• Hillbd newsletter page
  • Hillbd rss page
  • Hillbd twitter page
  • Hillbd facebook page
সর্বশেষ
আশিকা বিজ্ঞাপণ                    পাহাড়ে নারীদের অধিকার ও ক্ষমতায়নে লড়াই করছেন সূচরিতা চাকমা                    Request for Quotation (RFQ)                    Hill Flower Vacancy Announcement                    Request for Quotation (RFQ)                    হিলফ্লাওয়ার                    আশিকা টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি                    বিলাইছড়িতে অগ্নিকাণ্ডে ৩টি ঘর পুড়ে ছাই                    Request For Quotation Notice                    ফারুয়া উচ্চ বিদ্যালয় পরিদর্শনে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান                    ফারুয়া থানা পরিদর্শন করলেন পুলিশ সুপার                    Vendor Enlistment Notice                    জেলা পর্যায়ে আঞ্চলিক পরিষদ ও সরকারি কর্মকর্তাদের সাথে সমন্বয় সভা                    দরপত্র বিজ্ঞপ্তি                    রাঙামাটিতে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান বিজয় দিবস উদযাপিত                    বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রইফের সমাধিতে বিজিবির মহাপরিচালকের পক্ষ থেকে পুষ্পমাল্য অর্পন                    রাঙামাটিতে টেলিভিশন জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের আত্মপ্রকাশ                    পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নে বৃহত্তর আন্দোলনে সামিল হওয়ার আহবান                    আগামী ক্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে জেএসএস অংশ নিচ্ছে                    রাঙামাটিতে মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট ও ডিপ্লোমা ফার্মামিষ্টদের কর্মবিরতি পালন                    ৯৯নং রাঙামাটি আসনের বিএনপির প্রার্থী দীপেন দেওয়ানের মতবিনিময় সভা                    
 
ads

ঢাকায় পার্বত্য চুক্তির ২২তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে আলোচনা সভায়
সরকার পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নে আন্তরিক নয় -সন্তু লারমা

সতেজ চাকমা,ঢাকা : হিলবিডি টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published: 02 Dec 2019   Monday

পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ চেয়ারম্যান  জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয়লারমা (সন্তু লারমা) সরকার চুক্তি বাস্তবায়নে আন্তরিক নয় বলে অভিযোগ করে বলেছেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের জুম্ম জনগণের পিঠ দেওয়ালে ঠেকে গেছে। এ দেওয়াল থেকে সামনে এগিয়ে আসার জন্য পাহাড়ের মানুষ উদ্যোগ নিচ্ছে বলে মন্তব্য করেন করেন তিনি।

 

পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির ২২ তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে  সোমবার রাজধানীতে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে চুক্তির অন্যতম স্বাক্ষরকারী ও পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ চেয়ারম্যান  জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয়লারমা (সন্তু লারমা) এসব কথা বলেন। 

 

সন্তু লারমা ক্ষোভ প্রকাশ করে আরো বলেন, চুক্তি হয়েছিল দু’ভাবে। একটি লিখিতভাবে অন্যটি অলিখিতভাবে। এই অলিখিত চুক্তির মধ্যে অন্যতম হল পাহাড়ের বিদ্যমান আইনের লঙ্ঘন করে জিয়াউর রহমান সরকারের আমলে সরকারী পৃষ্ঠপোষকতায় যে নিরীহ বাঙালিদেরকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল তাদেরকে সম্মানজনকভাবে পার্বত্য চট্টগ্রামের বাইরে পুনর্বাসন করা। কিন্তু সেই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টাও এখনো বাস্তবায়ন হয়নি।

 

উক্ত বিষয়টি কেন চুক্তিতে লেখা হয়নি তা’র প্রেক্ষা পট নিয়ে তিনি আরো বলেন, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী এই সেটলার বাঙালিদেরকে পার্বত্য চট্টগ্রামের বাইরে সম্মানজনকভাবে পুনর্বাসনের ব্যাপারটি চুক্তিতে উল্লেখ না করতে অনুরোধ করেছিলেন। কেন না, এটি চুক্তিতে লেখা হলে দেশে বিভিন্ন মহলে নানা নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হবে বলে ধারণা করেছিলেন। সেই সাথে তিনি তাঁর (তৎকালীনপ্রধানমন্ত্রী) উপরবিশ্বাস রেখে উক্ত সেটলার বাঙালিদেরকে পার্বত্য চট্টগ্রামের বাইরে সম্মানজনকভাবে পুনর্বাসন করবেন বলে আশ্বস্ত করেন। কিন্তু আজ অবধি সেই বিশ্বাস রাখা হয়নি বলেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

 

সন্তু লারমা আরো বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির মৌলিকবিষয়টি হচ্ছে -ভূমি। কিন্তু এই ভূমি বিষয়টি এখনো পার্বত্য তিন জেলা পরিষদে হস্তান্তরিত হয়নি। তাই ভূমি সমস্যা সমাধানে গঠিত পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি কমিশনের বিধিমালা যদি প্রণীতও হয় তারপরও এই  কমিশনের মাধ্যমে সেই সমস্যা সমাধান করা সম্ভব হবে না বলেও অভিযোগ তুলে ধরেন পাহাড়ের এই নেতা।

 

জাতীয়না গরিক উদ্যোগ বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ ঐক্য ন্যাপের সভাপতি পঙ্কজ ভট্টাচার্যের সভাপতিত্বে  বিশেষ অতিথি ছিলেন কবি ও সাংবাদিক সোহরাব হাসান, সাংবাদিক ও কলামিষ্ট বিশিষ্ট গবেষক সৈয়দ আবুল মকসুদ, মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষক নারী প্রগতি সংঘের নির্বাহী পরিচালক রোকেয়া কবীর,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ড. জোবাইদা নাসরীন কণা।

 

জাতীয় নাগরিক উদ্যোগের অন্যতম সদস্য অধ্যাপক ড. রোবায়েত ফেরদৌসের পরিচালনায় উক্ত  আলোচনা সভায় শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং।

 

সঞ্জীব দ্রং বলেন, আমরা যখন চুক্তির বর্ষপূর্তি পালন করছি আমাদের আজ আনন্দিত মনে উৎসবের সাথে পালন করার কথা। কিন্তু সেই চুক্তির বর্ষপূর্তি আজ বেদনার আর ক্ষোভের। পাহাড়ের মানুষ আজ হাহাকার দৈন্যদশার মধ্যে দিনাতিপাত করছে। তিনি আরো বলেন, রাষ্ট্রের অনুভূতি এখন ভোঁতা হয়ে গেছে। আমরা এক অনুভূতিহীন রাষ্ট্রে বসবাস করছি। তিনি সবার জন্য মানবিক, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ে তোলার জন্য পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন দাবী করেন।

 

সংহতি বক্তব্যে নারী প্রগতি সংঘের নির্বাহী পরিচালক  রোকেয়া কবির বলেন, সমাজের অর্ধেক অংশ নারীদের পেছনে ফেলে যেমন সমাজ এগিয়ে যেতে পারে না  তেমনি বাংলাদেশের একটা অংশ আদিবাসীদের পেছনে রেখে বাংলাদেশ এগিয়ে যেতে পারে না।

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. জোবাইদা নাসরীণ কণাতাঁর বক্তব্যে বলেন, পাহাড়ে কোনো সহিংসতা ঘটলে দুটে াজায়গাকে টার্গেট করা হয়। একটা পাহাড়ের নারী আর অপারটি ভূমি। এই আধিপত্যবাদী মননই পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নের পথে মূল অন্তরায় বলে দাবী করেন তিনি।

 

তিনি আরো বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম হলো সরকারী কর্মকর্তাদের‘ পানিশমেন্ট জোন’। এক সময় আন্দামান দ্বীপ, রোবেন দ্বীপ ছিল‘পানিশমেন্ট’ জোন। এই দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই পার্বত্য চট্টগ্রামকে দেখা হয়।

 

কবি ও সাংবাদিক সোহরাব হাসান বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি ছিল রাষ্ট্রের সংগে জনগণের চুক্তি। কিন্তু এই চুক্তি বাস্তবায়ন না হওয়াটা এক ধরণের বঞ্চনা। এই চুক্তি যদি বাস্তবায়ন না হয় তা হলে তাদের আবার অস্ত্র হাতে তুলে  নেওয়া ব্যতীত আর কোনো জায়গা থাকবে না। এই চুক্তি বাস্তবায়ন করতে না পারার দায় অবশ্যই সরকারকে নিতে হবে বলেও জানান তিনি।

 

এএলআরডির নির্বাহী পরিচাল কবি মানবাধিকার কর্মী শামসুলহুদা বলেন, প্রায়শই একটি মহল থেকে বলা হয় ২২ বছর ধরে চুক্তির যাবাস্তবায়ন হওয়ার কথা সেটা হয়ে গেছে। এখন সরকার যা করবে সেটাই হবে। এটা কখনো যৌক্তিক হতে পারেনা বলে অভিমত ব্যক্ত করেন তিনি।

 

বিশিষ্ট গবেষক সৈয়দ আবুল মকসুদ তাঁর বক্তব্যে  বলেন, সরকার প্রতি বছর বিভিন্ন পত্রিকায় পার্বত্য চুক্তি উপলক্ষ্যে ক্রোড়পত্র প্রকাশ করেন। কিন্তু এই ক্রোড়পত্রে চুক্তি স্বাক্ষরকারী অন্যতম ব্যক্তি সন্তু লারমার বক্তব্যও থাকা জরুরী। কেননা, সরকার কেবলমাত্র একতরফাভাবে তাদের বক্তব্য তুলে ধরেন।

 

তিনি আরো বলেন, সরকার বলে থাকে চুক্তির ৭২ টি ধারার মধ্যে ৪৮ টি বাস্তাবায়ন হয়েছে। এই কথাটি ২০১৩ সাল থেকে সরকার বলে আসছে। তাহলে এই ৬ টি বছরে কেন আরো বেশি হয়নি তার একটি ব্যখ্যা সরকারের থাকা উচিত। তিনি আরো দাবী করেন, সরকার হয়ত ১০০ বছর পূর্তিতেও বলবেন ৭২ টি ধারার মধ্যে ৪৯ টি বাস্তবায়িত হয়েছে।

 

অধ্যাপক মেসবাহ কামাল তাঁর বক্তব্যে বলেন, সরকারে চুক্তি বাস্তবায়নের মধ্যে কাল ক্ষেপনের কৌশল আছে। এই কালক্ষেপন করা উচিত নয়। তিনি আরো বলেন, এই চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য একটা সুনির্দিষ্ট কর্ম পরিকল্পনা তৈরী করা উচিত ছিল কিন্তু সরকার তা না করে কৌশল হিসেবে নানা ধরনের দমন-পীড়ন চালাচ্ছে।

 

তিনি আরো বলেন, এই চুক্তি বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তা পাহাড়ের নেতৃস্থানীয়রা যতটুকু বুঝেন সামরিক ও বেসামরিক আমলারা তেমন বুঝেন না। তিনি আরো অভিযোগকরেন, আজকে এই চুক্তি বাস্তবায়নে আজ পদে পদে বাঁধা। এই বাঁধা আসছে সামরিক ও বেসামরি কআমলাদের পক্ষ থেকে।

 

মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান বলেন,আমি ধরে নিলাম ৪৮ টি ধারা বাস্তবায়িত হয়েছে। কিন্তু আমার তো প্রধান বিষয়- ভূমি। এই ভূমির উপর যদি আমার নিয়ন্ত্রণ না থাকে, এই ধারাটি যদি সমাধান না হয়তাহলে এই ৪৮ টি বাস্তবায়ন অর্থহীন।

 

তিনি আরো বলেন, অস্ত্র জমা দিয়েই তো পাহাড়ী মানুষরা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। চুক্তি স্বাক্ষরের পর সন্তু লারমা বা পাহাড়ী মানুষরা কী এমন করেছে যা বাংলাদেশের স্বার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি স্বরূপ। সরকার কিন্তু এরকম একটি বিষয়ও দেখাতে পারবে না বলেও দাবী করেন বিশিষ্ট এই শিক্ষক।

 

তিনি পাহাড়ে চলমান হত্যাকান্ড নিয়ে বলেন, এই হত্যাকান্ড সংঘটনের পেছনে কারা জড়িত রয়েছে তাদেরকে খুঁজে বের করার সে রকম কোনো রাষ্ট্রীয় তাড়নাও আমরা দেখি না। একটি সভ্য রাষ্ট্রে একজন নিরপরাধ মানুষেরও অস্বাভাবিক মৃত্যু হতে পারে না। যদি সেটা হয় তাহলে সেখানে কোনো গলদ আছে বলে ধরে নিতে হবে।

 

চলমান শুদ্ধি অভিযানের মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম মন্ত্রণালয়কেও অভিযানের আওতায় আনা উচিত দাবী করে তিনি আরো বলেন, সরকারের মতে ৪৮ টি ধারা বাস্তবায়িত হয়েছে আর জনসংহতির মতে ২৫ টি বাস্তবায়িত হয়েছে। এই দাবীর মধ্যে যে বিশাল তফাৎ এটাকে সামনে নিয়ে আসা উচিত বলে মনে করেন মানবাধিকার কমিশনের সাবেক এই চেয়ারম্যান।

 

অনুষ্ঠানের সভাপতি বর্ষীয়ার রাজনীতিবিদ পঙ্কজ  ভট্টাচার্য সমাপনি বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশের এক দশমাংশ (পার্বত্য চট্টগ্রাম)জায়গায় সেনাশাসন বিদ্যমান থাকবে আরপার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়ন হওয়ার দাবী করবেন এই স্ববিরোধীতা হতে পারে না। সরকার কর্তৃক প্রকাশিত ক্রোড়পত্র প্রতারণায় ভরা বলেও  দাবী করেন তিনি। তিনি অবিলম্বে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়নের দাবী করেন।

 

এছাড়া উক্ত অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. খাইরুল চৌধুরী, বাংলাদেশ কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি নূর মোহাম্মদ তালুকদার,বিশিষ্ট সাংবাদিক নুরুল কবিরসহ দেশের বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার প্রগতিশীল ব্যক্তিরা।

--হিলবিডি২৪/সম্পাদনা/সিআর.

 

ads
ads
এই বিভাগের সর্বশেষ
আর্কাইভ