• Hillbd newsletter page
  • Hillbd rss page
  • Hillbd twitter page
  • Hillbd facebook page
সর্বশেষ
রাঙামাটিতে বেগম রোকেয়া দিবস পালিত, ৫ জয়িতাকে সম্মাননা                    রাঙামাটি সরকারী কলেজে দুর্নীতি বিরোধী গণসাক্ষর কার্যক্রম অনুষ্ঠিত                    রাঙামাটি আসনে ৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন                    বরকলে বেগম রোকেয়া দিবস উপলক্ষে র‌্যালী আলোচনা সভা                    জুরাছড়িতে ৫ সফল নারীকে সম্মাননা প্রদান                    জুরাছড়িতে দুনীতি প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে মানববন্ধন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত                    বিলাইছড়িতে বেগম রোকেয়া দিবস পালিত                    খাগড়াছড়িতে দুর্নীতি বিরোধী মানববন্ধন                    খাগড়াছড়িতে পূবালী ব্যাংক শাখার দ্বরোদঘাটন                    বিশ্ব ইস্তেমার ময়দানে হামলার প্রতিবাদে খাগড়াছড়িতে আলেম ওলামাদের মানববন্ধন                    কাপ্তাইয়ে আন্তর্জাতিক দুনীর্তি বিরোধী দিবস উপলক্ষে র‍্যালী ও মানববন্ধন                    কাপ্তাইয়ে নুরুল হুদা কাদেরী স্মৃতি বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত                    পৃথিবীতে রাঙামাটির একমাত্র লাভ পয়েন্ট                    খাগড়াছড়িতে কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা’র প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করলেন বিশিষ্ট ব্যক্তিরা                    রোকেয়া দিবস উপলক্ষ্যে সনাকের উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত                    রাঙামাটিতে বঙ্গবন্ধু-বঙ্গমাতা ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন                    চন্দ্রঘোনায় বিএনপি নেতার উপর হামলা                    রাঙামাটি আসনে বিএনপির চূড়ান্ত প্রার্থী মনি স্বপন দেওয়ান                    রাঙামাটিতে পরিবার পরিকল্পনা ফ্যাসিলিটেটরদের কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা সভা                    আলীকদমে ইয়াবাসহ আটক ১                    রাঙামাটিতে বেদে ও অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধন                    
 

রোববার কাপ্তাইয়ে ৪০০০তম পাড়া কেন্দ্র উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার ও কাপ্তাই প্রতিনিধি : হিলবিডি টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published: 20 Jan 2018   Saturday

রোববার ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী কাপ্তাই উপজেলার ১ নং চন্দ্রঘোনা ইউনিয়নের মিতিঙ্গাছড়িতে ৪ হাজার তম পাড়া কেন্দ্র উদ্বোধন করবেন। এ উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসন থেকে যাবতীয় প্রস্তুতি গ্রহন করা হয়েছে।  

 

এদিকে, এ পাড়াকেন্দ্র উদ্বোধন অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে তিন পার্বত্য জেলায় উৎসবের আমেজ দেখা দিয়েছে। পার্বত্যবাসী প্রত্যাশা প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের মাধ্যমে এ এলাকার মানুষের সেবাপ্রাপ্তি স্থায়িত্ব লাভ করবে।

 

পাবর্ত্য চট্রগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রনালয়, পার্বত্য চট্রগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড এবং ইউনিসেফে’র যৌথ উদ্যোগে নির্মিত কাপ্তাই উপজেলার ১ নং চন্দ্রঘোনা ইউনিয়নের মিতিঙ্গাছড়িতে ৪ হাজার তম পাড়া কেন্দ্রটি প্রধানমন্ত্রী সকাল ১০ টায় ঢাকাস্হ  প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলের গ্রান্ড বলরুম হতে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে উদ্বোধন করবেন। এসময় ঢাকা সোনারগাঁও হোটেলে প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড: গওহর রিজভী, পার্বত্য চট্রগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রনালয় সম্প্রর্কিত সংসদীয় স্হায়ী কমিটির সভাপতি র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী এমপি, পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি, পার্বত্য চট্রগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের সচিব নব বিক্রম কিশোর ত্রিপুরা,ইউনিসেফের কান্ট্রি ডিরেক্টর এডোয়াট বিগেদারসহ মন্ত্রী পরিষদ এবং পদস্ত সরকারি কর্মকর্তারা উপস্হিত থাকবেন।

 

এদিকে একই সময়ে কাপ্তাই মিতিঙ্গাছড়ি পাড়া কেন্দ্রে রাঙামাটি জেলার সংসদ সদস্য উষাতন তালুকদার,সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য ফিরোজা বেগম চিনু এমপি,সাবেক পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদার, চট্রগ্রামের বিভাগীয় কমিশনারর আব্দুল মান্নান, রাঙামাটি জেলা প্রশাসক মানজারুল মান্নানসহ প্রশাসনের বিভাগীয়, জেলা এবং উপজেলা পর্যায়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্হানীয় জনপ্রতিনিধি, সামাজিক ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্হিত থাকবেন।

 

কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তারিকুল আলম জানান,সাড়ে ৩ লাখ টাকা ব্যয়ে এই পাড়া কেন্দ্র নির্মান করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন এবং পাড়া কেন্দ্র  একসাথে মাঠ পর্যায়ে মিলে সরকারের বিভিন্ন কর্মসুচী বাস্তবায়ন করে থাকে। তিনি কাপ্তাই উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ হতে প্রধানমন্ত্রীর নিকট কৃতজ্ঞতা জানান ভিডিও কনফারেন্সর মাধম্যে এই পাড়া কেন্দ্র উদ্বোধনের সদয় সম্মতি গ্রহন করেছেন। কাপ্তাই উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান দিলদার হোসেন, উপজেলা আ`লীগের সভাপতি অংসুইচাইন চৌধুরী, ১ নং চন্দ্রঘোনা ইউপি চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম চৌধুরী বেবী জানান, কাপ্তাইবাসীর জন্য এটা একটা গৌরবের বিষয়ক, প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই পাড়া কেন্দ্র উদ্বোধন করবেন, সেটা আমাদের সকলকের জন্য উৎসবের দিন।

 

অপরদিকে মিতিঙ্গাছড়িতে বসবাস করেন কাপ্তাই উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মাহাবুব হাসান বাবু, ইউপি সদস্য আবুল হাশেম জানান, মিতিঙ্গাছড়ি অধিবাসীরা ভাগ্যবান, যেখানে  প্রধানমন্ত্রী সরাসরি ভিডিও কনফারেন্সে যোগ দেবেন মিতিঙ্গাছড়ি জনগনের সাথে। এটা একটা উৎসবের আমেজে পরিনত হবে।

 

গেল ১৭ জানুয়ারী জেলা প্রশাসক মানজারুল মান্নান সহ পার্বত্য চট্রগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা কাপ্তাই এই পাড়া কেন্দ্র পরিদর্শন করেন এবং সার্বিক প্রস্ততি পর্যবেক্ষণ করেন। এসময় কাপ্তাই উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান দিলদার হোসেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তারিকুল আলম সহ উপজেলা পর্যায়ের সমন্বিত সমাজ উন্নয়ন প্রকল্পের কর্মকর্তারা উপস্হিত ছিলেন।

 

ইউনিসেফ সূত্রে জানা গেছে, পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম এলাকায় সার্ভিস সেন্টার হিসেবে বহুল পরিচিত এই পাড়াকেন্দ্র। পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের নিয়ন্ত্রণাধীন সমন্বিত সমাজ উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে পরিচালিত হওয়া এই পাড়াকেন্দ্রর মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের শিশু, কিশোরী ও নারীদের সেবা প্রদান করা হয়ে থাকে। এর বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো- সাধারণত একই ধর্ম ও সম্প্রদায়ের এবং একই ভাষাভাষী ৪০-৫০ টি পরিবারকে সেবা দেয়ার জন্য পরিচালিত একটি কেন্দ্র বা স্থান। তবে ক্ষেত্রবিশেষে একাধিক সম্প্রদায় বা কম সংখ্যক পরিবারের জন্যও একটি পাড়াকেন্দ্র থাকতে পারে। পাড়াকেন্দ্রের মাধ্যমে ৩-৬ বছর বয়সী শিশুদের জন্য প্রাক-শৈশব যত্ন ও প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা দান, গর্ভবতী, প্রসুতি ও নবজাতকের স্বাস্থ্য সেবা ও পরামর্শ দেয়া, প্রত্যক্ষ পুষ্টি কার্যক্রম পরিচালনা, স্বল্পব্যয়ী ও যথোপযুক্ত জীবন নির্বাহী কৌশল ও পদ্ধতির প্রদর্শন ও প্রশিক্ষণ দেয়া, শিশু সুরক্ষা, শিশু অধিকার ও নারীর অধিকার বিষয়ক ধারনা প্রদান ও কম্যুনিটি সদস্যদের এসব বিষয়ে আচরণগত পরিবর্তন সাধন করা,কম্যুনিটির হালনাগাদ তথ্য সংরক্ষন করা, কম্যুনিটি সভা করা, প্রশিক্ষণ ও অন্যান্য সামাজিক কাজে ব্যবহার করা হয় এই পাড়াকেন্দ্র। স্থানীয় একজন প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত নারীকর্মী কেন্দ্রটি পরিচালনা করেন।

 

পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকার অধিকাংশ মানুষ দুর্গম  এলাকায় বসবাস করে যেখানে মৌলিক সেবাসমূহ জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছানো দুরূহ ও কষ্টসাধ্য এবং এ এলাকার অধিকাংশ মানুষ দরিদ্র। সঙ্গত কারণেই এখানে মাথাপিছু আয় এবং ক্যালরী গ্রহণের হার জাতীয় হারের চেয়ে নিম্নে। স্বাস্থ্য সেবার প্রাপ্যতা, বিদ্যালয়ে ভর্তির হার, নারী শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসম্মত পয়:সুবিধা বিবেচনায় তিন পার্বত্য জেলা নিচের সারিতে অবস্থান করছে। এর প্রেক্ষিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকার আর্থ-সামাজিক সূচকসমূহের উন্নয়ন; বিশেষ করে মা ও শিশুর সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে বিশেষ ধরনের এ প্রকল্পটি বাংলাদেশ সরকার এবং ইউনিসেফ যৌথভাবে বাস্তবায়ন করে আসছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের ৪৭৩৪ টি পাড়ার মধ্যে ৩৫১৯টি পাড়ায় ১৬৫৩৪৩ পরিবারের ৮৫৯৭৮৪জনকে প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন সেবা প্রদান করা হচ্ছে। এ প্রকল্পের কার্যক্রমের ফলে পার্বত্যবাসীর জীবনমানের উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন সাধিত হয়েছে; এ অঞ্চলে প্রাক-প্রাথমিকে ভর্তি হার জাতীয় হারের তুলনায় ১৩.৩৩ শতাংশ অধিক, পার্বত্যাঞ্চলে ১৪০টি কম্যুনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে গ্রামীন জনগোষ্ঠীর এক তৃতীয়াংশের আয়রন সাপ্লিমেন্টেশান করা হচ্ছে।

 

বাকী দুই তৃতীয়াংশ পাড়াকেন্দ্রের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, ৪ হাজার ৪শ জনের একটি প্রশিক্ষিত কর্মী বাহিনী তৈরী করা হয়েছে যারা সামাজিক পরিবর্তনের ভূমিকা পালনে সক্ষম। এদের ৯৫% মহিলা। সমন্বিত সমাজ উন্নয়ন প্রকল্প পার্বত্যবাসীদের জীবনমান উন্নয়নে মূল্যবান অবদান রেখেছে। জন্ম নিবন্ধন, স্বাস্থ্য ও পুষ্টি পরিস্থিতি উন্নয়ন, পানি ও পয়: ব্যবস্থার উন্নয়ন ও শিক্ষা ক্ষেত্রে পার্বত্যাঞ্চলে দৃশ্যমান অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। পাড়াকর্মীর জ্ঞান ও দক্ষতা, প্রকল্প বাস্তবায়নে কমিউনিটির অংশগ্রহণ এবং সেবা বিতরণে বিভিন্ন সংস্থার সম্পৃক্ততা পাড়া কেন্দ্রকে তৃণমূল পর্যায়ে সত্যিকার অর্থে সেবা বিতরণের কেন্দ্র বিন্দুতে পরিণত করেছে। সহযোগী সংস্থাসমূহের অংশগ্রহণের মাধ্যমে পাড়াকেন্দ্রের মাধ্যমে স্বাস্থ্য, শিশু শিক্ষা, পুষ্টি, পানি ও পয়ঃব্যবস্থা ও হাইজিন অভ্যাস গড়ে উঠার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জিত হয়েছে। বর্তমানে ৩ পার্বত্য জেলার ২৬টি উপজেলায় ৩ হাজার ৯শ ৯৯টি পাড়াকেন্দ্র স্থাপিত হয়েছে।

--হিলবিডি২৪/সম্পাদনা/সিআর.

এই বিভাগের সর্বশেষ
আর্কাইভ