বুধবার (১৭ জুন) বিলাইছড়িতে পার্বত্য চট্টগ্রাম জলবায়ু ঘোষণা বিষয়ক এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ইয়ুথ ডেভেলপমেন্ট ফর সাসটেইনেবল বাংলাদেশ(ইউডিএসবি)সংগঠনের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে এই সভার আয়োজন করা হয়। এসময় অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্যে দেন বিলাইছড়ি ইউপি চেয়ারম্যান সুনীল কান্তি দেওয়ান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাজেশ প্রসাদ রায়, উপজেলা সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা জাকির হোসেন , বিলাইছড়ি প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও সম্পাদক পুষ্প মোহন চাকমা ও অসীম চাকমাসহ, হেডম্যান সুনিক জ্যোতি চাকমা, ব্র্যাক প্রতিনিধি সুইসাইন মারমা, রেড ক্রিসেন্ট প্রতিনিধি আলী আজগর , কার্বারী কল্প রঞ্জন চাকমা, এনজিও কর্মী মধুমিতা চাকমা প্রমূখ। সংগঠনের গবেষণা কর্মকর্তা অন্নিকা তঞ্চঙ্গ্যা’র সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক তাওহীদুল ইসলাম। এসময় তিনি কর্মসূচির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বিস্তারিত তুলে ধরেন।সভায় গণমাধ্যমকর্মী, রাজনৈতিক, ঐতিহ্যবাহী ও যুব সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন পেশাজীবী উপস্থিত ছিলেন।
অংশগ্রহণকারীরা বিলাইছড়িতে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সমস্যাগুলো তুলে ধরে বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পানির সংকট, বৃষ্টিপাতের ধরনের পরিবর্তন, পাহাড় ধসের ঝুঁকি বৃদ্ধি পাওয়া, তাপমাত্রা বৃদ্ধি, কৃষি ক্ষেত্রে উৎপাদন হ্রাস ও নেতিবাচক প্রভাব, জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি, স্বাস্থ্যগত সমস্যা এবং নদী ও ছড়ার পরিবর্তন, যোগাযোগ ব্যবস্থার সংকট ইত্যাদি সমস্যা দেখা যাচ্ছে। যা ভবিষ্যৎ শুভকর নয়। এজন্য বেশি বেশি পরিবেশ বান্ধব বৃক্ষরোপনসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার এবং পরিবেশ দূষণ রোধ করার জন্য জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধির উপর জোর দেন বক্তারা। তাছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রামে জুম চাষের পরিমাণ কমিয়ে আনার জন্য তাদেরকে সরকারি বা বেসরকারিভাবে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাসহ অভিযোজন বিষয়ে পর্য়াপ্ত কারিগরী ও অর্থসহায়তা প্রদানের মাধ্যমে সমস্যা লাঘবে সহযোগিতা কামনা করা হয়।
উল্রেখ্য, ইউডিএসবি ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত একটি যুব নেতৃত্বাধীন সংগঠন। প্রতিষ্ঠার পর থেকে ইউডিএসবি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে, বিশেষ করে পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশ সংরক্ষণ, শিক্ষা, নারীর ক্ষমতায়ন এবং সামাজিক উন্নয়ন নিয়ে কাজ করে আসছে। তাদের লক্ষ্য যুব, নারী এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সক্ষমতা বৃদ্ধি করা, যাতে তারা জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, শিক্ষা, নেতৃত্ব বিকাশ এবং সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারে। অংশ গ্রহণ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং সহযোগিতার সুযোগ তৈরি করে স্থানীয় জনগণকে নিজেদের উন্নয়নের পথ নিজেরাই নির্ধারণ ও পরিচালনা করতে উৎসাহিত করে েএ সংগঠনটি।
--হিলবিডি২৪/সম্পাদনা/সিআর.