• Hillbd newsletter page
  • Hillbd rss page
  • Hillbd twitter page
  • Hillbd facebook page
সর্বশেষ
সারাদেশে অব্যাহত ধর্ষণের ঘটনায় এইচডব্লিউএফের উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ                    রাঙামাটিতে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্র্য দিবস পালিত                    রাঙামাটি আইনজীবী সমিতির সভাপতি শাহ আলম ও সম্পাদক শিশুমনি চাকমা নির্বাচিত                    বাঘাইছড়িতে প্রত্যান্ত এলাকা থেকে হাম লক্ষণ নিয়ে এক শিশু হাসপাতালে ভর্তি                    রাঙামাটি ছাত্রদলের কমিটি বাতিলের দাবিতে দলীয় কার্যালয়ে তালা দিলো পদ বঞ্চিতরা                    পিসিপির নেতৃত্বে জিকো ও অন্তর চাকমা                    পার্বত্য সমস্যাকে হালকাভাবে না দেখে গুরুত্বের সহকারে দেখার জন্য আহ্বান উষাতন তালুকদারের                    Expression of Interest(EOI) ASHIKA                    আশিকা বিজ্ঞাপণ                    পাহাড়ে নারীদের অধিকার ও ক্ষমতায়নে লড়াই করছেন সূচরিতা চাকমা                    Request for Quotation (RFQ)                    Hill Flower Vacancy Announcement                    Request for Quotation (RFQ)                    হিলফ্লাওয়ার                    আশিকা টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি                    বিলাইছড়িতে অগ্নিকাণ্ডে ৩টি ঘর পুড়ে ছাই                    Request For Quotation Notice                    ফারুয়া উচ্চ বিদ্যালয় পরিদর্শনে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান                    ফারুয়া থানা পরিদর্শন করলেন পুলিশ সুপার                    Vendor Enlistment Notice                    জেলা পর্যায়ে আঞ্চলিক পরিষদ ও সরকারি কর্মকর্তাদের সাথে সমন্বয় সভা                    
 
ads

রাঙামাটিতে ঘিলাছড়ি নারী নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির প্রথম সম্মেলন অনুষ্ঠিত

স্টাফ রিপোর্টার : হিলবিডি টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published: 22 Nov 2014   Saturday

শনিবার রাঙামাটির নানিয়ারচরে ঘিলাছড়ি নারী নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির প্রথম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সন্মেলনে কাজলী ত্রিপুরাকে সভাপতি ও মিনতি চাকমাকে সাধারণ সম্পাদক করে ১৫ সদস্য বিশিষ্ট নতুন কমিটি গঠন করা হয়।নারী নির্যাতন, জাতিসত্তা ধ্বংসের পাঁয়তারা ও সামাজিক অবক্ষয় রোধে সংগঠিত হোন, প্রতিরোধ গড়ে তুলুন” এই শ্লোগানে সামনে রেখে নানিয়ারচর উপজেলার ঘিলাছড়ি বাজার মাঠে আয়োজিত সম্মেলনের সভাপতিত্ব করেন ঘিলাছড়ি নারী নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি শান্তি প্রভা চাকমা। বক্তব্যে দেন ৪নং ঘিলাছড়ি ইউপি চেয়ারম্যান অমর জীবন চাকমা, ঘিলাছড়ি বাজার চৌধুরী নীহার বিন্দু চাকমা, গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক সর্বানন্দ চাকমা, হিল উইমেন্স ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি নিরূপা চাকমা, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি বাবলু চাকমা, সাজেক ভূমি রক্ষা কমিটির সভাপতি জ্ঞানেন্দু চাকমা, সাজেক নারী সমাজের সভাপতি নিরূপা চাকমা এবং ল্যাম্পপোষ্ট-এর সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য ও গণমুক্তির গানের দল’র ফারহানা হক শামা প্রমুখ। স্বাগত বক্তব্যে রাখেন নারী নেত্রী কাজলী ত্রিপুরা। দিন ব্যাপী সন্মেলনে টেকনাফ-উখিয়াসহ তিন পার্বত্য জেলা থেকে ৫ শতাধিক বিভিন্ন জাতিসত্তার ছাত্র-যুব-নারী প্রতিনিধির নারী অংশ নেন।  ‘আমরা করবো জয়…’ গান এর মাধ্যমে সম্মেলন শুরু হয় এবং ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনসহ গণতান্ত্রিক আন্দোলন সংগ্রামে সকল বীর শহীদদের প্রতি সম্মান জানিয়ে দুই মিনিট দাঁড়িয়ে নিরবতা পালন করা হয়।এদিকে সন্মেলনের মাধমে ১০ দফা দাবি সন্মেলনে তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হল রাঙামাটি মেডিকেল কলেজ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধ করে, প্রাথমিক শিক্ষাস্তরের অবকাঠামো উন্নয়নসহ শিক্ষার মান বৃদ্ধির জন্য সকল জাতিসত্তার মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষা চালু করা,কল্পনা চাকমা অপহরণের তদন্ত রিপোর্ট নিয়ে তালবাহানা বন্ধ করে চিহ্নিত অপহরণকারী লে. ফেরদৌসকে অবিলম্বে গ্রেফতার ও বিচার করা, রাঙামাটি জেলার বগাছড়ির দিজেনপাড়া, নান্যাচর, কাউখালীতে ভূমি বেদখলের ষড়যন্ত্র ও খাগড়াছড়ি জেলার গুইমারায় নাক্রাই বাঁধ প্রকল্প বন্ধ করা, চাক ও মারমা জাতিসত্তাসহ নাইক্ষ্যংছড়ি, লামা সাপেরঘাটা, আজিজ নগর, ত্রিরিশ পুকুর (আংখ্যংসা)পাড়া স্থায়ী বাসিন্দাদের বসতভিটা ও জায়গা-জমি রক্ষার্থে অবিলম্বে ব্যবস্থা গ্রহণ করা, বিভিন্ন কোম্পানীর নামে রাবার ও অন্যান্য বাণিজ্যিক বাগান বাগিচা প্রকল্প বন্ধ করে অনাবাসী ভূমি মালিকদের জমি অধিগ্রহণপূর্বক তা প্রকৃত মালিকদের নিকট ফিরিয়ে দেয়া, বান্দরবানে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে বরাদ্ধ দেয়া প্লট বাতিলপূর্বক ভূমি বেদখলকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া, টেকনাফ-উখিয়ায় চাকমাদের জায়গা-জমি রক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তা বিধানের লক্ষ্যে অনতিবিলম্বে সরকারিভাবে পদক্ষেপ গ্রহণ,পার্বত্য চট্টগ্রামসহ সারা দেশে নারী নির্যাতন বন্ধ ও গার্মেন্ট নারী শ্রমীকদের শ্রম শোষণ বন্ধের লক্ষ্যে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ,  সারা দেশে বিনা বিচারে হত্যা, গুম ও সভা-সমাবেশে পুলিশি নির্যাতন বন্ধকরণপূর্বক গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করা এবং  নারী নির্যাতন বন্ধের লক্ষ্যে পার্বত্য চট্টগ্রামে সবিতা চাকমা, রচনা দেবী ত্রিপুরা, উপ্রু মারমা’র ধর্ষণকারীসহ নারী ধর্ষণকারীদের দৃষ্টান্তমূলক কঠোর শাস্তি প্রদান করা।অনুষ্ঠানে ৮ গণসংগঠনের কনভেনিং কমিটির আহ্বায়ক ও পার্বত্য চট্টগ্রাম নারী সংঘের সভাপতি সোনালী চাকমা ঘিলাছড়ি নারী নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির ১৫ সদস্য বিশিষ্ট নতুন কমিটি প্রস্তাব করেন। এরপর তুমুল করতালীর মাধ্যমে প্রস্তাবিত কমিটি গৃহীত হয়। কমিটির অন্যান্য পদে নির্বাচিতরা হলেন সাংগঠনিক সম্পাদক মঞ্জুরাণী চাকমা, অর্থ সম্পাদক সোনামুখী চাকমা ও দপ্তর সম্পাদক সোনা চাকমা।অনুষ্ঠানে পার্বত্য চট্টগ্রাম নারী সংঘের সভাপতি সোনালী চাকমা  বলেন, শেখ মুজিব পাহাড়ি জনগণকে প্রমোশন দিয়ে বাঙ্গালী জাতি বানাতে চেয়ে ছিলেন। শেখ হাসিনাও সংবিধানে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তার পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করে চলেছেন। তিনি  পার্বত্য চট্টগ্রামে নারী নির্যাতন, ভূমি দখলের ও জাতিসত্তা ধ্বংসের পাঁয়তারা এবং অধিকার আদায়ের জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলনে সামিল হওয়ার আহবান জানান সর্বানন্দ চাকমা বলেন, সরকার পার্বত্য চট্টগ্রামে কাপ্তাই বাঁধ দেওয়ার মাধ্যমে পাহাড়ি জনগণকে উচ্ছেদ করেছিল। আজ তার সাথে যুক্ত হয়েছে গুইমারা নাক্রাই বাঁধ। এই বাঁধ এর কারণে পাহাড়ি জনগণ লাভবানতো হবে না বরং তারা সেখান থেকে উচ্ছেদ হবে। তাই নাক্রাই এলাকায় বাঁধ দেয়া থেকে বিরত থাকার জন্য তিনি সরকার ও সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিল করে পাহাড়ি জাতিসত্তাসমূহকে সাংবিধানিক স্বীকৃতির দাবিও করেন।ফারহানা হক বলেন, ঘিলাছড়ি নারী নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির এই সম্মেলন এর মাধমে তারা পার্বত্য চট্টগ্রামসহ সারা দেশে নারী নির্যাতন এবং গণতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা কায়েম করার জন্য সংগ্রাম পরিচালনা করবে। আমরা আন্দোলন সংগ্রাম করছি কিন্তু আসলে তেমন কোন পরির্বতন হচ্ছে না। তাই আমাদের আন্দোলনে একটা গুণগত পরিবর্তন হওয়া প্রয়োজন। ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন হয়েছে ঠিকই কিন্তু তার মাধ্যমে জনগণ তাদের শোষক পরির্বতন ছাড়া আর কোন কিছু লাভ করেনি। নারী নির্যাতনের মাধ্যমে জাতিসত্তা ধ্বংসের পাঁয়তারা চালাচ্ছে উগ্র শাসক শ্রেণী। তাই নিপীড়িত জাতির জনগণকে অধিকারের জন্য লড়াই চালিয়ে যেতে হবে।বাবলু চাকমা বলেন, সরকার পার্বত্য চট্টগ্রামের শিক্ষার মান বৃদ্ধি না করে এখানে ছাত্র সমাজের দাবীর বিপরীতে মেডিকেল কলেজ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় দিতে চাচ্ছে। উন্নয়নের নামে পাহাড়ি জনগণের সাথে প্রতারণা করছে।ঘিলাছড়ি ইউপি চেয়ারম্যান অমর জীবন চাকমা বলেন, এই সম্মেলন আজ নারীদের অকিারের সম্মেলন। যমুনা চাকমাকে শ্লীলতাহানীর প্রচেষ্টার ঘটনায় ঘিলাছড়ি নারীরা সংগঠিত হয়েছেন। শুধু প্রতিবাদ নয়, প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।ঘিলাছড়ির নারী নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির মতো পার্বত্য চট্টগ্রামে সকল এলাকায় নারীদেরকে তাদের অধিকারের জন্য সংগঠিত হতে হবে।অংগ্য মারমা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে নারী নির্যাতন, ভূমি দখলের ও জাতিসত্তা ধ্বংসের পাঁয়তারা এবং অধিকার আদায়ের জন্য আমাদের সংগঠিত হওয়া ছাড়া আমাদের আর কোন উপায় নেই। আমাদেরকে জায়গায় জায়গায় সংগঠনে গড়ে তুলতে হবে অধিকার আদায়ের জন্য। পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির ১৭ বছর পূর্ণ হতে চলেছে। কিন্তু এই চুক্তি থেকে তেমন কোন কিছু আশা করা ঠিক নয়। তিনি চুক্তির বর্ষপূর্তির দিনে চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য সংগ্রামের কথা বলে জনগণকে ধোঁকা না দিয়ে, শেখ হাসিনার আঁচল থেকে বেরিয়ে এসে পাহাড়ি জনগণের অধিকার আদায়ের জন্য আঞ্চলিক পরিষদের গদি ছেড়ে জনগণের কাতারে আসার জন্য সন্তু লারমার প্রতি আহ্বান জানান।

–হিলবিডি২৪/সম্পাদনা/সিআর

ads
ads
এই বিভাগের সর্বশেষ
আর্কাইভ