• Hillbd newsletter page
  • Hillbd rss page
  • Hillbd twitter page
  • Hillbd facebook page
সর্বশেষ
সারাদেশে অব্যাহত ধর্ষণের ঘটনায় এইচডব্লিউএফের উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ                    রাঙামাটিতে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্র্য দিবস পালিত                    রাঙামাটি আইনজীবী সমিতির সভাপতি শাহ আলম ও সম্পাদক শিশুমনি চাকমা নির্বাচিত                    বাঘাইছড়িতে প্রত্যান্ত এলাকা থেকে হাম লক্ষণ নিয়ে এক শিশু হাসপাতালে ভর্তি                    রাঙামাটি ছাত্রদলের কমিটি বাতিলের দাবিতে দলীয় কার্যালয়ে তালা দিলো পদ বঞ্চিতরা                    পিসিপির নেতৃত্বে জিকো ও অন্তর চাকমা                    পার্বত্য সমস্যাকে হালকাভাবে না দেখে গুরুত্বের সহকারে দেখার জন্য আহ্বান উষাতন তালুকদারের                    Expression of Interest(EOI) ASHIKA                    আশিকা বিজ্ঞাপণ                    পাহাড়ে নারীদের অধিকার ও ক্ষমতায়নে লড়াই করছেন সূচরিতা চাকমা                    Request for Quotation (RFQ)                    Hill Flower Vacancy Announcement                    Request for Quotation (RFQ)                    হিলফ্লাওয়ার                    আশিকা টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি                    বিলাইছড়িতে অগ্নিকাণ্ডে ৩টি ঘর পুড়ে ছাই                    Request For Quotation Notice                    ফারুয়া উচ্চ বিদ্যালয় পরিদর্শনে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান                    ফারুয়া থানা পরিদর্শন করলেন পুলিশ সুপার                    Vendor Enlistment Notice                    জেলা পর্যায়ে আঞ্চলিক পরিষদ ও সরকারি কর্মকর্তাদের সাথে সমন্বয় সভা                    
 
ads

রাঙামাটির দুর্গম পাহাড়ে বেড়ে উঠা দক্ষিণ এশিয়ার শ্রেষ্ঠ গোলরক্ষক রুপ্না চাকমার গল্প

ষ্টাফ রিপোর্টার : হিলবিডি টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published: 20 Sep 2022   Tuesday
রুপনা চাকমার মা কালোসোনা চাকমা।

রুপনা চাকমার মা কালোসোনা চাকমা।

রাঙামাটির দুর্গম পাহাড়ে অতিদরিদ্রতার সাথে বেড়ে উঠা নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশীপের শিরোপা জেতা টুর্নামেন্টের শ্রেষ্ঠ গোলরক্ষক রুপনা চাকমা এখন আর্ন্তজাতিক ক্রীড়াঙ্গনে পরিচিত মুখ। বাংলাদেশের শিরোপা জেতার পেছনে রয়েছে এই পাহাড়ী মেয়ের অনন্য কৃতিত্ব রয়েছে। তার মা কালোসোনা চাকমা থেকে রাঙামাটিবাসী তাকে নিয়ে গর্বিত।

 

রাঙামাটির নানিয়ারচর উপজেলার ঘিলাছড়ি ইউনিয়নের দুর্গম ভূয়োআদামের জন্ম রুপ্না চাকমার। পৃথিবীতে ভূমিষ্ট হওয়ার আগে তার বাবা মারা যান। তার মা অতিদরিদ্রতার সাথে লড়াই করে তাকে কষ্টের মধ্য দিয়ে বড় করে তোলেন। তবে ছোট বেলা থেকেই ফুটবলের প্রতি ছিল তার প্রচন্ড ঝোক। গ্রামের হাছাছড়ি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির পর নানিয়ারচরে উপজেলা পর্যায়ে খেলা খেলতে গিয়ে তার ফুটবল শৈলির নজরে আসে সবাইয়ে। পরে ঘাগড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তির পর তার অদম্য শক্তি ও পরিশ্রমে আর্ন্তজাতিক অনূর্ধ্ব-১৯ নারী সাফ গেমসসে দলে দেখতে ডাক পান রুপনা চাকমা।


এদিকে, নারী সাফ ফুটবলে চ্যাম্পয়িন ও টুর্নামেন্টের সেরা গোল রক্ষক হয়ে দেশের জন্য গৌরব অর্জনে তার মা ও গ্রামের লোকজন এখন খুশিতে আত্নহারা হয়ে উঠেছেন। এখন তার অপেক্ষায় রয়েছেন তাকে প্রাণঢালা সংবর্ধনা দেওয়ার জন্য। রুপনা চাকমার জন্মের আগে বাবা গাথামনি চাকমা মারা যাওয়ার পর মা কালোসোনা সংসারের হাল ধরেন। ছেলে-মেয়েদের বড়ো করতে পারলেও তিনি এখন দরিদ্রতার সাথে প্রতিনিয়ত লড়াই করছেন। দুর্গম ভূইয়োদামে রুপনাদের একটি ভাঙা একটি কুঁড়ে ঘর। সেখানে মা ও দক্ষিণ এশিয়ার শ্রেষ্ঠ গোলরক্ষ রুপনাকে বসবাস করতে হচ্ছে।


রুপনা চাকমার মা কালোসোনা চাকমা জানান, রুপনার বাবা মারা যাওয়ার পর ছেলে-মেয়েদের অনেক কষ্ট করে বড় করেছেন। ছোট বেলা থেকে রুপনা চাকমার ফুটবলের প্রতি প্রচন্ড ঝোক ছিল। ছোট বেলায় একবার প্রচন্ড জ¦র উঠেছিল কিন্তু তারপরও বৃষ্টিতে ভিজে ভিজে মাঠে খেলতে গিয়েছিল রুপনা। তার এই খেলার প্রতি আগ্রহ ছিল তাই তিনি আর কোন দিনই তাকে বাঁধা দেয়নি মেয়েকে। তার মেয়ে দেশের জন্য বিজয় ছিনিয়ে আনায় গর্ববোধ করছি। মেয়ের এই বিজয়ে গ্রামের লোকজন খুবই খুশি।


তিনি আরো জানান, তার মেয়ে নিজের আগ্রহ আসে বলে এতো দুর যেতে পেরেছে। তবে এতদূর আসার পেছনে মূল কারিগর হলেন ঘাগড়ার শান্তি মনি চাকমা ও বীরসেন চাকমা। তিনি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তার মেয়ে বহুদুর এগিয়ে যেতে পারে সে জন্য সবাইয়ের আর্শীবাদ কামনা করেন।

 

রূপনার আপন বড়ভাই জীবন চাকমা বলেন, রুপনা ছোটবেলা থেকে খেলা পছন্দ করতো এবং খেলা খেলার জন্য বন্ধু ছেলেদের সাথে মিশতো। বিকেলে কাজের থেকে ফিরে মায়ের থেকে শুনি বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। গ্রামের লোকেরা রূপনাকে নিয়ে প্রশংসা করছে।


ভূঁইয়োাদাম গ্রামের বাসিন্দা আলো বিকাশ চাকমা বলেন, রুপনার জন্মও হয়নি তার বাবা মারা গেছেন। মা তাদের অনেক কষ্ট করে বড় করেছেন। সেই রুপনা আজ আমাদের গ্রামের সুনাম চারদিকে ছড়িয়ে দিয়েছে। আমার তার জন্য গর্ববোধ করছি।

তিনি আরো জানান, ২০১২ সালের দিকে সে নানিয়ারচরে ফুটবল খেলতে গিয়েছিলো।সেখানে তার খেলা পছন্দ হয়ে বীরসেন চাকমা ও শান্তি মনি চাকমা তাকে ঘাগড়াতে নিয়ে যান। তাদের অবদান রয়েছে।


গ্রাম প্রধান সুদত্ত বিকাশ চাকমা বলেন, রুপনা চাকমা সম্পর্কে ভাগিনা হয়। সে ছোটবেলা থেকে খেলাধুলা প্রেমী। গ্রামের মানুষ তাকে নিয়ে গর্ববোধ করতেছে। তবে তার পরিবারের ও তাকে এ পর্যন্ত সাহায্য সহযোগিতা করতে কাউকে দেখি নি। সরকার চাইলে রূপনার জন্য অনেন কিছু করতে পারে।`


ঘিলাছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) মহিলা প্যানেল চেয়ারম্যান বাসন্তী চাকমা বলেন, রুপনা আমাদের ইউনিয়নের মেয়ে। তার জন্য আমরা গর্ববোধ করছি।কেননা সে আমাদের গ্রামের মেয়ে হয়ে বাংলাদেশের জন্য শিরোপা এনে দিয়েছে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে তাকে যদি সহায়তা করা হয় তবে অনেক ভালো হয়। কেননা তার বাবা নেই। ছোটবেলা থেকে সে তার বাবকে দেখেনি।
--হিলবিডি২৪/সম্পাদনা/সিআর.

ads
ads
এই বিভাগের সর্বশেষ
আর্কাইভ