি যখন দুর্যোগ আসবে পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটবে সেই সব এলাকা থেকে লোকজনদের অস্থায়ী আশ্রয় কেন্দ্রে নেওয়ার যায় তার জন্য কমিটি গঠন, সেচ্ছাসেবদক দল গঠন করে দিয়েছি। এছাড়্ওা আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রিতদের চিকিৎসার সেবা দেয়ার জন্য মেডিকেল টিম গঠন করেছি। এখানে প্রশাসন,পুলিশ সেনাবহিনীসহ সবাইয়ের সমন্বয়ের মাধ্যমে এইসব কাজ করা হবে।


জেলা প্রশাসক বলেন, যেহেতৃ করোনা ভাইরাসের প্রকোপ রয়েছে সেহেতু আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে তাদেরকে কিভাবে রাখতে পারি সেই বিষয়ে আমাদের মাথায় আসে। সেজন্য এবারের অনেকগুলো অস্থায়ী আশ্রয় কেন্দ্রের ব্যবস্থা করেছি। শুধু রাঙামাটি পৌরসভাবে ২৬টি অস্থায়ী কেন্দ্র নির্নয় করেছি। এছাড়া যত প্রাইমারী বিদ্যালয়, উচ্চা বিদ্যালয়, মাদ্রাসা ও কলেজ রয়েছে এবং সরকারী প্রতিষ্ঠান রয়েছে তাতে আমরা অনুরোধ করেছি যখনি ভারী বর্ষন হবে সে সমস্ত অস্থায়ী আশ্রয় কেন্দ্রগুলো ব্যবহার করতে পারি সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটিকে চিঠি দিয়েছি। সেইসব কেন্দ্রগুলো যাকে বসবাসের উপযোগী, স্যানিটেশন উপযোগী করে রাখার জন্য জেলা ও উপজেলা শিক্ষা অফিসারসহ সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলেছি।
--হিলবিডি২৪/সম্পাদনা/সিআর.

 

ads
ads
এই বিভাগের সর্বশেষ
আর্কাইভ