• Hillbd newsletter page
  • Hillbd rss page
  • Hillbd twitter page
  • Hillbd facebook page
সর্বশেষ
খাগড়াছড়িতে যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রনে এডভোকেসী সভা                    খাগড়াছড়িতে প্রার্থীদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দ                    খাগড়াছড়িতে মূলধারার তাবলীগের সংবাদ সম্মেলন,তিন দফা দাবী                    এএফ মুজিবুর রহমান ফাউন্ডেশনের ৯১ লক্ষ টাকায় মোনঘর শিশু সদনে ছাত্রী নিবাসের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন                    মহালছড়ির মিলনপুর বন বিহারে ধর্মীয় ও শিক্ষা সহায়ক বই বিতরণ সেনাবাহিনীর                    বাঘাইছড়ি থেকে দীপংকর তালুকদারের নৌকা প্রতীকের আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচারণা শুরু                    নির্বাচনে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় আসলে পাহাড়ে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাত বন্ধে জোরালো পদক্ষেপ নেবে                    রাঙামাটি আসনে প্রতিদ্বন্ধি ৬ প্রার্থীকে প্রতীক বরাদ্দ,সিংহ প্রতীক পেলেন উষাতন তালুকদার                    বিলাইছড়িতে আন্তর্জাতিক দুর্নীতি বিরোধী দিবস উদযাপন                    রাঙামাটিতে বেগম রোকেয়া দিবস পালিত, ৫ জয়িতাকে সম্মাননা                    রাঙামাটি সরকারী কলেজে দুর্নীতি বিরোধী গণসাক্ষর কার্যক্রম অনুষ্ঠিত                    রাঙামাটি আসনে ৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন                    বরকলে বেগম রোকেয়া দিবস উপলক্ষে র‌্যালী আলোচনা সভা                    জুরাছড়িতে ৫ সফল নারীকে সম্মাননা প্রদান                    জুরাছড়িতে দুনীতি প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে মানববন্ধন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত                    বিলাইছড়িতে বেগম রোকেয়া দিবস পালিত                    খাগড়াছড়িতে দুর্নীতি বিরোধী মানববন্ধন                    খাগড়াছড়িতে পূবালী ব্যাংক শাখার দ্বরোদঘাটন                    বিশ্ব ইস্তেমার ময়দানে হামলার প্রতিবাদে খাগড়াছড়িতে আলেম ওলামাদের মানববন্ধন                    কাপ্তাইয়ে আন্তর্জাতিক দুনীর্তি বিরোধী দিবস উপলক্ষে র‍্যালী ও মানববন্ধন                    কাপ্তাইয়ে নুরুল হুদা কাদেরী স্মৃতি বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত                    
 

হারিয়ে যাচ্ছে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী বাশেঁর তৈরি কারুশিল্প

ঝুলন দত্ত,কাপ্তাই : হিলবিডি টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published: 30 Jul 2018   Monday

বাশঁ ছাড়া কি গহীন গ্রামের চিত্রকল্প ফুটিয়ে তোলা যায়? বাশঁ আবহমান জাতির জীবনযুদ্ধের সংগ্রামী জীবনধারার চিরায়ত বন্ধু। বাংলার সবুজ শ্যামল নিসর্গকে একাই কুক্ষিগত করে রাজার আভিজাত্য নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে বাঁশবন।

 

জীবন বাঁচাতে কখনো বা দেশ বাঁচাতে হাজার বছর ধরে জাতি লড়েছে  প্রতিরোধে, সংগ্রামে, বাশেঁর লাঠি দিয়ে, মাথা বাঁচিয়েছে বাঁশের ঢাল দিয়ে, বাঁশের তীর ধনুক, বর্শী ছুড়ে শত্রুকে ঘায়েল করেছে, বাঁশের কেল্লা বানিয়ে আত্মরক্ষা করেছে। স্থাপত্যের ঘর বাড়ি, ছাউনি, বেড়া, ইত্যাদি বানিয়েছে, নিত্য ব্যবহার্য কাজে শিশুর দোলনা থেকে শুরু করে জুড়ি, লাই, বেত, তুরুম, বাঁশি ইত্যাদি। এ উপকরণগুলোও ছিল জাতির কাছে সহজলভ্য। যোগাযোগ কাজে সাঁকো, সেতু, জাতির কৌম কৃষি ও সমাজব্যবস্থায় মাটি বাঁশ বেত কাঠ প্রয়োজনীয় অনুষঙ্গ সভ্যতারও মূল ভিত্তি।

 

এমনকি একসময় জমিদারি আমলে “বাঁশ মহালের” জন্যে আলাদা খাজনা নির্ধারিত ছিল।  জমিদারের দেহলিজে, উৎসব, পালা, পার্বণে বসার উপকরণ যেটি ছিল তাও ছিল বাঁশের তৈরি চাটাই। বাঁশ বেত কাঠ যেহেতু পচনশীল উদ্ভিদ সেহেতু এসব উপকরণভিত্তিক কারুশিল্প কেমন ছিল আজ তা জানার কোনো উপায় নেই।

 

এদেশের পাহাড়ে লোকেরাও ছন বাঁশের নির্মিত ঘরবাড়িতে বসবাস করে, হিংস্র জীবজন্তুর আক্রমণ থেকে নিজেকে রক্ষার জন্য । বাঁশের মাচাং ঘর, বাঁশের বেড়া বাঁশের জানালা, বাঁশের যে ঘর তৈরি করত, সে ঘর ছিল পাহাড়ের চিরায়ত জলবায়ু আবহাওয়া পরিবেশের সাথে খাপ খাওয়ানো পরিবেশবান্ধব “পাহাড়ী ঘর”। ঘর গেরস্থালি কাজের জন্যে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান বাঁশ জাতির অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের জোরালো ভূমিকা রেখেছিল।

 

বেশিরভাগ মানুষ এক সময় “ বাঁশ কাঠ” ব্যবসার সাথে জড়িত ছিল।  এই পেশার সাথে গাঁয়ের এক শ্রেণির পেশাজীবী মানুষেরও উদ্ভব হয়েছিল, যাদের কাজ ছিল বাঁশঝাড় থেকে বাঁশ কেটে সাইজ করে বাণ্ডিল করা এবং তা পানিতে ভাসিয়ে হাটবাজারে, গঞ্জে বিক্রির জন্যে নিয়ে যাওয়া, মাস শেষে শ্রমিকদের জন্যে নির্দিষ্ট বেতনও বরাদ্দ ছিল। এক সময় নদীতে সাম্পান মতো ভাসমান “বাঁশের চালি” নদীর দৃষ্টিন্দন রূপকে বাড়িয়ে দিত। এমনতায় বাঁশ ধ্বংসের কারণে এখন সেসব দৃশ্য সহসা চোখে পড়ে না।

 

পাহাড়ের একজন এমন বয়স্ক কারুশিল্পর কাছে জানা যায়, বর্তমানে বাঁশ ধ্বংসের কারণে এসব বাঁশের তৈরি কারুকাজ কিংবা নিত্য প্রয়োজনীয় ব্যবহার্য সামগ্রী বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। তিনি একজন সাবেক ইউপি সদস্য,  তার বয়স শেষ প্রান্তে হলেও তিনি নিজের এমন একটা অভিজ্ঞতাকে এখনো হাতে ধরে রেখেছেন।

 

কথা হয় রাইখালি এবং ওয়াগ্গা ইউনিয়নের প্রত্যন্ত অঞ্চলের  বেশ কয়েকজন কারু শিল্পির সাথে, তারা জানান, এখন আগের মতো পাহাড়ে বাঁশ উৎপাদন হয়না। জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে মানুষ বন জংগল বাঁশ ঝাড় কেটে ঘরবাড়ী তৈরী করছে, তাছাড়া এখন প্রযুক্তির উৎকর্ষতার সাথে সাথে মানুষ স্টিলের তৈরী বিভিন্ন গৃহস্থালি জিনিষপত্র ব্যবহার করছে। হয়তোও এমন একদিন আসবে পরবর্তী প্রজন্মকে বাঁশ নামক এই বস্তুর সাথে পরিচয় করিয়ে দেবার জন্য পূর্বের ইতিহাসে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে হবে।

--হিলবিডি২৪/সম্পাদনা/সিআর.

আর্কাইভ