• Hillbd newsletter page
  • Hillbd rss page
  • Hillbd twitter page
  • Hillbd facebook page
সর্বশেষ
পাহাড়ে নারীদের অধিকার ও ক্ষমতায়নে লড়াই করছেন সূচরিতা চাকমা                    Request for Quotation (RFQ)                    Request for Quotation (RFQ)                    হিলফ্লাওয়ার                    আশিকা টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি                    বিলাইছড়িতে অগ্নিকাণ্ডে ৩টি ঘর পুড়ে ছাই                    Request For Quotation Notice                    ফারুয়া উচ্চ বিদ্যালয় পরিদর্শনে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান                    ফারুয়া থানা পরিদর্শন করলেন পুলিশ সুপার                    Vendor Enlistment Notice                    জেলা পর্যায়ে আঞ্চলিক পরিষদ ও সরকারি কর্মকর্তাদের সাথে সমন্বয় সভা                    দরপত্র বিজ্ঞপ্তি                    রাঙামাটিতে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান বিজয় দিবস উদযাপিত                    বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রইফের সমাধিতে বিজিবির মহাপরিচালকের পক্ষ থেকে পুষ্পমাল্য অর্পন                    রাঙামাটিতে টেলিভিশন জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের আত্মপ্রকাশ                    পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নে বৃহত্তর আন্দোলনে সামিল হওয়ার আহবান                    আগামী ক্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে জেএসএস অংশ নিচ্ছে                    রাঙামাটিতে মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট ও ডিপ্লোমা ফার্মামিষ্টদের কর্মবিরতি পালন                    ৯৯নং রাঙামাটি আসনের বিএনপির প্রার্থী দীপেন দেওয়ানের মতবিনিময় সভা                    নবাগত জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফীর সাথে সাংবাদিকদের মতবিনিময়                    শিক্ষক নিয়োগে কোটা বৈষম্যের প্রতিবাদে রাঙামাটিতে বৃহস্পতিবার থেকে ৩৬ ঘন্টার হরতাল                    
 
ads

ড.অমিত চাকমাকে ‘ডক্টর অব সায়েন্স’ ডিগ্রি প্রদান
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫০তম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত

বিশেষ রিপোর্টার : হিলবিডি টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published: 05 Mar 2017   Sunday

রোববার উৎসব মুখর পরিবেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের(ঢাবি) ৫০তম সমাবর্তন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিভাগ, ইনস্টিটিউট ও ভবনের ছাত্র-ছাত্রীদের পদচারণায় মুখরিত ছিলো পুরো ক্যাম্পাস।

 

কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রাষ্ট্রপতি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর মো: আবদুল হামিদ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মো: এনামউজ্জামানের সঞ্চালনায় সমাবর্তন বক্তব্য দেন কানাডার ইউনিভার্সিটি অব ওয়েস্টার্ন অন্টারিও এর প্রেসিডেন্ট ও ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক অমিত চাকমা। সাইটেশন পাঠ ও ভাষণ প্রদান করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক । প্রো-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. নাসরীন আহমদ ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। এসময় প্রো-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো: আখতারুজ্জামান, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো: কামাল উদ্দীনসহ মন্ত্রীপরিষদের সদস্য, সংসদ সদস্য, বিভিন্ন কূটনৈতিক কমিশনের প্রধান, বিশ^বিদ্যালয়ের সিনেট-সিন্ডিকেট সদস্য ও একাডেমিক পরিষদের সদস্যগণ উপস্থিত ছিলেন।


সমাবর্তন অনুষ্ঠানে কানাডার ইউনিভার্সিটি অব ওয়েস্টার্ন ওন্টারিও-এর প্রেসিডেন্ট ও ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড.অমিত চাকমাকে ‘ডক্টর অব সায়েন্স’ ডিগ্রি প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬১ জন গবেষককে পিএইচডি, ৪৩ জনকে এমফিল, ৮০ জনকে স্বর্ণপদক এবং ১৭ হাজার ৮শ’ ৭৫ জন গ্র্যাজুয়েটকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি প্রদান করা হয়। সংশ্লিষ্ট অনুষদের ডিনগণ অনুষদভুক্ত বিভাগ ও ইনস্টিটিউটের ডিগ্রিপ্রাপ্ত গ্র্যাজুয়েটদের নাম উপস্থাপন করেন।


এবারের সমাবর্তনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগে পড়ুয়া ২৫ জনের অধিক পাহাড়ী শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন । তাদের মধ্যে ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণী বিদ্যা বিভাগ থেকে পিএইচডি ডিগ্রী অর্জন করা ড.নিখিল চাকমা।


সমাবর্তনের অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে আবেগে আপ্লুত হয়ে তারা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের ছিন্নমূল প্রান্তিক এলাকা থেকে তারা উঠে এসেছেন। কখনো ভাবেননি দেশের সর্ববৃহৎ শিক্ষাঙ্গন থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী অর্জন করবেন। তারা ভবিষ্যতে পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ী জনগোষ্ঠীর আর্থসামাজিক তথা জীবনমান উন্নয়নসহ দেশ ও দশের সেবায় অবদান রাখবেন বলে অঙ্গিকার ব্যক্ত করেন।


বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর মো: আবদুল হামিদ ব্যক্তি ও পরিবারের চেয়ে দেশ ও জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার জন্য গ্র্যাজুয়েটদের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বর্তমানের ছাত্র রাজনীতিতে আদর্শের চেয়ে ব্যক্তি বা গোষ্ঠী স্বার্থের প্রাধান্য বেশী।। তিনি আদর্শভিত্তিক ও কল্যাণমুখী ছাত্র রাজনীতি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে অবিলম্বে ডাকসু নির্বাচনের উপড় গুরুত্বারোপ করেন।


উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। এই লক্ষ্য অর্জনে বিশ্ববিদ্যালয় সমূহে জ্ঞান ভিত্তিক কাঠামো নির্মাণ করতে হবে। সকল শিক্ষার মূল লক্ষ্য হচ্ছে মানব কল্যাণ। শুধু সার্টিফিকেট অর্জন বা পরীক্ষায় ভাল ফলাফল করে দেশের কল্যাণ সাধন সম্ভব নয়। এ জন্য তাদের ভাল মানুষ হতে হবে। বর্তমান বিশ্বায়নের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে ছাত্র-ছাত্রীদের আন্তর্জাতিক মানের গ্র্যাজুয়েট হতে হবে।


কানাডার ইউনিভার্সিটি অব ওয়েস্টার্ন ওন্টারিও-এর প্রেসিডেন্ট ও ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক অমিত চাকমা বলেন, জীবনে সফল হওয়ার জন্য ৩টি বৈশিষ্ট্য যোগ্যতা, কর্মনিষ্ঠা ও চারিত্রিক গুণের দরকার। নিজের দক্ষতা ও মেধাকে কাজে লাগিয়ে এসব গুণ অর্জন করতে হবে। ভাল ও মন্দের বিচার করার সক্ষমতা অর্জন করতে হবে। নীতির ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। নীতি ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় সকল গ্র্যাজুয়েট নেতৃত্ব দিলে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল হবে।

 

যারা নেতৃত্বের পদ অলঙ্কৃত করেন তাদের সবার মধ্যেই যোগ্যতা এবং কর্মনিষ্ঠা থাকে। লোক বিশেষে এই দুটোর ব্যবধান খুব বেশি হওয়ার ঘটনা কম। ক্যারেক্টার এমন একটি বিশেষ গুণ; ব্যক্তি হিসেবে তার অনেক ব্যবধান থাকে। আর এই ক্যারেক্টারের মাধ্যমে আপনারা আপনাদের স্বক্রিয়তা, গুণ প্রতিষ্ঠা করতে পারবেন।’

 

আপনারা অনেক বিষয়ে পড়াশুনা করেছেন, কিন্তু শিক্ষা শুধু শাস্ত্রের জ্ঞান অর্জন করা নয়। শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হল জ্ঞানের মাধ্যমে মনের জানালা খুলে দেওয়া।মনকে বিকশিত করা, আরও উন্মুক্ত করা। শিক্ষার আলো দিয়ে অজ্ঞানতাকে মুছে দিয়ে জ্ঞানের আলোকে উন্মোচিত করা।,


‘আমার মূল উদ্দেশ্য হলে- ক্যারেক্টারের  বিষয়ে আপনাদের সচেতন করা। আপনারা সকলে মেধাবী বলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রি অর্জন করতে পেরেছেন। এই ডিগ্রি আর মেধাকে কিভাবে কাজে লাগাবেন তার উপর নির্ভর করবে আপনাদের সফলতা। আপনাদের মেধাকে ভালো কাজে লাগাতে হবে। আপনাদের মতো মেধাবান যুব সমাজের প্রয়োজন শুধু বাংলাদেশেরই নয় সারাবিশ্বের। যুগ যুগ ধরে মানবজাতি যেমন অনেক অগ্রগতির দিকে যাচ্ছে, তেমনি অনেক সমস্যার  উৎপত্তি হয়েছে। অতীতে যেমন মানবজাতি তাদের মেধা কাজে লাগিয়ে সমস্যার সমাধান করেছে, তেমনি বর্তমানে আপনাদের মেধাকে কাজে লাগিয়ে সমস্যা সমাধানের উপায় বের করতে হবে।এর জন্য জ্ঞানের পরিধি বাড়াতে হবে। মনে রাখবেন এই ডিগ্রি আপনাদের শিক্ষাযাত্রার সমাপ্তি নয়। এটা এক বিশেষ মাইলফলক মাত্র। লার্নিং ইজ এ লাইফ লং প্রোসেস।’

 

উল্লেখ্য,বাংলাদেশী বংশোদ্ভূদ প্রফেসর ড. অমিত চাকমার জন্ম ১৯৫৯ সালের ২৫ এপ্রিল এক চাকমা পরিবারে। জন্মস্থান বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙামাটি জেলা শহরের পশ্চিম ট্রাইবেল আদমে। তার পিতা প্রভাত কুমার চাকমা ও মাতার নাম আলোরাণী চাকমা।

 

ড. অমিত চাকমা বনরুপা মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশুনা করেছেন। এর পর  তিনি রাঙামাটি সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় মাধ্যমিক পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে উর্ত্তীর্ণ হন। পরে তিনি উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন ঢাকা কলেজ থেকে। 

 

প্রফেসর ড. অমিত চাকমা কানাডার বিখ্যাত উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান ইউনিভার্সিটি অব ওয়েষ্টার্ন অন্টারিওএর প্রেসিডেন্ট ও ভাইস চ্যান্সেলর হিসেবে গৌরবান্তিত দায়িত্ব পালন করায় বিশ্বে উজ্জ্বল করেছেন বাংলাদেশের মুখ ও ভাবমূর্তি। বিশ্বে অধিষ্ঠিত হয়েছেন বিরল সম্মানে। তিনি সত্যিই বাংলাদেশের গর্ব ও অহংকার।

 --হিলবিডি২৪/সম্পাদনা/সিআর.

ads
ads
এই বিভাগের সর্বশেষ
আর্কাইভ