• Hillbd newsletter page
  • Hillbd rss page
  • Hillbd twitter page
  • Hillbd facebook page
সর্বশেষ
পার্বত্যাঞ্চলে সন্ত্রাস জঙ্গী মাদক নির্মুলে পরিকিল্পিত অভিযান পরিচালনা করা হবে-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী                    রাঙামাটিতে জীবন এর উদ্যেগে হাত ধোয়া দিবস পালিত                    পানছড়িতে আন্তজার্তিক গ্রামীণ নারী দিবস পালিত                    কাপ্তাইয়ে আশিকার আয়োজনে বিশ্ব গ্রামীণ নারী দিবস পালন                    আসামবস্তী বুদ্ধাংকুর বৌদ্ধ বিহারে কঠিন চীবর দানোৎসব অনুষ্ঠিত                    বরকলে যুবদের নিয়ে দু`দিন ব্যাপী ভ্রাম্যমান প্রশিক্ষণ শুরু                    প্রবারণা পূর্ণিমা উপলক্ষে মহালছড়ির চেঙ্গী নদীতে কল্প জাহাজ ভাসানো উৎসব                    আলীকদমে সড়ক দূর্ঘটনায় ২ জন নিহত ও আহত ১৩ জন                    রাঙামাটিতে যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদায় প্রবারণা পূর্নিমা উদযাপিত                    পার্বত্যমন্ত্রী’র মাতার মৃত্যুতে নির্মলেন্দু চৌধুরী মেমরিয়্যাল ফাউন্ডেশনের শোক প্রকাশ                    রাঙামাটিতে প্রাথমিক শিক্ষার গুনগত মানোন্নয়ে শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তাগনের সাথে মতবিনিময় সভা                    বাল্য বিবাহ নিরোধ দিবস উপলক্ষে বরকলে সমাবেশ ও মানববন্ধন                    শ্রমিকলীগের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে রাঙামাটিতে র‌্যালী ও আলোচনা সভা                    চন্দ্রঘোনা ইউনিয়ন আ`লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত                    রাঙামাটির তপোবন অরণ্য কুটিরে প্রবারণা পূর্ণিমা অনুষ্ঠিত                    রাঙামাটিতে বিশ্ব ডিম দিবস পালিত                    রাঙামাটিতে বাস উল্টে ১০যাত্রী আহত                    ভ্রাতৃঘাতি সংঘাত বন্ধ ও ঐক্যের দাবিতে দীঘিনালায় সমাবেশ                    আলীকদমে সাজাপ্রাপ্ত ৩ আসামী গ্রেফতার                    রাঙামাটিতে দ্বিতীয় দিনে হ্রদে কচুরিপানা অপসারণে প্যানেল মেয়র ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার                    উন্নয়ন মূলক তথ্য পাওয়া জনগণের অধিকার-প্রতাপ চন্দ্র বিশ্বাস                    
 

হারিয়ে যাচ্ছে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী বাশেঁর তৈরি কারুশিল্প

ঝুলন দত্ত,কাপ্তাই : হিলবিডি টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published: 30 Jul 2018   Monday

বাশঁ ছাড়া কি গহীন গ্রামের চিত্রকল্প ফুটিয়ে তোলা যায়? বাশঁ আবহমান জাতির জীবনযুদ্ধের সংগ্রামী জীবনধারার চিরায়ত বন্ধু। বাংলার সবুজ শ্যামল নিসর্গকে একাই কুক্ষিগত করে রাজার আভিজাত্য নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে বাঁশবন।

 

জীবন বাঁচাতে কখনো বা দেশ বাঁচাতে হাজার বছর ধরে জাতি লড়েছে  প্রতিরোধে, সংগ্রামে, বাশেঁর লাঠি দিয়ে, মাথা বাঁচিয়েছে বাঁশের ঢাল দিয়ে, বাঁশের তীর ধনুক, বর্শী ছুড়ে শত্রুকে ঘায়েল করেছে, বাঁশের কেল্লা বানিয়ে আত্মরক্ষা করেছে। স্থাপত্যের ঘর বাড়ি, ছাউনি, বেড়া, ইত্যাদি বানিয়েছে, নিত্য ব্যবহার্য কাজে শিশুর দোলনা থেকে শুরু করে জুড়ি, লাই, বেত, তুরুম, বাঁশি ইত্যাদি। এ উপকরণগুলোও ছিল জাতির কাছে সহজলভ্য। যোগাযোগ কাজে সাঁকো, সেতু, জাতির কৌম কৃষি ও সমাজব্যবস্থায় মাটি বাঁশ বেত কাঠ প্রয়োজনীয় অনুষঙ্গ সভ্যতারও মূল ভিত্তি।

 

এমনকি একসময় জমিদারি আমলে “বাঁশ মহালের” জন্যে আলাদা খাজনা নির্ধারিত ছিল।  জমিদারের দেহলিজে, উৎসব, পালা, পার্বণে বসার উপকরণ যেটি ছিল তাও ছিল বাঁশের তৈরি চাটাই। বাঁশ বেত কাঠ যেহেতু পচনশীল উদ্ভিদ সেহেতু এসব উপকরণভিত্তিক কারুশিল্প কেমন ছিল আজ তা জানার কোনো উপায় নেই।

 

এদেশের পাহাড়ে লোকেরাও ছন বাঁশের নির্মিত ঘরবাড়িতে বসবাস করে, হিংস্র জীবজন্তুর আক্রমণ থেকে নিজেকে রক্ষার জন্য । বাঁশের মাচাং ঘর, বাঁশের বেড়া বাঁশের জানালা, বাঁশের যে ঘর তৈরি করত, সে ঘর ছিল পাহাড়ের চিরায়ত জলবায়ু আবহাওয়া পরিবেশের সাথে খাপ খাওয়ানো পরিবেশবান্ধব “পাহাড়ী ঘর”। ঘর গেরস্থালি কাজের জন্যে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান বাঁশ জাতির অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের জোরালো ভূমিকা রেখেছিল।

 

বেশিরভাগ মানুষ এক সময় “ বাঁশ কাঠ” ব্যবসার সাথে জড়িত ছিল।  এই পেশার সাথে গাঁয়ের এক শ্রেণির পেশাজীবী মানুষেরও উদ্ভব হয়েছিল, যাদের কাজ ছিল বাঁশঝাড় থেকে বাঁশ কেটে সাইজ করে বাণ্ডিল করা এবং তা পানিতে ভাসিয়ে হাটবাজারে, গঞ্জে বিক্রির জন্যে নিয়ে যাওয়া, মাস শেষে শ্রমিকদের জন্যে নির্দিষ্ট বেতনও বরাদ্দ ছিল। এক সময় নদীতে সাম্পান মতো ভাসমান “বাঁশের চালি” নদীর দৃষ্টিন্দন রূপকে বাড়িয়ে দিত। এমনতায় বাঁশ ধ্বংসের কারণে এখন সেসব দৃশ্য সহসা চোখে পড়ে না।

 

পাহাড়ের একজন এমন বয়স্ক কারুশিল্পর কাছে জানা যায়, বর্তমানে বাঁশ ধ্বংসের কারণে এসব বাঁশের তৈরি কারুকাজ কিংবা নিত্য প্রয়োজনীয় ব্যবহার্য সামগ্রী বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। তিনি একজন সাবেক ইউপি সদস্য,  তার বয়স শেষ প্রান্তে হলেও তিনি নিজের এমন একটা অভিজ্ঞতাকে এখনো হাতে ধরে রেখেছেন।

 

কথা হয় রাইখালি এবং ওয়াগ্গা ইউনিয়নের প্রত্যন্ত অঞ্চলের  বেশ কয়েকজন কারু শিল্পির সাথে, তারা জানান, এখন আগের মতো পাহাড়ে বাঁশ উৎপাদন হয়না। জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে মানুষ বন জংগল বাঁশ ঝাড় কেটে ঘরবাড়ী তৈরী করছে, তাছাড়া এখন প্রযুক্তির উৎকর্ষতার সাথে সাথে মানুষ স্টিলের তৈরী বিভিন্ন গৃহস্থালি জিনিষপত্র ব্যবহার করছে। হয়তোও এমন একদিন আসবে পরবর্তী প্রজন্মকে বাঁশ নামক এই বস্তুর সাথে পরিচয় করিয়ে দেবার জন্য পূর্বের ইতিহাসে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে হবে।

--হিলবিডি২৪/সম্পাদনা/সিআর.

আর্কাইভ