• Hillbd newsletter page
  • Hillbd rss page
  • Hillbd twitter page
  • Hillbd facebook page
সর্বশেষ
আশিকা টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি                    বিলাইছড়িতে অগ্নিকাণ্ডে ৩টি ঘর পুড়ে ছাই                    Request For Quotation Notice                    ফারুয়া উচ্চ বিদ্যালয় পরিদর্শনে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান                    ফারুয়া থানা পরিদর্শন করলেন পুলিশ সুপার                    Vendor Enlistment Notice                    জেলা পর্যায়ে আঞ্চলিক পরিষদ ও সরকারি কর্মকর্তাদের সাথে সমন্বয় সভা                    দরপত্র বিজ্ঞপ্তি                    রাঙামাটিতে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান বিজয় দিবস উদযাপিত                    বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রইফের সমাধিতে বিজিবির মহাপরিচালকের পক্ষ থেকে পুষ্পমাল্য অর্পন                    রাঙামাটিতে টেলিভিশন জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের আত্মপ্রকাশ                    পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নে বৃহত্তর আন্দোলনে সামিল হওয়ার আহবান                    আগামী ক্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে জেএসএস অংশ নিচ্ছে                    রাঙামাটিতে মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট ও ডিপ্লোমা ফার্মামিষ্টদের কর্মবিরতি পালন                    ৯৯নং রাঙামাটি আসনের বিএনপির প্রার্থী দীপেন দেওয়ানের মতবিনিময় সভা                    নবাগত জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফীর সাথে সাংবাদিকদের মতবিনিময়                    শিক্ষক নিয়োগে কোটা বৈষম্যের প্রতিবাদে রাঙামাটিতে বৃহস্পতিবার থেকে ৩৬ ঘন্টার হরতাল                    তরুণ কবি ম্যাকলিন চাকমার একগুচ্ছ কবিতা                    সাজেকে মোবাইল নেটওয়ার্ক ফের চালুতে স্বস্তি                    চ্যাম্পিয়ন বিলাইছড়ি রাইংখ্যং একাদশ                    ফেন্সি স্কিন কেয়ার প্রোডাক্টস’র রাঙামাটিতে গ্র্যান্ড ওপেনিং                    
 
ads

বৌদ্ধ ধর্মে রক্তপাত-হিংসা-হানাহানি নেই- শ্রীমৎ নন্দপাল মহাস্থবির

স্টাফ রিপোর্টার : হিলবিডি টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published: 08 Feb 2016   Monday

রাঙামাটির বরকল উপজেলার সুবলং ইউনিয়নের শুকরছড়ি ধর্মরত্ন বৌদ্ধ বিহারে সোমবার ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

 

প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বধর্ম  দেশনায় মহাপরিনির্বানপ্রাপ্ত  বনভান্তের অন্যতম শিষ্য নন্দপাল মহাস্থবির বলেছেন- বুদ্ধ ধর্ম শ্রেষ্ঠ ধর্ম হিসেবে সারাবিশ্বে স্বীকৃত। ইসলাম, খ্রীস্টান সকলেই বুদ্ধ ধর্মকে এই স্বীকৃতি দিয়েছেন। কেন দিয়েছেন? কারণ বুদ্ধ ধর্মে হত্যা নেই। রক্তপাত নেই। হিংসা নেই। হানাহানি নেই। সকল প্রাণীর প্রতি সদয় হওয়ার জন্য তথাগত বুদ্ধ শিক্ষা দিয়েছেন। বুদ্ধের অহিংসা মৈত্রীর ধর্ম তাই আজ সারা বিশ্বে শ্রেষ্ঠ ধর্ম হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছে।

 

তবে পার্বত্য চট্টগ্রামে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের কার্যকলাপ আমাদের  লজ্জিত করে। এ অঞ্চলের বৌদ্ধদের অবৌদ্ধসুলভ আচরণ আমাদের লজ্জায় ফেলে দেয়। এখানে প্রতিনিয়ত হত্যা, রক্তপাত, হিংসা হানাহানি চলে। হত্যা, সংঘাত সংঘর্ষে জর্জরিত এখানকার মানুষ।

 

তিনি সবাইকে এই হত্যা, হানাহানি সংঘাত,সংঘর্ষ থেকে বিরত থাকা উচিত বলে উপদেশ দিয়ে বলেন, সকলকে বুদ্ধের অহিংসা নীতিতে বিশ্বাসী হয়ে প্রাণী হত্যা, চুরি ব্যাভিচার, মিথ্যা-বৃথা কটু ভেদ-বাক্য থেকে বিরত এবং নেশাপান থেকে বিরত থেকে পঞ্চশীল পালন করতে হবে।

 

 ধর্মরত্ন বৌদ্ধ বিহার প্রাঙ্গনে আয়োজিত ধর্মীয় অনুষ্ঠানে দেশনা দেন সুবলংয়ের শ্রাবস্তী বন বিহার অধ্যক্ষ সংঘসার স্থবির। বিহার পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সনত্ত কুমার চাকমা সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য্যে রাখেন যমচুগ বনাশ্রম ভাবনা কেন্দ্র পরিচালনা কমিটির সভাপতি বিহারী চাকমা। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বড় হাজাছড়া গ্রামের কার্বারী লালন চন্দ্র চাকমা, স্থানীয় মুরুব্বী জনার্ধন চাকমা, পরিমল চাকমা, বুদ্ধচন্দ্র চাকমা, বীর কুমার চাকমা, প্রদুন্ন চাকমাসহ গ্রামের মুরুব্বী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

 

অনুষ্ঠানে পঞ্চশীল প্রার্থনা করেন শুকরছড়ি গ্রামের মুরুব্বী রাজচন্দ্র চাকমা । এর আগে সকালের দিকে  ভিক্ষুসংঘকে ফুলের তোড়া দিয়ে শ্রদ্ধা জানান ধর্মরত্ন বৌদ্ধ বিহার পরিচালনা কমিটির সভাপতি শান্তি রাম চাকমা, প্রবীর চাকমা, বোধিসত্ত্ব চাকমা। অনুষ্ঠানে সুবলং ইউনিয়ন ও বন্দুকভাঙ্গার বিভিন্ন এলাকা থেকে শত শত পুণ্যার্থী অংশ নেন।

 

বিকালে শুকরছড়ি গ্রামের নারী সমাজের উদ্যোগে অষ্ট পরিষ্কার দান ও পরিত্রাণ শ্রবণ করা হয়। গ্রামে সকল প্রকার অমঙ্গল, অন্তরায় ও উপদ্রব দুরীভুত হয়ে উন্নতি শ্রীবৃদ্ধি ও শান্তি বিরাজের কামনা জানিয়ে ভিক্ষুসংঘ মঙ্গলসুত্র পাঠ করেন।

 

স্বধর্ম নন্দপাল মহাস্থবির,  আরও  বলেন বুদ্ধ ধর্মের দৃষ্টিতে কোন মানুষই তুচ্ছ নয়। নারী বলে কাউকে তুচ্ছ ভাবাটাও ঠিক নয়। নারীরাও বুদ্ধ ধর্মে বিশাল ভুমিকা পালন করতে পারেন। নারী-পুরুষ সকলেই বুদ্ধ শাসনে সমান অবদান রাখেন।

 

বুদ্ধ ধর্মের ইতিহাসে তার প্রমাণ রয়েছে। বুদ্ধের সময়কালে বিশাখা বুদ্ধ ধর্ম প্রসারে যে অবদান রেখেছিলেন তা হাজার বছর পর আজও বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা প্রত্যেক বছর মহা উপাসিকা বিশাখাকে স্মরণ করেন।  মগধ রাজ বিম্বিসার, রাজা প্রসেনজিৎ, শ্রেষ্ঠী অনাথ পিন্ডিক প্রত্যেকে বুদ্ধ শাসনে অসামান্য অবদান রেখে নিজেদের বিকশিত ও প্রস্ফুটিত করে গিয়েছিলেন।

 

সভ্যতা বিকাশে বুদ্ধ ধর্মের অসামান্য অবদান রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বুদ্ধ ধর্মই সমগ্র বিশ্বে বিদ্যার প্রসার ঘটিয়েছে। বিশ্ববিখ্যাত নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বৌদ্ধ ভিক্ষুরা সমগ্র বিশ্বে বিদ্যার প্রসার ঘটিয়ে এক অবিস্মরণীয় ও মহান কাজ করে গিয়েছিলেন।

 

এছাড়া সম্রাট অশোক বুদ্ধ ধর্মের প্রচার প্রসারের মধ্যে দিয়ে যে-এক বিরাট ইতিহাস রচনা করে গেছেন সে কারণে বিশ্ব বৌদ্ধরা প্রজন্মের পর প্রজন্ম সম্রাট অশোককে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করবে।

 

তিনি বলেন, জীবনে বিকশিত হওয়াটাই একটা মানুষের প্রধান কাজ। বিকশিত হওয়ার জন্য প্রচেষ্টা চালাতে হয়। জীবনে পরিশ্রম ও সংগ্রাম করতে হয়।

 

শ্রাবস্তী বন বিহারের অধ্যক্ষ সংঘসার স্থবির বলেন- যমচুগ বনাশ্রম ভাবনা কেন্দ্রে শ্রদ্ধেয় বনভান্তে এবং শ্রদ্ধেয় নন্দপাল ভান্তের স্মৃতি সংরক্ষণের যে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে সকলকে সেই মহতী কর্মকান্ডে সহযোগিতা দেয়া উচিত এবং শুকরছড়ি গ্রামবাসীকে যমচুগের উন্নয়ন ও শ্রদ্ধেয় ভান্তের স্মৃতি সংরক্ষণ কাজে অবশ্যই ভুমিকা রাখতে হবে।

--হিলবিডি২৪/সম্পাদনা/সিআর.

ads
ads
এই বিভাগের সর্বশেষ
আর্কাইভ