• Hillbd newsletter page
  • Hillbd rss page
  • Hillbd twitter page
  • Hillbd facebook page
সর্বশেষ
রাঙামাটির বন্দুকভাঙ্গায় ৫০ পরিবারকে ত্রাণ দিয়েছে হিলর ভালেদী                    কাপ্তাইয়ে এক আনসার সদস্যের করোনা পজিটিভ                    খাগড়াছড়ির দুই উপজেলায় অসহায়দের পাশে দাড়ালো চাঙমা একাডেমী                    মাসিক প্রতিটি নারী-কিশোরীদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের সাথে জড়িত                    করোনা প্রতিরোধে রাঙামাটি রেড ক্রিসেন্টের ৯০ লাখ টাকার নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান                    খাগড়াছড়িতে ২৪ ঘন্টায় সর্বোচ্চ ৯ জন করোনা পজিটিভ, এ পর্ষন্ত সনাক্ত ৩০জন                    সাবেক্ষং-এ বড়পুল পাড়ায় বজ্রপাতে একই পরিবারের আহত ২                    দি ওয়ার্ল্ড বুদ্ধ শাসন সেবক সংঘ রাঙামাটি জেলা শাখার প্রতিবাদ                    পার্বত্য এলাকায় পাহাড়ী নারী ও মাসিক ব্যবস্থাপনা                    দি ওয়াল্ড বুদ্ধ শাসন সেবক সংঘ’ বাংলাদেশ এর প্রতিবাদ                    রাঙামাটিতে যথাযোগ্য ধমীয় মর্যাদায় পবিত্র ঈদ উল ফিতর উদযাপিত                    কাপ্তাইয়ে করোনার হানা, প্রথমবারের মতো ২ জন সনাক্ত                    অসহায় ১১০ পরিবারের পাশে রাঙাপানি যুব সমাজ                    করোনাযুদ্ধ: মানুষ আপনাদের জন্য শুভ কামনা করুক/প্রদীপ চৌধুরী                    দূর্যোগ মোকাবেলায় শেখ হাসিনা আপনাদের পাশে রয়েছেন-দীপংকর তালুকদারএমপি                    করোনায় খাগড়াছড়িতে কর্মহীনদের পাশে ত্রিপুরা চাকুরীজীবী কল্যাণ সমবায় সমিতি                    রাঙামাটিতে ৭ পুলিশ সদস্যসহ আরো ১০জনের পজিটিভি,মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৫৬                    খাগড়াছড়িতে করোনায় আরো ৫ জন সনাক্ত                    দীঘিনানালায় যুবককে কুপিয়ে হত্যা                    জুরাছড়িতে বিএনপি নেতা দীপেন দেওয়ানের বিশেষ উপহার বিতরণ                    দীঘিনালায় জ্ঞানকীর্তি চাকমাকে অপহরণের নিন্দা ও প্রতিবাদ                    
 

সাজেকে এখনো কমেনি হামের প্রকোপ, নতুন করে আরো আক্রান্ত শতাধিক

ষ্টাফ রিপোর্টার, সাজেক থেকে ফিরে : হিলবিডি টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published: 01 May 2020   Friday

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার দুর্গম সাজেকে কমেনি হামের প্রকোপ। নতুন করে সাজেকের দুর্গম ও প্রত্যন্ত এলাকায় আরো শতাধিক হামে আক্রান্ত হয়েছে বলে দাবী করেছে স্থাণীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীরা। তবে স্থানীয় উন্নয়ন সংস্থা আশিকা ডেভেপমেন্ট এসোসিয়েটস এর পক্ষ থেকে মেডিকেল ক্যাম্পের মাধ্যমে আক্রান্তদের চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছে।

 

এদিকে স্বাস্থ্য বিভাগ দাবী করেছে নতুন করে হামে আক্রান্ত হবার তথ্য যেমন নেই, তেমনি মাঠে প্রতিনিয়তই কাজ করছেন স্বাস্থ্য কর্মীরা।

 

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলাধীন সীমান্তবর্তী দুর্গম এলাকা হচ্ছে সাজেক ইউনিয়ন। গেল ফেব্রুয়ারি মাসের মাঝামাঝি থেকে সাজেক ইউনিয়ন এলাকায় হামের প্রার্দূভাব দেখা দেয়। এতে ৯ শিশু হামে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। আক্রান্ত হয়েছিলে বয়স্ক ও শিশুসহ প্রায় দুশতাধিক। এতে সরকারীভাবে মেডিকেল টিম গঠন করে আক্রান্ত চিকিৎসা  সেবা দেয়। পাশাপাশি   সেনাবাহিনী ও বিজিবির পক্ষ থেকেও আক্রান্তদের চিকিৎসা সেবা প্রদান করে। এতে হাম আক্রান্তের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আসে ও দুর্গত এলাকায় হামের টিকাও দেয়া হয়। কিন্তু নতুন করে আরো গেল এক সপ্তাহে সাজেকের মাচলং  এলাকায় ৬৪ জন, সুরুনং নালায় ২৮ জন, গঙ্গারাম ও ভাই বোন ছড়ায় ৭ জন আক্রান্ত হয়েছে।  তবে এসব এলাকায় আক্রান্তদের চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছে  বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা আশিকা ডেভেপমেন্ট এসোসিয়েটস এর মেডিকেল টিম। সেখানে এই টিমটি  আক্রান্তদের চিকিৎসা, কাউন্সেলিং, বিনামূল্যে ঔষধ প্রদান  ছাড়াও  আক্রান্ত পরিবারদের নগদ অর্থ প্রদান করছে।

 

সুরুংনালা এলাকার সমাজকর্মী বিজয় কেতন চাকমা জানান, সরকারি-বেসরকারি কর্তপক্ষের কাছে সাজেক মানে ‘রুইলুই পর্যটন’। ওখানে উঠলে পাহাড়-প্রকৃতি দেখা যায়, মানুষের কষ্ট দেখা যায় না। তাই এখানকার মানুষের অভাব-অসুস্থতা জানতে হলে রুইলুই পাহাড় থেকে নেমে চারপাশে হাঁটতে হবে।

 

সুরুংনালার এলাকার কার্বাারী(গ্রাম প্রধান) অমর কান্তি চাকমা জানান, সুরুংনালার এলাকায় আগেও হামে আক্রান্ত হয়েছিল। এখন নতুন করে আরো ২৮ জন হামে আক্রান্ত হয়েছে। তিনি তার এলাকায় হাম রোগীদের  সুচিকিৎসার কামনা করেছেন।

 

উজোবাজারের ফার্মেসি মালিক পুতুল চাকমা বলেন, চলতি মাসের শুরু থেকে রাঙামাটি থেকে ‘আশিকা ডেভলপমেন্ট এসোসিয়েটস’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান নিজেদের নিয়োগকৃত স্বাস্থ্য কর্মীদের মাধ্যমে ইউনিয়নের সবচেয়ে দুর্গম এলাকাগুলোতে স্বাস্থ্য সেবার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ঔষধপত্র-পরামর্শের পাশাপাশি পরিবার পিছু নগদ অর্থ সহায়তাও প্রদান করছে।

 

উন্নয়নকর্মী সুমিত চাকমা’র মতে সরকারি সেবার অপ্রতুলতা কাটিয়ে উঠতে ‘আশিকা’র প্রতি সাজেকের মানুষের আস্থা বেড়েছে।

 

ইউপি সদস্য সুশীলা চাকমা ও হীরানন্দ ত্রিপুরা বলেন, সাজেক ইউনিয়নটি ফেনী জেলার সমান আয়তনের। বেশিরভাগ এলাকা দুর্গম এবং দারিদ্র্যপ্রবণ। গ্রীস্ম ও বর্ষাকাল মানেই এখানে খাদ্য সংকটের মৌসুম। এই সময়টাতে ‘আশিকা’র মতো এনজিওরা বেশি বেশি এগিয়ে আসলে এলাকার মানুষ উপকৃত হবে।

 

হাম রোগীদের চিকিৎসা দিতে স্থানীয় উন্নয়ন সংস্থা ‘আশিকা ডেভেপমেন্ট এসোসিয়েটস’- এর প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর বিমল কান্তি চাকমা জানিয়েছেন, এই উদ্যোগে মেডিকেল ক্যাম্পের মাধ্যমে চিকিৎসা ও বিনামূল্যে ঔষুধ সেবা দিয়ে যাচ্ছেন নিয়োগকৃত স্বাস্থ্যকর্মীরা। গত একমাসে ইউকে এইড ও স্টর্ট ফান্ড বাংলাদেশ-এর সহায়তায় সাজেকের দুর্গম কাইচ্ছা পাড়া, অরুণপাড়া, শিয়ালদা, ভূইয়োছড়ি, শিজকছড়া, দাড়িপাড়া, সুরুংনালা এলাকায় ফ্রি-মেডিকেল ক্যাম্প, কাউন্সেলিং, বিনামূল্যে ঔষধ এবং নগদ সহায়তা প্রদান অব্যাহত আছে।

 

তিনি আরো জানান, সাজেক ইউনিয়নের অধিকাংশ স্থায়ী বাসিন্দাই জুমজীবি এবং দিনমজুর। বছরের এই সময়টাতে পুরো এলাকাজুড়ে খাদ্য ও কাজের সংকট সৃষ্টি হয়। সরকার-বেসরকারিভাবে স্বল্পমূল্যের রেশনিং চালু করা গেলে মানুষের জীবন ও জীবিকা স্থায়িত্বশীল হবে।

 

সাজেক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নেলসন চাকমা নয়ন বলেন, সাজেক এলাকায় নতুন করে মাচলংয়ে ৬৪ জন, সুরুনং নালায় ২৮ জন, গঙ্গারাম ও ভাইবোন ছড়ায় ৭ জন আক্রান্ত হয়েছে। ইতোমধ্যে উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় আইন-শৃখলা বাহিনীকে আক্রান্তদের তালিকা দেয়া হয়েছে।

 

তিনি আরো জানান, দুর্গম এলাকায় ৯ শিশুর মৃত্যুর খবর পেয়ে সবার আগে সেনাবাহিনী সর্বোচ্চ সহযোগিতা নিয়ে এগিয়ে এসেছে। পাশাপাশি অনেক এলাকায় বিজিবিও সহযোগিতা প্রদান করেছে। এই দুই প্রতিষ্ঠান এগিয়ে না আসলে পরিস্থিতি আরো খারপা হতে পারতো।

 

‘আশিকা ডেভলপমেন্ট এসোসিয়েটস’-এর নির্বাহী পরিচালক বিপ্লব চাকমা জানান, ২০১৭ সালে সাজেক এলাকায় ভয়াবহ খাদ্য সংকট সৃষ্টি হয়েছিলো। তাঁর আগেও ‘ইঁদুর বন্যা’র কবলে পড়ে ব্যাপক ফসলহানির মুখে মানুষ সাজেক ছেড়ে পালানোর ঘটনা ঘটেছিল। এলাকাটির অধিকাংশ মানুষ সুপেয় পানির সুযোগবঞ্চিত। অভাব-অশিক্ষায় মানবেতর জীবনযাপন করেন।

 

তিনি তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতার রেশ টেনে বলেন, জিও-এনজিও ক্লোজলি দীর্ঘ মেয়াদে কাজ করলেই ওখানে স্থায়িত্বশীল উন্নয়ন নিশ্চিত করা যাবে। আর তখনিই মানুষের অন্যান্য মৌলিক অধিকারগুলো পূরণে অগ্রগতি মিলবে।

 

বাঘাইছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইফতেখার নতুন করে হামে আক্রান্ত রোগীর কোন তথ্য নেই দাবি করে বলেন, মাঠে স্বাস্থ্য কর্মীরা নিরবিচ্ছিন্নভাবে কাজ করছেন। প্রয়োজনে তিনি নিজেও এলাকা পরিদর্শন করে নির্দেশনা দেবেন।

 

রাঙামাটির সিভিল সার্জন ডা. বিপাশ চাকমা জানান, তাঁদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য আমাদের চেষ্টার ত্রুটি নেই। সেনাবাহিনী-বিজিবিও জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের সাথে সমন্বিতভাবে কাজ করছেন। নতুন করে আক্রান্তের তথ্য নিশ্চিত হওয়া মাত্রই ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

তিনি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে সরকারি প্রতিষ্ঠানের সাথে আরো ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করলে এলাকার মানুষ বেশি উপকৃত হবেন বলেও মত ব্যক্ত করেন।  

--হিলবিডি২৪/সম্পাদনা/সিআর.

আর্কাইভ