• Hillbd newsletter page
  • Hillbd rss page
  • Hillbd twitter page
  • Hillbd facebook page
সর্বশেষ
উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ও সরকারি চাকুরিতে কোটা পুর্নবহালের দাবিতে রাঙামাটিতে বিক্ষোভ-সমাবেশ                    বিলাইছড়িতে মিডওয়াইফ ও নার্সিং প্রশিক্ষণ সমাপনী ও সনদপত্র বিতরণ                    রাঙামাটি চ্যাম্পিয়ন লিগ ফুটবলে বিলাইছড়ি উপজেলা দলের শিরোপা লাভ                    Hill Flower Tender Notice                    রাঙামাটিতে এআই,ফ্যাক্ট চেকিং ও সাংবাদিক সুরক্ষা বিষয়ক তিনদিনের প্রশিক্ষণ কর্মশালা                    দুর্যোগে অসহায়দের পাশে দাঁড়াতে সামর্থ্যবান ও প্রতিষ্ঠানকে আহ্বান-দীপন তালুকদার দীপু                    বিলাইছড়িতে বৃক্ষরোপন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত                    বিলাইছড়িতে নতুন ইউএনও হিসেবে অভি দাশ এর যোগদান                    বিলাইছড়িতে ইউএনওদের বিদায় ও বরণ অনুষ্ঠান                    বিলাইছড়িতে সেনা জোন কর্তৃক মিডওয়াইফ নার্সিং প্রশিক্ষণ                    বিলাইছড়িতে বিএনপি`র প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন                    রাঙামাটিতে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত                    তিন ফুট খুলে দিয়ে কাপ্তাই বাঁধের পানির চাপ কমানো হচ্ছে                    বিলাইছড়িতে নজরুল বর্ষ উপলক্ষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উদ্বোধন                    বিলািইছড়িতে আশিকা’র প্রকল্প অবহিতকরণ সভা                    রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের সংবর্ধনা                    পুনঃ দরপত্র আহ্বান বিজ্ঞপ্তি (CRLIWM-CHT,WSM)                    Request for Re-Quotation-ASHIKA                    তিন পার্বত্য জেলা পরিষদের নতুন অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদ গঠিত                    AULSM CHTBD Project দরপত্র বিজ্ঞপ্তি                    আদিবাসী হিসেবে স্বীকৃতির দাবি জানালে বিছিন্নবাদী বলে তকমা দেওয়া হচ্ছে                    
 
ads

২৩ নয় কাউখালীতে পাহাড় ধ্বসে নিহত ২১
মাটির জোড়া মাটিই ভাঙলো, গাছ-ফল দুইই নিলো

জিয়াউর রহমান জুয়েল, কাউখালী : হিলবিডি টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published: 16 Jun 2017   Friday

আল্লাহ তারে মাটি দি বানাইছে। হেই মাটিই আমার জোড়া ভাইঙলো। গাছ-ফল দুইই নিলো। আল্লাহ তুমি খ্শি হইলে আমিও খুশি। মঙ্গলবারের পাহাড় ধ্বসে স্ত্রী ফাতেমা বেগম (৬০) কে হারিয়ে কথাগুলো বলছিলেন কাউখালীর কাশখালী এলাকার বর্ষিয়ান আব্দুল রশিদ।


একইসাথে স্ত্রী আর দুই ছেলে মো: ইসহাক (৩৫) ও মো: মনির (২৫ কে হারিয়ে নিজের প্রতি আক্ষেপ করে বলেন, বুড়া আমি। আমারে না নিয়া কেন ছেলেদের নি গেলা। তারা বিয়া শাদি কইরতো, কতো স্বাধ আহ্লাদ কইরতো। নিলে ৪ জনকেই একসাথে নিয়া যাইতা।


বুধবারের প্রায় সবকটি গণমাধ্যমেই মৃত হিসেবে নাম ছাপা হওয়া আব্দুল রশিদের বাড়ি উপজেলা সদর থেকে ৫ কিলোমিটার দূরে দূর্ঘটনাস্থল কাশখালী লেইঙ্গাছড়ি এলাকায়। বৃহস্পতিবার দুপুরে সেখানে গিয়ে খোঁজ নিতে গেলে প্রতিবেশিরা জানান আব্দুল রশিদ এখন ছেলের শ্বশুর বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। সেখানেই কথা হয় তাঁর সাথে।


পান খাওয়া হলোনা ফাতেমার ঃ ঘরে একাই পান খেতেন ফাতেমা বেগম। দূর্ঘটনার দিন সেহেরী খেয়ে স্বামীর কাছে পানের বাটা দেখিয়ে ফাতেমা আবদার করে বলেছিলেন- ১০ টাকার পান আইনেন। আব্দুল রশিদ বুঝতেই পারেননি এটাই স্ত্রীর শেষ আবদার হয়ে স্মৃতির পাতায় রয়ে যাবে, বিঁধবে বুকে। যা কোন দিনই পূরণ করা যাবেনা। বলেন, বেহেস্তেও সঙ্গী হিসেবে ফাতেমাকে চাই। যতদিন বেঁচে থাকবো ততদিন ২ টাকা থাকলে ১ টাকা দান করবো স্ত্রীর নামে। তার পরিশ্রমের ঋণ পূরণ করতে পারবোনা। আব্দুল রশিদ বলেন, ৪০ বছরের সংসার আমার। কখনো কোন অভিযোগ করেনি আমার স্ত্রী ফাতেমা। ছিলোনা কোন আবদারও। অভাব থাকলেও প্রতিবেশির কাছে কখনই হাত পাততেন না। দুধ বিক্রি করেই সংসার চলতো।


দূর্ঘটনায় বাঁ পায়ে জখন হওয়া আব্দুল রশিদ ঠিকমতো পা ফেলতে পারেননা। নিজের স্ত্রীর সম্পর্কে বলেন খুবই পরহেজগার ছিলো। কোন প্রতিবেশি পুরুষ তার মুখ দেখেনি। সবসময় মাথায় কাপড় থাকতো। ছেলে সম্পর্কে তিনি বলেন, বিমাতা হলেও ইসহাক ছিলো মা ভক্ত। দুধের গাভীর জন্য মায়ের কষ্ট দেখে নিজেই সাঁজ অন্ধকারে ঘাঁস কেটে আনায় মায়ের কথার জবাবে সে বলে ছিলো দুধ খেলে কষ্ট করতে হয় মা। বলেন, সহযোগিতা পেলে বর্গা জমি নিয়ে অন্যখানে ঘর বানাবো। যেখানে আমার স্ত্রী-পুত্রের জীবন গেছে সেখানে আমি ঘুমোতে পারবো না।


পাহাড়ের ঢালুতে টিনের চৌচালা মাটির ঘরে প্রায় ৩২ বছর ধরে বসবাস করছেন আব্দুল রশিদ। সংসারে তিন ছেলে আর চার মেয়ে থাকলেও এ ঘরটিতে স্ত্রী, দুই ছেলে আর ছোট মেয়ে থাকতো। দখিনা দরজা। সামনের বারান্দায় ছেলে মনির, মূল ঘরের পূর্ব দিকে ইসহাক আর পেছনের বারান্দায় ছোট মেয়ে রুনার কক্ষে স্ত্রী ফাতেমা অবস্থান করছিলেন। পূর্বদিকে প্রায় দুইশফুট খাড়াই পাহাড়। এই পাহাড় ধ্বসে মাটি চাঁপা পড়ে প্রাণ গেছে স্ত্রী ও দুই ছেলের। ভাগ্যের ফেরে বেঁচে গেছেন আব্দুর রশিদ। একদিন আগেই ভাইয়ের শশুর বাড়ি যাওয়ায় প্রাণে বাঁচেন মেয়ে রুনাও।


দূর্ঘটনার পরপরই প্রথম খবর পান আব্দুল রশিদের মেজো ছেলে জাকির হোসেন (৩৩), সে প্রায় ৪০ ফুট দূরের একটি ঘরে অবস্থান করছিলো। তিনি বলেন, সকাল ৬টার দিকে ঘরের মেঝের পানি সেঁচছিলাম। বিকট শব্দ শুনে বের হয়ে দেখি ঘর নাই, মাটি আর মাটি। জানালা দিয়ে ঘরে ঢুকে বাবাকে বের করে আনি। মা ও ভাইদের কাউকেই খুঁজে না পাওয়ায় প্রতিবেশিদের খবর দেই, চিৎকার করেতে থাকি সাহায্যের জন্য।


মা নয় বন্ধু হারালো রুনা ঃ ছোট মেয়ে রুনা আক্তার (১৬)। তার সাথে মায়ের সখ্য ছিল বেশি, সম্পর্কটা বন্ধুর। মাঝে মাঝে মেয়ের বিছানায় গিয়ে আরাম করার অভ্যাসটা দির্ঘদিনের। স্বামীর সঙ্গে ঘুমালেও সেহেরী খেয়েই ছোট মেয়ের কক্ষে চলে যান ফাতেমা। পরদিন সেখান থেকেই পাওয়া গেছে তাঁর নিথর দেহ। অথচ না গেলে স্বামীর সঙ্গে তিনিও বেঁছে যেতেন। হয়তো মৃত্যুই তাঁকে নিয়ে গিয়েছিল সেখানে। মায়ের কথা উঠতেই অঝোর ধারায় কান্না শুরু করে রুনা। আজ তিনদিন ধরে কোন কথাই বলেনি সে। নাওয়া খাওয়ার নামও নিচ্ছেনা। বোনেরা শান্তনা দিয়ে ভুলিয়ে রাখার বৃথা চেষ্টা করেই যাচ্ছে। তাকে শান্তনা দেওয়ার ভাষাও যেনো হারিয়ে ফেলেছে স্বজনেরা।


তসবিহ হাতে ফাতেমা বেগমঃ দূর্ঘটনার পরপরই খবর পেয়ে প্রথমে উদ্ধার করতে যানা প্রতিবেশি আব্দুর রহমান পিসি (৫০)। তিনি বলেন, সকাল ৬টার দিকে আব্দুল রশিদের ছেলে জাকিরের ডাকেই ঘটনাস্থলে ছুটে যাই। জানালা দিয়ে দেখি ওরা মাটি চাঁপা পড়ে আছে। একা সম্ভবনা দেখে উদ্ধারের জন্য প্রতিবেশিদের ডাকাডাকি শুরু করি। ২/৩ ঘন্টার চেষ্টায় ৪/৫ ফুট মাটি খুঁড়ে তসবিহ হাতে বসা ফাতেমা বেগমকে পাই। ঘুমন্ত মনিরের মরদেহ ছিলো কম্বল জড়ানো। প্রায় ৬ ঘন্টার চেষ্টায় ঘুমন্ত ইসহাকের নিথর দেহ উদ্ধার করি ১০ ফুট মাটির নিচ থেকে । মোবাইল যোগাযোগ থাকলে প্রতিবেশিদের ডাকতে পারলে দ্রুত উদ্ধার কাজ শুরু করা সম্ভব হলে হয়তো বাঁচানো যেতো।


প্রতিবেশি মোঃ সুমন (৩০) ও হালিম (২৫) বলেন আব্দুল রশিদের পরিবারকে গ্রামবাসিরা মাটির মানুষ হিসেবেই জানেন। এমন ভালো মানুষ পাওয়া সত্যিই অসাধ্য।
মৃতের সংখ্যার তথ্য বিভ্রাটঃ গত ১২ ও ১৩ জুন টানা বৃষ্টিতে পাহাড় ধ্বসে কাউখালীর বিভিন্ন এলাকায় নিহত হয়েছেন ২১ জন। এদেরমধ্যে নারী রয়েছেন ১০ জন। ৩ কন্যাশিশু ও ২ জন শিশু রয়েছে। কিন্তু রাঙামাটি জেলা প্রশাসকের বরাত দিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে মৃতের সংখ্যা দেখানো হয়েছে ২৩ জন। এরমধ্যে কাশখালী এলাকার আহত আব্দুল রশিদকে মৃত দেখানো হয়েছে। এছাড়া বাকছড়ি এলাকার ফুলমোহন চাকমার মেয়ে বৃষ মনি চাকমা (১১)র নাম ভুল করে বৃষমোহন চাকমা ও তৃষামনি চাকমা উল্লেখ করে মৃতের সংখা ২৩ দেখানো হয়েছে। আহত হয়েছে ৫ জন। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ও ত্রাণ শাখার প্রধান কমল বরণ সাহা বৃহস্পতিবার বিকালে নিশ্চিত করেছেন এই তথ্য।

--হিলবিডি২৪/সম্পাদনা/সিআর.

ads
ads
আর্কাইভ