• Hillbd newsletter page
  • Hillbd rss page
  • Hillbd twitter page
  • Hillbd facebook page
সর্বশেষ
মহালছড়ি মিলনপুর বনবিহারে মাস ব্যাপী আকাশ প্রদীপ প্রজ্জ্বলন অনুষ্ঠান সমাপ্ত                    নানিয়ারচর উপজেলাবাসীর প্রথম সার্বজনীন মহাসংঘদান অনুষ্ঠিত                    রাঙামাটিতে বৌদ্ধ মৈত্রী সংঘের ২০ বছর পূর্তিতে গুনী ব্যক্তি সন্মাননা ও বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে শ্রদ্ধাদান                    মহালছড়িতে ডিজিটাল বাংলাদেশ দিবস উদযাপন                    বরকলে নলকূপ তত্ত্বাবধায়ক প্রশিক্ষণার্থীদের সমাপনী সভা অনুষ্ঠিত                    বরকলে ৪৫বিজিবির দেওয়া সমবায় গরু খামার প্রকল্পের শুভ উদ্ধোধন                    রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সেলাই মেশিন বিতরণ                    খাগড়াছড়িতে ডিজিটাল দিবসে র‌্যালি ও আলোচনা সভা                    রাঙামাটির রাজ বন বিহারে বংসা-ওয়াংসা গোঝার সার্বজনীন সংঘ দান অনুষ্ঠানের আয়োজন                    খাগড়াছড়িতে পার্বত্য নাগরিক পরিষদের সংবাদ সম্মেলন                    মহালছড়িতে লীন প্রকল্পের অবহিতকরণ সভা                    পার্বত্য ভিক্ষু সংঘের তৃতীয় সংঘরাজ অভয়তিষ্য মহাথেরোর অন্ত্যোষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন                    সড়ক উন্নয়নে মৈদং ইউনিয়নের চল্লিশ দিনের কর্মসূচী                    মহালছড়িতে রহমান স্মৃতি ফুটবল টুর্ণামেন্ট`র ফাইনাল খেলা ও পুরষ্কার বিতরণ অনুষ্ঠান সম্পন্ন                    উপার্জনক্ষম একমাত্র সন্তানের জামিন চেয়ে রাঙামাটিতে বৃদ্ধ পিতা-মাতার সংবাদ সম্মেলন                    সংঘরাজ প্রয়াত ভদন্ত অভয়তিষ্য মহাথেরোর তিন দিন ব্যাপী অন্ত্যোষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠান শুরু                    রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে খোলাবাজারে ৪৫ টাকায় পেঁয়াজ বিক্রি শুরু                    বিলাইছড়িতে বেগম রোকেয়া দিবস উদযাপন                    বিলাইছড়িতে আন্তর্জাতিক দুর্নীতি বিরোধী দিবস উদযাপন                    পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নের দাবিতে মহালছড়িতে বিক্ষোভ সমাবেশ                    বেগম রোকেয়া দিবস উপলক্ষে রাঙামাটিতে মানববন্ধন ও আলোচনা সভা                    
 

হারিয়ে যাচ্ছে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী বাশেঁর তৈরি কারুশিল্প

ঝুলন দত্ত,কাপ্তাই : হিলবিডি টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published: 30 Jul 2018   Monday

বাশঁ ছাড়া কি গহীন গ্রামের চিত্রকল্প ফুটিয়ে তোলা যায়? বাশঁ আবহমান জাতির জীবনযুদ্ধের সংগ্রামী জীবনধারার চিরায়ত বন্ধু। বাংলার সবুজ শ্যামল নিসর্গকে একাই কুক্ষিগত করে রাজার আভিজাত্য নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে বাঁশবন।

 

জীবন বাঁচাতে কখনো বা দেশ বাঁচাতে হাজার বছর ধরে জাতি লড়েছে  প্রতিরোধে, সংগ্রামে, বাশেঁর লাঠি দিয়ে, মাথা বাঁচিয়েছে বাঁশের ঢাল দিয়ে, বাঁশের তীর ধনুক, বর্শী ছুড়ে শত্রুকে ঘায়েল করেছে, বাঁশের কেল্লা বানিয়ে আত্মরক্ষা করেছে। স্থাপত্যের ঘর বাড়ি, ছাউনি, বেড়া, ইত্যাদি বানিয়েছে, নিত্য ব্যবহার্য কাজে শিশুর দোলনা থেকে শুরু করে জুড়ি, লাই, বেত, তুরুম, বাঁশি ইত্যাদি। এ উপকরণগুলোও ছিল জাতির কাছে সহজলভ্য। যোগাযোগ কাজে সাঁকো, সেতু, জাতির কৌম কৃষি ও সমাজব্যবস্থায় মাটি বাঁশ বেত কাঠ প্রয়োজনীয় অনুষঙ্গ সভ্যতারও মূল ভিত্তি।

 

এমনকি একসময় জমিদারি আমলে “বাঁশ মহালের” জন্যে আলাদা খাজনা নির্ধারিত ছিল।  জমিদারের দেহলিজে, উৎসব, পালা, পার্বণে বসার উপকরণ যেটি ছিল তাও ছিল বাঁশের তৈরি চাটাই। বাঁশ বেত কাঠ যেহেতু পচনশীল উদ্ভিদ সেহেতু এসব উপকরণভিত্তিক কারুশিল্প কেমন ছিল আজ তা জানার কোনো উপায় নেই।

 

এদেশের পাহাড়ে লোকেরাও ছন বাঁশের নির্মিত ঘরবাড়িতে বসবাস করে, হিংস্র জীবজন্তুর আক্রমণ থেকে নিজেকে রক্ষার জন্য । বাঁশের মাচাং ঘর, বাঁশের বেড়া বাঁশের জানালা, বাঁশের যে ঘর তৈরি করত, সে ঘর ছিল পাহাড়ের চিরায়ত জলবায়ু আবহাওয়া পরিবেশের সাথে খাপ খাওয়ানো পরিবেশবান্ধব “পাহাড়ী ঘর”। ঘর গেরস্থালি কাজের জন্যে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান বাঁশ জাতির অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের জোরালো ভূমিকা রেখেছিল।

 

বেশিরভাগ মানুষ এক সময় “ বাঁশ কাঠ” ব্যবসার সাথে জড়িত ছিল।  এই পেশার সাথে গাঁয়ের এক শ্রেণির পেশাজীবী মানুষেরও উদ্ভব হয়েছিল, যাদের কাজ ছিল বাঁশঝাড় থেকে বাঁশ কেটে সাইজ করে বাণ্ডিল করা এবং তা পানিতে ভাসিয়ে হাটবাজারে, গঞ্জে বিক্রির জন্যে নিয়ে যাওয়া, মাস শেষে শ্রমিকদের জন্যে নির্দিষ্ট বেতনও বরাদ্দ ছিল। এক সময় নদীতে সাম্পান মতো ভাসমান “বাঁশের চালি” নদীর দৃষ্টিন্দন রূপকে বাড়িয়ে দিত। এমনতায় বাঁশ ধ্বংসের কারণে এখন সেসব দৃশ্য সহসা চোখে পড়ে না।

 

পাহাড়ের একজন এমন বয়স্ক কারুশিল্পর কাছে জানা যায়, বর্তমানে বাঁশ ধ্বংসের কারণে এসব বাঁশের তৈরি কারুকাজ কিংবা নিত্য প্রয়োজনীয় ব্যবহার্য সামগ্রী বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। তিনি একজন সাবেক ইউপি সদস্য,  তার বয়স শেষ প্রান্তে হলেও তিনি নিজের এমন একটা অভিজ্ঞতাকে এখনো হাতে ধরে রেখেছেন।

 

কথা হয় রাইখালি এবং ওয়াগ্গা ইউনিয়নের প্রত্যন্ত অঞ্চলের  বেশ কয়েকজন কারু শিল্পির সাথে, তারা জানান, এখন আগের মতো পাহাড়ে বাঁশ উৎপাদন হয়না। জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে মানুষ বন জংগল বাঁশ ঝাড় কেটে ঘরবাড়ী তৈরী করছে, তাছাড়া এখন প্রযুক্তির উৎকর্ষতার সাথে সাথে মানুষ স্টিলের তৈরী বিভিন্ন গৃহস্থালি জিনিষপত্র ব্যবহার করছে। হয়তোও এমন একদিন আসবে পরবর্তী প্রজন্মকে বাঁশ নামক এই বস্তুর সাথে পরিচয় করিয়ে দেবার জন্য পূর্বের ইতিহাসে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে হবে।

--হিলবিডি২৪/সম্পাদনা/সিআর.

এই বিভাগের সর্বশেষ
আর্কাইভ