• Hillbd newsletter page
  • Hillbd rss page
  • Hillbd twitter page
  • Hillbd facebook page
সর্বশেষ
জুম্ম শিশুকে ধর্ষনের প্রতিবাদে পিসিপি ও এইচডব্লিউর রাঙামাটিতে বিক্ষোভ-সমাবেশ                    রাঙামাটিতে অসহায় কৃষকের ধান কেটে ঘরে তুলে দিল জেলা ছাত্রদল                    রাঙামাটিতে এক হাজার পিচ ইয়াবাসহ আটক ৩                    সারাদেশে অব্যাহত ধর্ষণের ঘটনায় এইচডব্লিউএফের উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ                    রাঙামাটিতে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্র্য দিবস পালিত                    রাঙামাটি আইনজীবী সমিতির সভাপতি শাহ আলম ও সম্পাদক শিশুমনি চাকমা নির্বাচিত                    বাঘাইছড়িতে প্রত্যান্ত এলাকা থেকে হাম লক্ষণ নিয়ে এক শিশু হাসপাতালে ভর্তি                    রাঙামাটি ছাত্রদলের কমিটি বাতিলের দাবিতে দলীয় কার্যালয়ে তালা দিলো পদ বঞ্চিতরা                    পিসিপির নেতৃত্বে জিকো ও অন্তর চাকমা                    পার্বত্য সমস্যাকে হালকাভাবে না দেখে গুরুত্বের সহকারে দেখার জন্য আহ্বান উষাতন তালুকদারের                    Expression of Interest(EOI) ASHIKA                    আশিকা বিজ্ঞাপণ                    পাহাড়ে নারীদের অধিকার ও ক্ষমতায়নে লড়াই করছেন সূচরিতা চাকমা                    Request for Quotation (RFQ)                    Hill Flower Vacancy Announcement                    Request for Quotation (RFQ)                    হিলফ্লাওয়ার                    আশিকা টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি                    বিলাইছড়িতে অগ্নিকাণ্ডে ৩টি ঘর পুড়ে ছাই                    Request For Quotation Notice                    ফারুয়া উচ্চ বিদ্যালয় পরিদর্শনে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান                    
 
ads

খাগড়াছড়ির মহালছড়িতে ধূমনীঘাট তীর্থস্থানে অসামাজিক কার্যকলাপ, স্থানীয়দের ক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক : হিলবিডি টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published: 28 Aug 2021   Saturday

পার্বত্য জেলা  খাগড়াছড়ির মহালছড়ি-রাঙ্গামাটি মহাসড়কের পশ্চিম বরাবর প্রায় ৫কিঃমিঃ দূরে ধূমনীঘাট গ্রামের অবস্থান। ধূমনীঘাট ত্রিপুরা অধ্যুষিত একটি প্রাচীন গ্রাম। ৯৭টি পরিবার নিয়ে ধূমনীঘাট গ্রাম গঠিত। চারিদিকে ছোট বড় পাহাড় পর্বত বেষ্টিত। এরই ফাঁকে ফাঁকে ঘরবাড়ি।

ধূমনীঘাট এলাকায় মূল আকর্ষণীয় স্থান ধূমনীঘাট তীর্থক্ষেত্র। প্রতিবছর চৈত্র মাসের মহাবারুণী স্নান তিথি লগ্নে এখানে ৩দিন ব্যাপী তীর্থ মেলা বসে। পূণ্য স্থানের জন্য শতশত ধর্মপ্রাণ মানুষ এখানে জমায়েত হয়। কিন্তু সে পবিত্র তীর্থ স্থানে চলে মদের আসর, অশ্লীল নাচ-গান। যা ধর্মীয় রীতিতে কখনো কাম্য নয়।

শুক্রবার (২৭আগস্ট) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন জায়গা থেকে প্রায় হাজার খানিক লোক সমাগম হয়েছে। তীর্থস্থানে পবিত্র রক্ষা করার কথা থাকলেও অধিকাংশকে দেখা যায়, সেখানে গিয়ে বিভিন্ন অসামাজিক কার্যক্রম করতে। যা ধর্মীয় রীতিতে আঘাত দিয়েছে। সেখানে চলে মদের আসর, অশ্লীল গানের নাচ গান। এসব কার্যক্রম ব্যাপারে স্থানীয়রা কয়েকবার বাধা দিলেও উল্টা হামলা করতে চায় বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

 

স্থানীয়রা জানান, ধূমনীঘাট শিলাময় তীর্থক্ষেত্রে রয়েছে চাখৈ পখাই, পিন্ড হাকর বাতি বুখুরোক, রামনি য়াপাই। চাখৈ পখাই কুন্ডে মানুষ স্থান করে। পিন্ড হাকরে পুষ্পসহকারে পিন্ডদান করে থাকে। চাখৈ পখাই অগভীর একটি জল কুন্ডু। বুদ বুদ গ্যাস নির্গত হওয়ার কারণে ম্যাচ জ্বালিয়ে দিলে আগুন জ্বলে। কথিত আছে, অতীতে ধূমনীঘাট তীর্থক্ষেত্রে অমাবস্যা ও পূর্ণিমা রাতে বাদ্য যন্ত্রের বাজনা শোনা যেত। অভাবের কারণে টাকা পয়সা ধার চাইলে নাকি ধার পাওয়া যেত। আরও জানা যায়, কখনও কখনও তীর্থস্থানটি থেকে আলো বিচ্ছরিত হয়ে চারিদিক আলোকিত হতো। অনেকে মনে করেন, প্রাকৃতিক গ্যাস নির্গত হওয়ার কারণে এমনটি হয়ে থাকে। সে যাই হোক, প্রাকৃতিকগত কিছু রহস্যের কারণে তীর্থস্থানটি সাধারণ মানুষের বিশ্বাস মহাবারুণী তিথিতে তীর্থক্ষেত্রে স্থান আহ্নিকাদি করলে পূণ্য হয়, পাপনাশ হয় এবং অভিষ্ট সিদ্ধি হয়। এই কারণে ধূমনীঘাট তীথ ক্ষেত্রে মানুষ পূণ্যার্জনের জন্য জমায়েত হয়।

 

স্থানীয় মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক তপন জয় ত্রিপুরা বলেন, কয়েকবছর যোগাযোগ ব্যবস্থা ছিল না। বর্তমানে রাস্তাঘাট উন্নয়ন হয়েছে।  কিন্তু রাস্তাঘাট উন্নয়ন হয়েছে দেখে ধূমনীঘাট তীর্থ স্থানে অনেক পর্যটকরা ছুটে এসে। তাতে আমাদের কোন সমস্যা নেই। ইদানিং লক্ষ্য করলাম, তীর্থ স্থানে এসে খোলামেলা ভাবে অনেকেই সাউন্ড বক্সে অশ্লীল গান লাগিয়ে নাচানাচি, হুই-হুলুট এমনকি মদের আসরও হয়।

 

এ ব্যাপারে ত্রিপুরা সনাতনী গীতা সংঘের মহালছড়ি উপজেলা শাখার সভাপতি নকুল চন্দ্র ত্রিপুরা জানান, রাস্তাঘাট উন্নয়ন হয়েছে দেখে পর্যটকরা ছুটে আসে আমাদের এখানে। কিন্তু পর্যটকরা যে হারে এখানে এসে সাউন্ড বক্সে অশ্লীল গান লাগিয়ে মদ-গাঁজা খেয়ে নাচানাচি করে তা পবিত্রতা নষ্ট করছে। এসব কার্যক্রমে তারা ধর্মীয় ভাবে আঘাত দিয়েছে। এ বিষয় নিয়ে আমরা স্থানীয়রা বসে সিদ্ধান্ত নিতে হবে কি করা যায়। প্রয়োজনে পর্যটকদের ঢুকতে দেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি।

 

বাংলাদেশ ত্রিপুরা কল্যাণ সংসদের মহালছড়ি উপজেলা শাখার সভাপতি ও ধূমনীঘাট কার্বারী কর্মচান ত্রিপুরা বলেন, ধূমনীঘাট বারুণী স্থান একটি সনাতনীদের জন্য পবিত্র তীর্থক্ষেত্র, পর্যটন নয়। গ্রামবাসীদের সহযোগিতায় সর্বপ্রথম তীর্থ পরিচালনা ও তত্বাবধান করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলাম আমি। কিন্তু ইদানিং লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, তীর্থের ক্ষেত্রে পবিত্রতা বজায় না রেখে চলে মদের আসর, সাউন্ড বক্স চালিয়ে অশ্লিল নাচ-গান। যা ধর্মীয়ভাবে আঘাত দিয়েছে। এ ব্যাপারে স্থানীয় প্রশাসনকে অবগত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানান তিনি। এছাড়াও তিনি  প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন।



ads
ads
আর্কাইভ