• Hillbd newsletter page
  • Hillbd rss page
  • Hillbd twitter page
  • Hillbd facebook page
সর্বশেষ
পার্বত্যাঞ্চলে সন্ত্রাস জঙ্গী মাদক নির্মুলে পরিকিল্পিত অভিযান পরিচালনা করা হবে-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী                    রাঙামাটিতে জীবন এর উদ্যেগে হাত ধোয়া দিবস পালিত                    পানছড়িতে আন্তজার্তিক গ্রামীণ নারী দিবস পালিত                    কাপ্তাইয়ে আশিকার আয়োজনে বিশ্ব গ্রামীণ নারী দিবস পালন                    আসামবস্তী বুদ্ধাংকুর বৌদ্ধ বিহারে কঠিন চীবর দানোৎসব অনুষ্ঠিত                    বরকলে যুবদের নিয়ে দু`দিন ব্যাপী ভ্রাম্যমান প্রশিক্ষণ শুরু                    প্রবারণা পূর্ণিমা উপলক্ষে মহালছড়ির চেঙ্গী নদীতে কল্প জাহাজ ভাসানো উৎসব                    আলীকদমে সড়ক দূর্ঘটনায় ২ জন নিহত ও আহত ১৩ জন                    রাঙামাটিতে যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদায় প্রবারণা পূর্নিমা উদযাপিত                    পার্বত্যমন্ত্রী’র মাতার মৃত্যুতে নির্মলেন্দু চৌধুরী মেমরিয়্যাল ফাউন্ডেশনের শোক প্রকাশ                    রাঙামাটিতে প্রাথমিক শিক্ষার গুনগত মানোন্নয়ে শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তাগনের সাথে মতবিনিময় সভা                    বাল্য বিবাহ নিরোধ দিবস উপলক্ষে বরকলে সমাবেশ ও মানববন্ধন                    শ্রমিকলীগের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে রাঙামাটিতে র‌্যালী ও আলোচনা সভা                    চন্দ্রঘোনা ইউনিয়ন আ`লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত                    রাঙামাটির তপোবন অরণ্য কুটিরে প্রবারণা পূর্ণিমা অনুষ্ঠিত                    রাঙামাটিতে বিশ্ব ডিম দিবস পালিত                    রাঙামাটিতে বাস উল্টে ১০যাত্রী আহত                    ভ্রাতৃঘাতি সংঘাত বন্ধ ও ঐক্যের দাবিতে দীঘিনালায় সমাবেশ                    আলীকদমে সাজাপ্রাপ্ত ৩ আসামী গ্রেফতার                    রাঙামাটিতে দ্বিতীয় দিনে হ্রদে কচুরিপানা অপসারণে প্যানেল মেয়র ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার                    উন্নয়ন মূলক তথ্য পাওয়া জনগণের অধিকার-প্রতাপ চন্দ্র বিশ্বাস                    
 

আর্যশ্রাবক বন ভান্তে

বিশেষ রিপোর্টার : হিলবিডি টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published: 06 Nov 2013   Wednesday

বৌদ্ধ ধর্মীয় অন্যতম গুরু শ্রীমৎ সাধনানন্দ মহাস্থবির(বন ভান্তে) ১৯২০ সালের ৮ জানুয়ারী রাঙামাটি জেলা সদরের মগবান ইউনিয়নের মোড়ঘোনা গ্রামের সাধারণ পরিবারে জন্ম গ্রহন করেন। বন ভান্তের প্রব্রজ্যা গ্রহনের আগে তাঁর গৃহী নাম ছিল রথীন্দ্র লাল চাকমা। তার পিতার নাম স্বর্গীয় হারু মোহন চাকমা এবং মাতার নাম স্বর্গীয় বীরপুদি চাকমা। তিনি ৫ ভাই ও এক বোনের মধ্যে সকলের বড় ছিলেন। বন ভান্তের জন্ম স্থানটি ১৯৬০ সালের কাপ্তাই বাধের কারণে কাপ্তাই হ্রদের পানিতে ডুবে যায়।

 

১৯৪৯ সালের ফ্রেরুয়ারী মাসে চট্টগ্রামের নন্দন কানন বৌদ্ধ বিহারে ফাল্গুনী পূর্নিমা তিথির সময়ে শ্রীমৎ দীপংকর ভিক্ষুর কাছে তিনি প্রব্রজ্যা গ্রহন করেন। প্রব্রজ্যা গ্রহনের পর তিনি বৌদ্ধ ধর্মের সত্যের সন্ধান করতে থাকেন। তিনি নিজের প্রজ্ঞাবলে উপলদ্ধি করেন যে মনুষ্য লোকে অবস্থান করে দুঃখ থেকে মুক্তি লাভ করা সম্ভব নয়। তাই তিনি নিজের জন্ম স্থানের পাশে ধনপাতা নামক স্থানে ফিরে এসে গভীর জঙ্গলে অবস্থান করে নিজেকে শীল-সমাধি-প্রজ্ঞার ধ্যান সাধনায় নিয়োজিত করেন।

 

অবশেষে দীর্ঘ ১২ বছর কঠোর ধ্যান সাধনার মধ্য দিয়ে তিনি বৌদ্ধ ধর্মের সত্য দর্শন ও মার্গফল লাভ করেন এবং তিনিই সর্ব প্রথম চিরাচরিত ধর্ম আচরণের পরিবর্তে তথাগত গৌতম বুদ্ধ প্রবর্তিত লোকাত্তর সাধনার প্রর্বতন করেন। পরবর্তীতে তার জন্ম স্থান কাপ্তাই হ্রদের পানিতে ডুবে যাওয়ার পর ১৯৬১ সালে তিনি খাগড়াছড়ি জেলার দীঘিনালা উপজেলার বনাশ্রমে ভিক্ষু জীবন যাপন শুরু করেন। পরে রাঙামাটির লংগদু উপজেলার তিনটিলা বন বিহারে ১৯৭০ সাল থেকে ১৯৭৪ সাল পর্ষন্ত অবস্থান করেন। পরবর্তীতে বন ভান্তে ১৯৭৪ সালে রাঙামাটির সদরের তৎকালীন চাকমা রাজা দান করা ও চাকমা রাজার আমন্ত্রনে ৩৩ একর জায়গা উপর গড়ে উঠা রাঙামাটি রাজ বন বিহারে স্থায়ীভাবে অবস্থান করেন। তিনি ১৯৮১ সালে ১৪ ফের্রুয়ারী মহাথেরো হিসেবে উপসম্পদা লাভ করেন।


বন ভান্তে মহাপূর্নবতী বিশাখা প্রবর্তিত কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠান প্রচলন করেছিলেনঃ
বন ভান্তের জীবিত অবস্থায় মহামতি বুদ্ধের পদাংক অনুসরণ পূর্ব পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রায় সর্বত্র এবং চট্টগ্রামের অনেকাংশই লোকোত্তর জ্ঞান ছড়িয়ে দেয়ার কর্ম সম্পাদন করেছিলেন। তিনি ১৯৭৩ সালে মহাপূন্যবর্তী বিশাখা প্রবর্তিত কঠিন চীবর দান(তুলা থেকে সূতা, সূতা রং করা, সূতা থেকে কাপড় বোনা এবং পরে চীবর প্রস্তুত করা) উৎসব শুরু করেন রাঙামাটি জেলার লংগদু উপজেলার থেকে। একই বছর তিনি রাঙামাটি আসার পর থেকে রাঙামাটি রাজ বন বিহারে এই প্দ্ধতি অনুসরনপূর্বক দানোত্তম কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। প্রতি বছর তিন পার্বত্য জেলার ৩৪টি শাখা রাজ বন বিহারে এই অনুষ্ঠান পালিত হয়ে আসছে। আড়াই হাজার বছর আগে ভগবান গৌতম বুদ্ধের জীবব্দশায় মহাপূর্নবতী বিশাখা কর্তৃক প্রবর্তিত ২৪ ঘন্টার মধ্যে সূতা কাটা শুরু করে কাপড় বয়ন, সেলাই ও রং করাসহ যাবতীয় কাজ সম্পন্ন করে বৌদ্ধ ভিক্ষুদের দান করা হয়ে থাকে বলে একে কঠিন চীবর দান হিসেবে অভিহিত করা হয়।

 

এ পদ্ধতিতে দান করলে কায়িক-বাচনিক এবং মানসিক পরিশ্রম অধিকতর ফলদায়ক হয় বলে বৌদ্ধ শাস্ত্রে উল্লেখ রয়েছে। ১৯৯৬ সালে শ্রীমৎ বন ভান্তের উপদেশ অনুসারে তবোতিংশ স্বর্গ এবং দীপামেরু পূজা প্রচলন শুরু হয় রাজ বন বিহারে। বনভান্তে এও শিা দেন যে নিজের ভূলকে স্বীকার করে অপরকে মার মাধ্যমে প্রবারনার পূর্নিমার দিনে পরস্পরকে মা করে দেয়ার মহানমন্ত্র। তিনি প্রায় বলতেন পূর্ন্যর কাছে ভাগ্য এবং ধন হারানো কিছুই নয়, নির্বানই সর্বতম সুন্দর। শীল পালনের মাধ্যমে বস্তুগত সম্পদ অর্জন সম্ভব বলে তিনি উপদেশ দিতেন। তিনি এ কথাও বলতেন যে পূন্য এবং শীল পালন করা গেলে পৃথিবীতে সুখ লাভ করা যাবে এবং নির্বাণ প্রাপ্তির পথ সুগম হবে।


বন ভান্তে জীবিত থাকার সময় তাঁর লেখা বইগুলো হলঃ
সুত্ত নিপাত সুদৃষ্টি, মহাসতিপত্তন সূত্র ও টিচিং অন মেডিটেশন।


বন ভান্তের অর্থ কিঃ
বন ভান্তের অর্থ হল এক জন ভিক্ষু(সন্নাসী) যিনি বনে বসবাস করেন। শ্রীমৎ বন ভান্তেকে সাধনানন্দ নামেই নামকরণ করেছিলেন চাকমা রাজ গুরু শ্রীমৎ অগ্রবংশ মহাথেরো। কেন না তাঁর(অগ্রবংশ) মতে বন ভান্তে ধর্মযাচক পদে অভিসিক্ত হওয়ার সময়ে কঠোর ধ্যানের মাধ্যমে জ্ঞানার্জন করেছিলেন।


বনভান্তের মহাপরিনির্বাণ লাভঃ
মহাসাধক বন ভান্তে ঢাকায় স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০১২ সালের ৩০ জানুয়ারী মহাপরি নির্বাণ লাভ করেন। ২৭ জানুয়ারী বন ভান্তেকে রাঙামাটি থেকে মুমুর্য অবস্থায় হেলিকপ্টারযোগে ঢাকার নেয়া হয়। বার্ধক্যজনিত রোগ ছাড়াও উচ্চ রক্তচাপ,ঠান্ডাজনিত সমস্যা এবং ফুসফুসের সমস্যায় ছিল। গত ২০১৩ সালের ৩১ জানুয়ারী রাতে রাঙামাটিতে মহাপরি নির্ববাণপ্রাপ্ত বন ভান্তের মরদেহ পৌঁছার পর হাজার হাজার ভক্ত ও পূর্ণ্যাথী তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানান। বর্তমানে রাঙামাটির রাজ বন বিহারে তাঁর মরদেহটি  বিনয় ও বিজ্ঞান সম্মমতভাবে তাঁর মরদেহ সংরক্ষণ করে রাখা রাখা হয়েছে।
–হিলবিডি২৪/সম্পাদনা/এনএ.

এই বিভাগের সর্বশেষ
আর্কাইভ