• Hillbd newsletter page
  • Hillbd rss page
  • Hillbd twitter page
  • Hillbd facebook page
সর্বশেষ
উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ও সরকারি চাকুরিতে কোটা পুর্নবহালের দাবিতে রাঙামাটিতে বিক্ষোভ-সমাবেশ                    বিলাইছড়িতে মিডওয়াইফ ও নার্সিং প্রশিক্ষণ সমাপনী ও সনদপত্র বিতরণ                    রাঙামাটি চ্যাম্পিয়ন লিগ ফুটবলে বিলাইছড়ি উপজেলা দলের শিরোপা লাভ                    Hill Flower Tender Notice                    রাঙামাটিতে এআই,ফ্যাক্ট চেকিং ও সাংবাদিক সুরক্ষা বিষয়ক তিনদিনের প্রশিক্ষণ কর্মশালা                    দুর্যোগে অসহায়দের পাশে দাঁড়াতে সামর্থ্যবান ও প্রতিষ্ঠানকে আহ্বান-দীপন তালুকদার দীপু                    বিলাইছড়িতে বৃক্ষরোপন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত                    বিলাইছড়িতে নতুন ইউএনও হিসেবে অভি দাশ এর যোগদান                    বিলাইছড়িতে ইউএনওদের বিদায় ও বরণ অনুষ্ঠান                    বিলাইছড়িতে সেনা জোন কর্তৃক মিডওয়াইফ নার্সিং প্রশিক্ষণ                    বিলাইছড়িতে বিএনপি`র প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন                    রাঙামাটিতে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত                    তিন ফুট খুলে দিয়ে কাপ্তাই বাঁধের পানির চাপ কমানো হচ্ছে                    বিলাইছড়িতে নজরুল বর্ষ উপলক্ষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উদ্বোধন                    বিলািইছড়িতে আশিকা’র প্রকল্প অবহিতকরণ সভা                    রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের সংবর্ধনা                    পুনঃ দরপত্র আহ্বান বিজ্ঞপ্তি (CRLIWM-CHT,WSM)                    Request for Re-Quotation-ASHIKA                    তিন পার্বত্য জেলা পরিষদের নতুন অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদ গঠিত                    AULSM CHTBD Project দরপত্র বিজ্ঞপ্তি                    আদিবাসী হিসেবে স্বীকৃতির দাবি জানালে বিছিন্নবাদী বলে তকমা দেওয়া হচ্ছে                    
 
ads

রাঙামাটিতে পাহাড় ধসের ঘটনায়
ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এক হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা

বিশেষ প্রতিনিধি : হিলবিডি টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published: 01 Jul 2017   Saturday

অতি বর্ষনে ভয়াবহ পাহাড় ধসের ঘটনায় রাঙামাটিতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এক হাজার কোটি টাকার উপরে ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে ধারনা করা হচ্ছে। 

 

এদিকে, এ পাহাড় ধসের ঘটনায় জেলা দুর্যোগ ও ত্রাণ শাখার ক্ষয়ক্ষতি তালিকায় দশ উপজেলায় ১ লাখ ২৩ হাজার ১২৭ জন ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন। আর সম্পূর্ন বাড়ী বিধ্বস্ত হয়েছে ১ হাজার ২৩১ পরিবার। এছাড়া, বিভিন্ন সরকারী স্থাপনা,শিক্ষা প্রতিষ্ঠান,রাস্তাঘাট, মৎস্য খামার, গবাদিপশু,হাসমুরগি,বনায়ন, বিদ্যুৎ,টেলিযোগাযোগসহ ইত্যাদিতে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।


প্রসঙ্গতঃ উল্লেখ্য,গেল ১৩ জুন ভারী বর্ষনে পাহাড় ধসে রাঙামাটি সদর উপজেলার ভেদভেদীর যুব উন্নয়ন বোর্ড এলাকা,মুসলিম পাড়া.শিমুলতলী এলাকা,সাপছড়ি,মগবান,বালুখালী এলাকায় এবং জুরাছড়ি,কাপ্তাই,কাউখালী ও বিলাইছড়ি এলাকায় দুই সেনা কর্মকর্তা ও তিন সেনা সদস্যসহ ১২০ জনের মৃত্যূ হয়। পাহাড় ধসের ঘটনায় রাঙামাটি-চট্টগ্রাম সড়কের সাপছড়ি শালবাগান স্থানে দেড়শ ফুট এলাকা জুড়ে রাস্তার মাটি ভেঙ্গে গিয়ে সারাদেশের মধ্যে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়। এক সপ্তাহের পর হালকা যানবাহন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি সড়ক যানবাহন চলাচল বর্তমানে বন্ধ রয়েছে পাহাড় ধসের কারণে।


পাহাড় ধসের ঘটনায় রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের গঠিত ক্ষয়ক্ষতি নিরুপনের জন্য গঠিত তালিকা সূত্রে প্রাপ্ত তালিকায় উল্লেখ করা হয়, রাঙামাটি জেলার ২টি পৌরসভাসহ দশ উপজেলায় কমবেশী  ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ ঘটনায় ১২০ জনের প্রাণহানী ঘটেছে। এর মধ্যে রাঙামাটি সদর উপজেলায় ৭১ জন,কাউখালী উপজেলায় ২১জন,কাপ্তাই উপজেলায় ১৮ জন, জুরাছড়ি উপজেলায় ৬টি ও বিলাইছড়ি উপজেলায় ২ জন। এছাড়া আহত হয়েছেন ১৯২জন। এর মধ্যে গুরুত্বর আহতের সংখ্যা ১৮জন।

 

এ জেলায় ক্ষতিগ্রস্থ লোকের সংখ্যা হচ্ছে ১ লাখ ২৩ হাজার ১২৭ জন। এর মধ্যে শুধুমাত্র রাঙামাটি সদর উপজেলায় ক্ষতিগ্রস্থ সংখ্যা হচ্ছে ৪০ হাজার ৭২৮ জন। জোলায় ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের সংখ্যা হচ্ছে ১৮ হাজার ৫৫৮টি। সম্পূর্ণ  বিধ্বস্ত বাড়ীঘর ১হাজার ২৩১টি এবং আংশিক ক্ষতিগ্রস্থ বাড়ীর ৯হাজার ৫৩৭টি।


তালিকায় আরো উল্লেখ করা হয়, এ ঘটনায় জেলার ৪৯টি স্কুল-মাদ্রাসা, ১টি কলেজ এবং ৮টি মসজিদ ও মন্দিরে আংশিক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। যার ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ২শ কোটি ৮১ লাখ টাকা। জেলার ১টি কলেজ ও ৭টি স্কুল-মাদ্রাসা বিধ্বস্থ হয়ে ৩কোটি ৩৫ লাখ ৩০ হাজার টাকার পরিমাণের ক্ষতি হয়েছে। এ ঘটনায় ১৬টি পুলিশ ক্যাম্পের ৩ কোটি ৬৪লাখ ৭০ হাজার টাকা, খাদ্য বিভাগের ২টি ভবনের ২৫লাখ টাকা, হাসপাতাল ভবনের ৬২ লাখ, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের ৫কোটি ৪০লাখ টাকা এবং সেনানিবাসের ৪০ লাখ টাকার পরিমাণের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

 

বনায়নের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ২৫লাখ ৬৬ হাজার টাকা,বিদ্যুতের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ৫কোটি ৪৯লাখ ৩৮ হাজার টাকা ,টেলিযোগাযোগে ক্ষতি হয়েছে ৫কোটি ১৯ হাজার টাকা, মৎস্য খামারে ক্ষয়ক্ষতি হয় ৩১কোটি ৩ লাখ টাকা, অগভীর ও হস্তচালিত নলকুপের ক্ষয়ক্ষতি পরিমাণ ৪লাখ ৯৬ হাজার টাকা,পুকুর ও জলাশয়ের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ৫লাখ ৮৭ হাজার টাকা।


এ তালিকায় উল্লেখ করা হয়, পাহাড় ধসের ঘটনায় গবাদি পশু মারা যাওয়ায় ক্ষতির পরিমাণ দাড়িয়েছে ২৮ লাখ ৪৬ হাজার টাকা,হাসমুরগীর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ২৯ লাখ ৯৮ হাজার টাকা। তালিকায় আরো বলা হয়, এ তাছাড়া জেলার ১হাজার ৮৯৯ হেক্টর এলাকায় বিভিন্ন ফসলাদির ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পাহাড় ধসের কারণে জেলার শতকরা ৯ দশমিক ৪২ কিলোমিটার সড়ক বিধ্বস্ত হয়েছে।

 

এদিকে, ক্ষয়ক্ষতি নিরুপনের তালিকায় রাঙামাটি সদর উপজেলায় সরকারী গুরুত্বপূর্ন স্থাপনার মধ্যে বাংলাদেশ টেলিভিশন উপকেন্দ্র,বাংলাদেশ বেতার, পাসপোর্ট অফিস, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ইনষ্টিটিউট, সার্কিট হাউস,জেলা সমাজ সেবা কার্যালয়, জেলা শিক্ষা অফিস,ডিসি ও এসপি বাংলোসহ ১৫টি সরকারী গুরুত্বপুর্ণ স্থাপনা ও ব্যক্তি মালিকানাধীন স্থাপনার ক্ষতির সংখ্যা উল্লেখ করা হয়নি। তবে এই স্মরনাতীতকালের রাঙামাটিতে  এ ভয়াবহ পাহাড় ধসের ঘটনায় লোকজনের প্রাণহানী, ঘরবাড়ী ও রাস্তাঘাট বিধ্বস্ত হওয়াসহ সব বিষয়ের পুরোপুরি ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ পাওয়া না গেলেও এক হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে অনেকেই ধারনা করছেন।

 

রাঙামাটি সদর উপজেলার পৌরসভাকে বাদ দিয়ে শুধুমাত্র ৬টি ইউনিয়নে সব কিছু মিলিয়ে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ৩শ কোটি টাকা বেশী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে ধারনা করছেন রাঙামাটি সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অরুন কান্তি চাকমা। 

 

জেলা ত্রাণ ও দুর্যোগ শাখার কর্মকর্তা বিশ্বনাথ মজুমদার জানান, রাঙামাটি জেলার  প্রাথমিক একটি ক্ষতিগ্রস্থ  তালিকা ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রনালয়ে পাঠানো হয়েছে।

 

জেলা প্রশাসক মোঃ মানজারুল মান্নান বলেন, এ ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়ার সম্ভবানা রয়েছে। অপাতত প্রাথমিকভাবে যে সমস্ত তথ্য বিভিন্ন উপজেলা থেকে পাওয়া গেছে তার আলোকে তালিকা করে সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে।

 

তিনি আরো বলেন, রাঙামাটি শহরের বিভিন্ন সরকারী স্থাপনা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভবনে ক্ষতিগ্রস্থ লোকজন আশ্রয়ে রয়েছেন তাদের নতুন আশ্রয় কেন্দ্রে সরিয়ে নেয়ার যে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে তা কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। কারণ নতুন আশ্রয় কেন্দ্রগুলো এখনো প্রস্তুত হয়নি। আবার যে সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আশ্রিতরা রয়েছেন সেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা রয়েছে তা কোন বোর্ড পরীক্ষা না। তাই পরীক্ষাগুলো মানবিক কারণে সপ্তাহখানেক পিছানোর উদ্যোগ নেয়া হবে।
--হিলবিডি২৪/সম্পাদনা/সিআর.

ads
ads
এই বিভাগের সর্বশেষ
আর্কাইভ