• Hillbd newsletter page
  • Hillbd rss page
  • Hillbd twitter page
  • Hillbd facebook page
সর্বশেষ
জুম্ম শিশুকে ধর্ষনের প্রতিবাদে পিসিপি ও এইচডব্লিউর রাঙামাটিতে বিক্ষোভ-সমাবেশ                    রাঙামাটিতে অসহায় কৃষকের ধান কেটে ঘরে তুলে দিল জেলা ছাত্রদল                    রাঙামাটিতে এক হাজার পিচ ইয়াবাসহ আটক ৩                    সারাদেশে অব্যাহত ধর্ষণের ঘটনায় এইচডব্লিউএফের উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ                    রাঙামাটিতে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্র্য দিবস পালিত                    রাঙামাটি আইনজীবী সমিতির সভাপতি শাহ আলম ও সম্পাদক শিশুমনি চাকমা নির্বাচিত                    বাঘাইছড়িতে প্রত্যান্ত এলাকা থেকে হাম লক্ষণ নিয়ে এক শিশু হাসপাতালে ভর্তি                    রাঙামাটি ছাত্রদলের কমিটি বাতিলের দাবিতে দলীয় কার্যালয়ে তালা দিলো পদ বঞ্চিতরা                    পিসিপির নেতৃত্বে জিকো ও অন্তর চাকমা                    পার্বত্য সমস্যাকে হালকাভাবে না দেখে গুরুত্বের সহকারে দেখার জন্য আহ্বান উষাতন তালুকদারের                    Expression of Interest(EOI) ASHIKA                    আশিকা বিজ্ঞাপণ                    পাহাড়ে নারীদের অধিকার ও ক্ষমতায়নে লড়াই করছেন সূচরিতা চাকমা                    Request for Quotation (RFQ)                    Hill Flower Vacancy Announcement                    Request for Quotation (RFQ)                    হিলফ্লাওয়ার                    আশিকা টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি                    বিলাইছড়িতে অগ্নিকাণ্ডে ৩টি ঘর পুড়ে ছাই                    Request For Quotation Notice                    ফারুয়া উচ্চ বিদ্যালয় পরিদর্শনে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান                    
 
ads

রাঙামাটিতে পাহাড় ধসে নিহতদের দাহক্রিয়া সম্পন্ন
রাঙামাটিতে বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রিতরা স্ব-স্ব বাড়ীতে ফিরতে শুরু করেছেন

স্টাফ রিপোর্টার : হিলবিডি টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published: 13 Jun 2018   Wednesday

তিন দিনে ভারী বর্ষনের কারণে ঝুকিপুর্ন স্থানে বসবাসকারী লোকজন জেলা প্রশাসনের আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নিলেও বুধবার থেকে বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ায় আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রিতরা স্ব-স্ব বাড়ীতে ফিরতে শুরু করেছেন। তবে কিছুটা স্বস্তি ফিরে আসলেও বুধবার সন্ধ্যায় নামা ভারী বর্ষনের কারণে জনমনে আবারো আতংক বিরাজ করছে।

 

এদিকে, নানিয়ারচর উপজেলার পাহাড় ধসে মাটি চাপা পড়ে নিহত ১১ জনের মৃত দেহ গত মঙ্গলবার বিকালে স্ব-স্ব গ্রামে  দাহক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। নিহত ব্যক্তিদের প্রতি পরিবারকে  জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২০ হাজার টাকা ও রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে ৩০ হাজার  টাকা করে সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

 

নানিয়ারচর উপজেলা প্রশাসন জানায় নানিয়ারচর উপজেলার পাহাড় ধসে মাটি চাপা পড়ে নিহত ১১ জনের মৃত দেহ গত মঙ্গলবার বিকালে স্ব-স্ব গ্রামে  দাহক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। নিহত ব্যক্তিদের প্রতি পরিবারকে  জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২০ হাজার টাকা ও রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদেও পক্ষ থেকে ৩০ হাজার  টাকা করে সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার পাহাড় ধসে নানিয়ারচর উপজেলার ৪টি ইউনিয়নের মধ্যে সাবেক্ষং ইউপির বড়পুল পাড়ায় একই পরিবারের ৩ জন, বুড়িঘাট ইউপির ধর্মচরণ পাড়ায় একই পরিবারের ৪ জনসহ ১১ জনের মৃত্যু হয়।

 

এদিকে, টানা তিন দিন ভারী বর্ষনের কারণে শিমুলতলী, রুপনগর, নতুন পাড়া, মুসলিম পাড়াসহ বিভিন্ন স্থানে ঝুকিপূর্ন স্থানে বসবাসকারীদের জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২১টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছিল। এছাড়া রুপনগর এলাকার মাঠে ৭টি তাবু টানিয়ে দেয়া হয়। এসময় গত কয়েক দিনে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে বিভিন্ন স্থান থেকে প্রায় ৫শ লোকজন আশ্রয়   নেয়। কিন্তু গতকাল থেকে বৃষ্টিপাত  কমে যাওয়ায় ফের লোকজন স্ব-স্ব বাড়ীতে ফেরত যাচ্ছেন।  বর্তমানে আশ্রয় কেন্দ্রগুলো লোকজন কম রয়েছে। এছাড়া রুপনগর এলাকার মাঠে ৭টি তাবু টানিয়ে দেয়া হয়েছে সেখানেও আশ্রিতরা কেউই।

 

অপরদিকে, বুধবার থেকে বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ায় শিমুলতলী, রুপনগর, নতুন পাড়া, মুসলিম পাড়াসহ বিভিন্ন স্থান থেকে জেলা প্রশাসনের আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রিতরা স্ব-স্ব বাড়ীতে ফিরতে শুরু করেছেন। তবে গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় নামা ভারী বর্ষনের কারণে জনমনে আবারো আতংক বিরাজ করছে। টিভি কেন্দ্রে আশ্রয় নেয়া রুপনগর এলাকার বাসিন্দা জো¯œা আক্তার, মরিয়ম রেগম, মোঃ নাসির,ফিরোজা বেগম জানান, বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ায় স্ব-স্ব বাড়ীতে ফিরে যাচ্ছেন তারা। গত ৩ দিন ধরে তারা আশ্রয় কেন্দ্রে ছিলেন। আশ্রয় কেন্দ্রে থাকার সময় শুধুমাত্র একবার ইফতারি হিসেবে সিরা, কলা ও সামান্য পরিমানের গুড় দিয়েছিল প্রশাসন থেকে, এছাড়া আর কিছু দেয়নি। বাসায় গিয়ে ভাত রান্না করতে হয়। তারা আরো জানান, এভাবে কতদিন আশ্রয় কেন্দ্রে থাকবো। নিজের জায়গা মরলে মরবো আর বাচলে বাচবো। এভাবে আশ্রয় কেন্দ্রে থাকা সম্ভব নয়।

 

বাঘাইছড়িতে ১৬টি গ্রাম প্লাবিতঃ তিন দিনের অবিরাম বৃষ্টিপাত ও সীমান্ত থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে কাচালং নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় রাঙ্গঙমাটির বাঘাইছড়ির উপজেলার ১৬টি গ্রাম সম্পূর্ণ প্লাবিত হয়েছে।পানিবন্ধি হয়ে পড়েছে প্রায় ৬০ হাজার মানুষ। পাহাড়ী ঢল নেমে আসায় বাঘাইছড়ির বিস্তৃণ এলাকার কৃষি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। পানিবন্ধি মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও মার্কেটসহ বিভিন্ন পাকা ভবনে অবস্থান নিয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন দূর্গতদের জন্য এখনো কোন ত্রাণ তৎপরতা শুরু করতে পারেনি। তবে স্থানীয় আওয়ামীলীগের পক্ষ থেকে দূর্গতদের মাঝে শুকনা খাবার বিতরণ করা হচ্ছে। পাহাড়ী ঢল ও অতি বর্ষনের কারণে কাপ্তাই হ্রদের পানি উচ্চতা বাড়তে থাকায় লংগদু, জুরাছড়ি, বরকল, বিলাইছড়ি, নানিয়ারচরের নিম্নাঞ্চলের বসতবাড়ি ও কৃষি জমি পানিতে ডুবে গেছে।

 

জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশীদ জানান, বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ায় পরিস্থিতি উন্নতির দিকে রয়েছে। বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ায় আশ্রয় কেন্দ্রে থাকা লোকজন অনেকে চলে গেছেন নিজেদের বাসায়। তবে ভারী বৃষ্টিপাত হলে তারা আবার আশ্রয় কেন্দ্রে চলে আসবেন। জেলা প্রশাসনের আশ্রয় কেন্দ্রগুলো সবসময় খোলা রয়েছে। আশ্রিতরা ইচ্ছে করলে আশ্রয় কেন্দ্রে আবস্থান করতে পারবেন। তবে লোকজন অনেক সচেতন হয়েছেন বৃষ্টিপাত হলে নিজেদের তাগিদে তারা আশ্রয় কেন্দ্রে চলে আসছেন।

 

তিনি আরো বলেন, যদিও এবার কয়েটি স্থানে পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে, কিন্তু  প্রশাসনের পক্ষ থেকে আগাম প্রস্তুতি  ও লোকজনদের নিরাপদ স্থানে আশ্রয়ের কারণে  রাঙামাটি সদর ও পৌর এলাকায় এবার কোন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি এবং বিপদ থেকে রক্ষা পেয়েছি। তবে গত মঙ্গলবার নানিয়ারচরে যে ঘটনা ঘটেছে তা অনেক দুর্গম এলাকা। উপজেলা সদর থেকে ৫ থেকে ৬ কিলোমিটার দুরত্বে। তাই এসব এলাকায় আর যেন দুর্ঘটনা না ঘটে সে জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আগাম প্রস্তুতি নেয় হয়েছে।

 

তিনি বলেন, গতকাল মঙ্গলবার কয়েকটি আশ্রয় কেন্দ্রে তিনি নিজে গিয়ে আশ্রিতদের ইফতারসহ কিছু খাবার দিয়ে এসেছেন। আশ্রিতরা বাসা থেকে রান্না করে খাচ্ছেন। তবে ভবিষ্যতে আরো বৃষ্টিপাত হতে পারে তার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বাতœক প্রস্তৃতি গ্রহন করা  হয়েছে।

 

তিনি আরো বলেন, টানা বৃষ্টিপাতের কারণে বাঘাইছড়িতে পাহাড়ী ঢলে কিছু কিছু গ্রাম পানিতে ডুবে গেছে। উপজেলা প্রশাসন থেকে বেশ কয়েকটি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। ইতোমধ্যে বাঘাইছড়িতে দুর্গত এলাকায় ১০ মেট্রিক টন চাউল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

 

উল্লেখ্য, গেল বছর ১৩ জুন ৫ সেনা সদস্যসহ ১২০ জনের প্রাণহানী ঘটে। দুই শতাধিক ব্যক্তিকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। ক্ষতিগ্রস্ত ও দুর্গতের তালিকায় ৭৫০ পরিবারের ৩ হাজার ৪০০ লোক স্থান পায়। এছাড়া ১ হাজার ২৩১ ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ বিনষ্ট ও ৯ হাজার ৫৩৭ টি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

--হিলবিডি২৪/সম্পাদনা/সিআর.

ads
ads
আর্কাইভ